শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০২০ ২৩:৩৫

গার্মেন্টে অশনিসংকেত

বিপুল কারখানা বন্ধ উদ্বেগজনক

দেশের ৩৭৪টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে আছে করোনাভাইরাসের প্রভাবে। করোনাকালে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ৩০ শতাংশ কার্যাদেশ বাতিল হওয়ায় তারা ৪ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে আসছে নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। পোশাকশিল্পের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়া সত্ত্বেও প্রায় পৌনে চার শ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি যে কোনো বিবেচনায় দুর্ভাগ্যজনক। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী কভিড মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে পোশাকের চাহিদা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ হ্রাস পাবে। ফলে কারোনাভাইরাস কেটে গেলেও পোশাকশিল্প রাতারাতি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে কিনা সংশয় দেখা দিয়েছে। দেশের সবচেয়ে বেশি মানুষ এককভাবে এ শিল্পে কর্মরত থাকায় এবং রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত হওয়ায় চাহিদা হ্রাস পাওয়ার খবরটি যথেষ্ট উদ্বেগের। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ৫ জুলাই প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী গেল ২০১৯-২০ অর্থবছর রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৭ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। লক্ষ্য ছিল ৩৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ৩৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে গত অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৮ দশমিক ১২ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে এ খাতে আয় কমেছে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের চেয়ে আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ওভেন পোশাক থেকে আয় হয়েছে ১৪ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। রপ্তানি হ্রাসের পেছনে করোনার প্রভাবই মূলত দায়ী। এ দুঃসময় কেটে গেলে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে, আমরা এমনটিই আশা করতে চাই। এ সময়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের টিকিয়ে রাখতে উদ্যোক্তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন- এমনটিই প্রত্যাশিত।


আপনার মন্তব্য