শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩৯

বাড়ছে মামলাজট

বিলম্বিত বিচার বিচারহীনতার নামান্তর

Google News

বিলম্বিত বিচার বিচারহীনতার নামান্তর। এমন আক্ষেপ এ দেশে বারবার উচ্চারিত হয়েছে বিচারপ্রার্থীদের মুখে। সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় কলামে কতবার যে উল্লেখ হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এমনকি দেশের একাধিক বিচারপতিও বিচারে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্র্রতিক বছরগুলোতে মামলাজট কমাতে বিচার বিভাগের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। দেশে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা আনুমানিক হিসাবে অন্তত ৩৮ লাখ। সুপ্রিম কোর্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট বিচারাধীন মামলা ছিল ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭২৮টি। এর সঙ্গে গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও ১ লাখের বেশি মামলা যুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে সুপ্রিম কোর্টের বিবরণী শাখার কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হওয়ায় চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া না গেলেও এ বছরের শুরুতে বিচারাধীন মামলা ৩৮ লাখ বলে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও। তিনি মামলার সংখ্যা ৬ লাখ কমিয়ে আনতে পরিকল্পনা তৈরির কথাও বলেছিলেন। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে খুব একটা সুফল অর্জিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারকদের ওপর চাপ কমানোর তাগিদ দিয়েছেন। এ দেশে একজন বিচারকের ওপর যে চাপ থাকে তা বিশ্বের কোথাও নেই। হাই কোর্টের বিচারপতিরা প্রতিদিন দেড় শ থেকে দুই শ মামলার শুনানি গ্রহণ করেন। আবার যেসব মামলার রায় দেন সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিও লিখতে হয়। এটা খুবই অস্বাভাবিক। নিম্ন আদালতের বিচারকরাও ওভার লোড নিয়ে কাজ করেন। প্রতিদিন তাদেরও শত শত মামলার শুনানি গ্রহণ করতে হয়। দেশের আদালতগুলোতে মামলাজটের যে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার অবসানে বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আদালতের বাইরে যেসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব সেগুলো নিষ্পত্তির উপায় বের করাও জরুরি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে  বেরিয়ে আসার সেটিই প্রকৃষ্ট উপায়।