শিরোনাম
শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩ ০০:০০ টা

বিদেশে অর্থ পাচার

ওদের চিহ্নিত ও পাকড়াও করুন

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার ঘটছে নিয়মিত এবং এ নিয়ে কারোর মধ্যে দ্বিমত নেই বললেই চলে। তবে অর্থ পাচারকারী কারা এ নিয়ে রয়েছে বিতর্ক এবং একই সঙ্গে বিভ্রান্তি। এক সময় পৃথিবীর সবচেয়ে গরিব বাংলাদেশ অর্ধশতাব্দীর ব্যবধানে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এ দেশে স্পুটনিক গতিতে ধনিক শ্রেণির বিকাশ ঘটেছে। যারা বিদেশে অর্থ পাচার করছে তাদের সঙ্গে আমজনতার কোনো সম্পর্ক নেই বা থাকার কথা নয়। নুন আনতে যাদের পান্তা ফুরায় এমন মানুষের সংখ্যা এখনো এ দেশে বিশাল। যারা বিদেশে অর্থ পাচার করে তাদের মধ্যে আমলা, কর ফাঁকিবাজ, অসৎ ব্যবসায়ী এবং অসৎ রাজনীতিকদের কথাই বেশি উচ্চারিত হয়। অর্থ পাচার করে সুইস ব্যাংকে রাখা এত দিন বাংলাদেশি পাচারকারীদের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছিল। সারা বিশ্বের ধনীদের অর্থ জমা রাখার জন্য বহুদিন ধরে পরিচিত সুইজারল্যান্ড। নাম-পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখায় বিশ্বের আমানতকারীদের নির্ভরশীল ব্যাংক বলে পরিচিত সুইস ব্যাংকগুলো। এসব কারণে কর ফাঁকি দেওয়া ও অবৈধভাবে আয় করা অর্থ জমা হয় সুইস ব্যাংকে। গ্রাহক নির্দিষ্ট করে তথ্য না দিলেও এক বছর ধরে টাকার হিসাব প্রকাশ করছে ন্যাশনাল সুইস ব্যাংক। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষে বাংলাদেশিদের আমানত দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৫২ লাখ সুইস ফ্রাঁতে। প্রতি ফ্রাঁ ১২১ টাকা ধরে হিসাব করলে আমানতের পরিমাণ ৬৬৮ কোটি টাকা। এক বছর আগে জমার পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ ফ্রাঁ। এক বছরে বাংলাদেশিদের আমানত কমেছে ১০ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। ২০২২ সালজুড়ে বাংলাদেশি আমানতকারীরা সুইস ব্যাংক থেকে এ অর্থ তুলে নিয়েছেন। হঠাৎ করে সর্বনিম্নে নেমে আসার কারণ উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ২৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশ থেকে যারা অর্থ পাচারের অপকর্মে জড়িত তারা দেশ ও জনগণের বন্ধু যে নয় তা স্পষ্ট। পাচারকারীদের চিহ্নিত ও পাকড়াও করা সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর