শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:১১

ভোজ্য তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্যাট কমানো জরুরি

ভোজ্য তেলের আন্তর্জাতিক বাজার বেসামাল হয়ে উঠছে। মূল্যবৃদ্ধির স্পুটনিক গতিতে গত ছয় মাসে এ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৬৩ শতাংশ। এ মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশসহ ভোজ্য তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ভোক্তাদের জন্য দুর্ভোগ হয়ে দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশে গত ছয় মাসে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। আমদানিনির্ভর কোনো ভোগ্যপণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশেও তার প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এবার সে ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে যে দামে ভোজ্য তেলের বেচাকেনা চলছে তা আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বর্তমানে প্রতি মেট্রিক টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল প্রায় ১ হাজার ২০০ এবং পাম তেল ১ হাজার ১৮০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থেকে দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কমিশন ভোজ্য তেলের তিন স্তরের ভ্যাটের পরিবর্তে শুধু এক স্তরে ভ্যাট নির্ধারণ করতে বলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের মূল্যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ও স্থানীয় পরিশোধনকারী মিলগুলোর ব্যয় বিবরণী পর্যালোচনা-সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। স্মর্তব্য, করোনা মহামারীর কারণে সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটেই কর কমানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভোজ্য তেল একটি নিত্যপণ্য এবং দেশের ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষ বাজার থেকে এটি সংগ্রহ করে। এ নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্যাট ও করের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সরকারের রাজস্ব হয়তো কিছুটা কমবে কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় থেকে রক্ষা পাবে লাখ লাখ সাধারণ ভোক্তা।


আপনার মন্তব্য