শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০০

ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন

ইসরায়েলের বর্ণবাদী নীতি নিন্দনীয়

Google News

মধ্যপ্রাচ্যের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সে দেশের সংখ্যালঘু আরব ও ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর বর্ণবাদমূলক নীতি অনুসরণ ও নিপীড়নের অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তাদের ২১৩ পৃষ্ঠার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়িঘর থেকে জোর করে বের করে দেওয়া, বাড়ি নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, চলাচলে বিধিনিষেধসহ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি যারা নানা দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়ে আছেন তাদের নিজভূমে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যথারীতি এসব অভিযোগকে ‘বানোয়াট’ ও ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেছেন, তাদের ইসরায়েলবিরোধী এজেন্ডা আছে। এ সংগঠনটি বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েলকে বয়কট করার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস অবশ্য মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বর্ণবাদী নীতি ও নিপীড়নের উদাহরণ হিসেবে ফিলিস্তিনিদের চলাচলে ইসরায়েলের আরোপ করা নানা বিধিনিষেধ এবং ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের দখল করা ফিলিস্তিন ভূখন্ডে জোর করে ইহুদি বসতি স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ফিলিস্তিনি ও আরবরা ফিলিস্তিনের মূল বাসিন্দা হলেও ইসরায়েলি দলখদারির পরিণতিতে তাদের সংখ্যা এখন ২০ শতাংশের সামান্য বেশি। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নির্দয় নির্যাতনের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্যধারী  ফিলিস্তিনিরা পরিণত হয়েছে একটি দেশহীন জাতিতে। হিউম্যান রাইটসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলিরা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যে বর্ণবাদী নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে তা ১৯৯৯ সালের রোম আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ। ইসরায়েল নিজেদের সভ্য জগতের অংশ দাবি করলেও ইহুদিবাদী নামের জঘন্য বর্ণবাদের চর্চা করে নিজেদের মনুষ্যত্বকে বিসর্জন দিচ্ছে। মানবসভ্যতায় ইহুদি জাতির অনবদ্য অবদান থাকলেও ইহুদিবাদ নামের ঘৃণ্য বর্ণবাদী নীতি নাজিদের বিকল্প হিসেবেই তাদের বিশ্বসমাজের কাছে তুলে ধরছে; যা নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক।