শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মে, ২০২১ ২৩:১১

হায়! কেমন মুসলমান আমরা

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

হায়! কেমন মুসলমান আমরা
Google News

১৯৪৮ সালে স্বাধীন ফিলিস্তিনের ভূখন্ড দখল করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জন্ম নেওয়া রাষ্ট্রটির নাম ইসরায়েল। ড. ইউসুফ আল কারজাভি তার বিখ্যাত বই ‘জেরুজালেম : বিশ্ব মুসলমান সমস্যা’য় স্পষ্ট দেখিয়েছে মুসলিম বিশ্বের অনৈক্য বিশেষ করে আরব শাসকদের ব্যর্থতার কারণেই বছরের পর বছর ফিলিস্তিনের মুসলমানদের রক্তে লাল হচ্ছে মসজিদে আকসার শুভ্র প্রাঙ্গণ। আমরা ধরেই নিয়েছি, মসজিদে আকসা রক্ষার দায়িত্ব শুধু ফিলিস্তিনের মুসলমানদেরই। অথচ ইসলামের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ এ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিটি মুসলমানের ওপর ব্যক্তিগতভাবে ওয়াজিব। শায়েখ কারজাভি স্পষ্ট করে বলেছেন, শুধু মসজিদে আকসা নয়, নির্যাতিত ফিলিস্তিনের মুসলমানদের রক্ষার দায়িত্বও আজ বিশ্ব মুসলমানের ওপর ফরজ। দলিল হিসেবে তিনি পবিত্র কোরআনের এ আয়াত উপস্থাপন করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা আল্লাহর পথে সে-সব নিপীড়িত নারী-পুরুষ ও শিশুদের মুক্তির জন্য কেন সংগ্রাম করবে না, যারা ফরিয়াদ করছে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! এই জালেমদের অত্যাচার থেকে তুমি আমাদের মুক্তি দাও। তোমার পক্ষ থেকে আমাদের মুক্তির জন্য একজন সাহায্যকারী ও উদ্ধারকারী পাঠাও।’ সুরা নিসা, আয়াত ৭৫। হাদিস শরিফে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবীর সব মুমিন একটি দেহের মতো। দেহের কোথাও যদি আঘাত লাগে, পুরো দেহই ওই আঘাতে ব্যথা পায় এবং কাতর হয়। তেমনি পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে যদি একজন মুমিন নির্যাতিত হয়, দুঃখভোগ করে, তাহলে দুনিয়ার সব মুসলমান তার ব্যথায় ব্যথিত হবে।’ মুসলিম শরিফ। এক মুমিন আরেক মুমিনের ব্যথায় ব্যথিত হওয়ার যৌক্তিকতা উল্লেখ করে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘আলমুসলিমু আখুল মুসলিম। একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের ভাই।’ মিশকাত শরিফ। নামাজ-রোজা-হজ-জাকাত ইসলামের এ অত্যাবশ্যকীয় আমলগুলোর মূল শিক্ষাই হলো আল্লাহর বান্দা এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের চর্চা। হায়! আজ তো দেখছি বছরে বছরে হজ, রোজা, জাকাত এবং দৈনন্দিন সালাত আমাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য এক ফোঁটা চোখের পানি যদি না-ই ফেলতে পারি তাহলে আমারা কেমন মুসলমান! কোরআনে আল্লাহ মসজিদে আকসার উল্লেখ করে বলেন, ‘পবিত্র মহামহিম তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে এক রাতে তাঁর কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে নিয়ে যান জেরুজালেমের বরকতময় পরিবেশপূর্ণ মসজিদুল আকসায়। নিশ্চয়ই তিনি সব শোনেন, সব দেখেন। সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ১।  এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মসজিদে আকসার পরিবেশ  বরকতপূর্ণ।

লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি, পীর সাহেব, আউলিয়ানগর।