শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

জাতীয় পরিচয়পত্র

জাল-জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর হোন

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজনবোধে সরকার বাতিল করতে পারবে এমন ধারা যুক্ত করে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপনের আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তাবিত আইনটি কয়েক দফা পর্যালোচনা করে একটি কাঠামো দাঁড় করিয়েছে। বিদ্যমান জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০-এর বাতিলসংক্রান্ত ধারায় বলা আছে- কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব অবসান হলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল বলে গণ্য হবে এবং ওই জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রদত্ত জাতীয় পরিচিতি নম্বর অন্য কোনো নাগরিকের বরাবর প্রদত্ত জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহার করা যাবে না। নতুন আইনের এ ধারায় আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন একটি ধারা যোগ করা হয়েছে। আগের ধারা কিছুটা সংশোধন করে বলা হয়েছে- ‘কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব অবসান হলে বা তিনি মৃত্যুবরণ করলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল বলে গণ্য হবে এবং উক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রদত্ত জাতীয় পরিচিতি নম্বর অন্য কোনো নাগরিকের বরাবরে প্রদত্ত জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহার করা যাবে না।’ নতুন ধারায় বলা হয়েছে- ‘সরকার প্রয়োজনবোধে যে-কোনো ব্যক্তিকে কারণ দর্শিয়ে তার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাতিল করতে পারবে।’ প্রস্তাবিত আইনে জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের দন্ড হিসেবে সর্বোচ্চ সাত বছর ও সর্বনিম্ন দুই বছরের কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করা, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অন্য কারও পরিচয়পত্র বহন এবং পরিচয়পত্র পাওয়ার জন্য মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রদান করলে অনধিক সাত বছর কারাদন্ড হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থদন্ডের কথা আইনে উল্লেখ করা হলেও তার পরিমাণ বলা হয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে জাল জালিয়াতি অহরহ ঘটছে। বিশেষ করে তথাকথিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মচারীদের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। আমরা আশা করব এটি মন্ত্রিসভায় পাসের আগে জরিমনার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা হবে।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর