শিরোনাম
সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক

নিজেদের স্বার্থেই এগিয়ে নিতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে কখনো দেখা গিয়েছে টানাপোড়েন, কখনো তা সুরভিত হয়েছে অন্তরঙ্গতায়। সম্পর্ক যেমনই থাকুক যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের সব চেয়ে বড় বাজার। যুক্তরাষ্ট্র দুনিয়ার সবচেয়ে উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও দুই দেশের বাণিজ্যের ভারসাম্য বাংলাদেশের দিকে ঝুলছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানি হয় তার সঙ্গে জড়িত প্রায় ১৫-১৬ লাখেরও বেশি কর্মজীবী মানুষের জীবিকা। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র হলো বাংলাদেশের কাছে রূপকথার সোনার ডিম পাড়া হাঁস। নানা কারণে এ মুহূর্তে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে বৈশ্বিক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণতন্ত্র এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাসি সামিটে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় বাংলাদেশ প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থায় পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেমোক্র্যাসি সামিটের আগামী বছরের আয়োজনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। মার্কিন আন্ডার-সেক্রেটারির ঢাকা সফরে ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারি সংলাপ’-এ বিষয়টি আলোচনায় তুলেছিলেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উন্নয়নের জন্য নেওয়া ‘দৃশ্যমান উদ্যোগ’ এবং কিছু ‘অঙ্গীকার’ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বলেছেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আগামী ডেমোক্র্যাসি সামিটে বাংলাদেশ আমন্ত্রণ পাবে। স্মর্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আয়োজনে আগামী ডেমোক্র্যাসি সম্মেলন সরকারপ্রধানদের সরাসরি অংশগ্রহণে হবে। তাতে আমন্ত্রণ পাওয়াকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রেস্টিস ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু বাংলাদেশের পণ্যের বৃহত্তম বাজার সেহেতু নিজেদের স্বার্থেই অচলাবস্থা কাটাতে উদ্যোগী হতে হবে। তবে তা হতে হবে আত্মসম্মান সমুন্নত রেখে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর