শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুন, ২০২১ ২২:৪৯

উন্মোচিত হলো কর্মক্ষেত্র

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলারও সিদ্ধান্ত নিন

Google News

স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে দেশের সব অফিস ও কর্মক্ষেত্র খুলে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে একই সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাওয়ায় সারা দেশের চলমান বিধিনিষেধ বা লকডাউন এক মাস বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এখন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় শর্ত যোগ করে মেয়াদ ১৬ জুন মধ্যরাত থেকে ১৫ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণের ঢেউয়ের প্রেক্ষাপটে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ নামে পরিচিতি পায়। সে বিধিনিষেধে জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। এখন অফিসের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হলেও অন্য সব শর্ত প্রায় আগের মতোই রয়েছে। আগের মতোই সব বিনোদন কেন্দ্র, পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ থাকবে। জনসমাগম ঘটে এমন সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। গ্রাহকদের দূরত্ব বজায় রেখে হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। গণপরিবহনও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় লকডাউনের সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত খুবই যৌক্তিক। তবে একই সময়ে সরকারি-আধাসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে আমরা যৌক্তিক বলে অভিহিত করতে চাই। কারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘সবচেয়ে সুবিধাভোগী’ হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় সাধারণ মানুষকে সেবা নিতে হলে হয়রানির শিকার এবং উৎকোচ দিতে হয় অন্তত ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে। যেখানে বেসরকারি সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা খোলা থাকছে সে ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীদের ঢালাও সুবিধা ভোগ কোনোভাবে যৌক্তিক নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারেও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এমনটিই প্রত্যাশিত।