বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবকে দিয়েছেন অলৌকিক নির্দেশনা

আবদুর রশিদ

মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিব রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অগণিত মোজেজা তথা অলৌকিক নির্দেশনাবলি দ্বারা সাহায্য করেছেন। যেগুলো তাঁর নবুয়ত ও রিসালাতের সত্যতাকে তুলে ধরেছে। রসুল (সা.)-এর মোজেজাসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মোজেজা হলো ‘আল কোরআন’। মহাবিজ্ঞানময় এই কিতাব নাজিল করে মহান আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত সব মানবকে এর যে কোনো একটি সুরার ন্যায় সুরাহ তৈরি করার চ্যালেঞ্জ করেছেন। কিন্তু দুনিয়ার কেউই ওই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়নি। বিশ্বনবীর মোজেজাসমূহের মধ্যে সবচেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ মোজেজাগুলোর একটি হলো-তাঁর হাতের ইশারায় চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া, যখন কাফেররা এমন করে দেখার দাবি উত্থাপন করেছিল। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত আবদুল্লাহ বিন সালাম হজরত রসুলে পাক (সা.)-এর মদিনায় আগমনের সংবাদ জানতে পেলেন, এ সময় তিনি নিজস্ব একটি বাগানে খেজুর পাড়ছিলেন। অতঃপর তিনি রসুল (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে বললেন, আমি আপনাকে এমন তিনটি প্রশ্ন করব যার উত্তর নবী ব্যতীত আর কেউ জানেন না। ১. কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত কী? ২. জান্নাতবাসীদের সর্বপ্রথম খাদ্য কী? ৩. কিসের কারণে সন্তান কখনো পিতার অনুরূপ হয়, আবার কখনো তার মায়ের মতো হয়? রসুল (সা.) বললেন, এ বিষয়গুলো সম্পর্কে হজরত জিব্রাঈল (আ.) এই মাত্র আমাকে অবহিত করেছে। কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত হলো একটি অগ্নিকুণ্ড যা লোকদের পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে একত্রিত করবে। আর জান্নাতবাসী সর্বপ্রথম যে খাদ্য ভক্ষণ করবে তা হলো মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। আর সন্তানের ব্যাপার হলো, যদি স্ত্রীর বীর্যের আগে স্বামীর বীর্যের স্খলন ঘটে তাহলে সন্তান বাপের আকৃতি ধারণ করে। পক্ষান্তরে যদি স্ত্রীর বীর্যের প্রাধান্য ঘটে তাহলে সন্তান মায়ের মতো আকৃতি ধারণ করে। বিশ্বনবীর বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে থেকে একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, মহান আল্লাহ তাঁকে মহৎ গুণাবলি ও চারিত্রিক মাধুর্য দান করেছেন, যা অন্য কারও ভাগ্যে জোটেনি। হজরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল (সা.) বলেন, আমাকে পাঁচটি বস্তু দেওয়া হয়েছে, যেগুলো ইতোপূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি। ১. এক মাসের দূরত্ব পর্যন্ত প্রভাব ও প্রতিপত্তি দিয়ে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। ২. গোটা জমিনের পৃষ্ঠদেশ আমার উম্মতের জন্য মসজিদ ও পবিত্র ঘোষণা করা হয়েছে। ৩. আমার জন্য গণিমতের মাল হালাল করা হয়েছে, অথচ আমার পূর্বে কোনো জাতির জন্য তা হালাল করা হয়নি। ৪. আমাকে শাফায়াতের অধিকার দেওয়া হয়েছে। ৫. পূর্বেকার নবীকে কেবল তার সম্প্রদায়ের হেদায়াতের জন্য পাঠানো হতো; কিন্তু আমাকে দুনিয়ার সব মানবের হেদায়াতের জন্য পাঠানো হয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রসুল (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি সম্মান প্রদর্শন করার তৌফিক দিন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

সর্বশেষ খবর