শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৮

করোনা সংক্রমণ

টিকা ও অক্সিজেন সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিন

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ও মৃত্যুহার। হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার জন্য হাহাকার। আক্রান্ত বাড়ায় হাসপাতালগুলোয় বেড়েছে অক্সিজেনের চাহিদা। ফলে ঘনিয়ে আসছে অক্সিজেনের সংকট। এর মধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকার নতুন চালান না আসায় অল্প দিনেই ফুরিয়ে যাবে সংরক্ষিত টিকা। প্রতিদিন ৪ হাজারের বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। এক সপ্তাহ ধরে ৯০ জনের বেশি মানুষ প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন। শয্যা না পাওয়ায় বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাচ্ছেন রোগী। করোনা আক্রান্তদের সেবা দিতে চাহিদা বেড়েছে অক্সিজেনের। করোনা পরিস্থিতিতে ভারতে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি অক্সিজেন রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে। এসব আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিলে চলমান করোনা সংক্রমণে প্রতিদিন যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন তার চার ভাগের এক ভাগও সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। দেশে বর্তমানে অক্সিজেনের চাহিদা দৈনিক ১৫০ টন। করোনায় মৃতের অধিকাংশের বয়স ষাটোর্ধ্ব। তাই চল্লিশোর্ধ্বদের জন্য গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। শিগগির টিকারও সংকট হবে। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে সর্বাত্মক ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এতে একদিকে সংক্রমণ কমার আশা জাগছে; কিন্তু অন্যদিকে শ্রমিক-কর্মচারী, দিনমজুর, কারিগর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সাধারণ খেটে খাওয়া কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। করোনার প্রথম ধাক্কার সময় গত বছর সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার দ্বিতীয় ঢেউ আরও ভয়াবহভাবে আঘাত হানলেও সমাজের বিত্তশালীদের ত্রাণ তৎপরতায় দেখা যাচ্ছে না। সরকারও ত্রাণ বিতরণসহ খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম সেভাবে শুরু করেনি। এমন পরিস্থিতিতে কোটি মানুষ জীবিকা নিয়ে কঠিন সংকটে পড়েছে। সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে।