শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মার্চ, ২০২১ ২৩:১১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধ্বংসযজ্ঞ

হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বলা হতো উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক জগতের রাজধানী। সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁসহ অনেক গুণীজনকে জন্ম দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এখানে জন্ম নিয়েছেন তিতাস একটি নদের নাম উপন্যাসের অমর স্রষ্টা অদ্বৈত মল্লবর্মণ, জন্ম নিয়েছেন সোনালী কাবিনের কবি আল-মাহমুদ। মুক্তিযুদ্ধেও সামনে থেকে লড়েছে এ জনপদের মানুষ। স্বাধীনতার পর দেশ গঠনে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের বিকাশে এ মাটির সন্তানদের অবদান অনন্য। সেই ঔপনিবেশিক আমল থেকে মুক্ত চিন্তা ও মুক্ত বিবেকের প্রতিনিধিত্ব করেছে তিতাস পাড়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া। কিন্তু কালের বিবর্তনে সে আলোকিত জনপদ অন্ধকারের নোংরা জীবদের যথেচ্ছতার লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের মাসে গত রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ ভাষা চত্বর, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন ও জাদুঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা, আবদুল কুদ্দুস মাখন মুক্তমঞ্চ, কালীবাড়ি মন্দির, জেলা পুলিশ লাইন, ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, পুলিশ সুপারের বাসভবন, সরাইলের হাইওয়ে থানা, সদরের খাঁটিহাতা থানা, রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, সদর থানাধীন দুই নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি, জেলা আনসার-ভিডিপি কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা জেলা প্রশাসন আয়োজিত উন্নয়ন মেলা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ব্যাংক এশিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর কার্যালয়, মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনায় যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা এক কথায় নজিরবিহীন। বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী জঙ্গিবাদী দেশে পরিণত করার সুপরিকল্পিত মহড়া চালানো হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ইতিমধ্যে আক্রান্তদের পক্ষ থেকে এ জঙ্গিতন্ত্রী ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধ্বংসযজ্ঞের জন্য যারা দায়ী তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এমনটিই প্রত্যাশিত।


আপনার মন্তব্য