শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৪১

অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানি

ক্রেতাদের চাহিদার দিকে নজর রাখতে হবে

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা খুবই সীমিত। তৈরি পোশাক, চিংড়ি, পাট ও চামড়াই এ ক্ষেত্রে ছিল দীর্ঘদিন যাবৎ ভরসা। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিভিন্ন অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিতে নজর দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি করে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা অর্জিত হতো করোনাকালের আগে। করোনার সময় এ দুটি পণ্যের রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলেও প্রধান আমদানিকারী দেশ চীন নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে। করোনা ঝুঁকি এড়িয়ে বাংলাদেশ থেকে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া নিতে চীন প্রটোকল স্বাক্ষরের তাগিদ দিয়েছে। প্রটোকলে স্বাক্ষর করলে ওই পণ্য দুটি চীনে রপ্তানির ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কভিড-১৯-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নীতি অনুসরণ করতে হবে। রপ্তানিকারকরা তা অনুসরণ করছেন কি না নিশ্চিত করবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর। কাঁকড়া ও কুঁচিয়া চাষ ও সংগ্রহের সঙ্গে দেশের খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও নোয়াখালীর প্রায় ৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ দুটি পণ্য রপ্তানি করে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় হয়। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে গত বছরের জানুয়ারি থেকে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। মূলত খুলনার সুন্দরবন অঞ্চলে চাষ হয় কাঁকড়া ও কুঁচিয়া। রপ্তানি হয় চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়ায়। উৎপাদিত কাঁকড়ার ৮৫ শতাংশই যায় চীনে। খুলনার ২৮ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে কাঁকড়া চাষ হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওই এলাকায় ৬ হাজার ৯৮৯ মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭ হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলেও রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাঁকড়া চাষ সংকটে পড়ে। সম্প্রতি চীন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন কাঁকড়া ও কুঁচিয়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা। আমরা আশা করব কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনার কথা মনে রেখে চীনা প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এটি সম্ভব হলে সারা দুনিয়ায় এ পণ্য দুটির রপ্তানি অন্তত দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ।