শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:০৮

ই ন্টারভিউ

রবীন্দ্রনাথ বাঙালির অস্তিত্বে বিরাজমান

রবীন্দ্রনাথ বাঙালির অস্তিত্বে বিরাজমান
প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী পাপিয়া সারোয়ার। রবীন্দ্রসংগীত সাধনার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তার সংগীতলব্ধ জ্ঞান। আজ ২২ শ্রাবণ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন- পান্থ আফজাল

 

কবিগুরুর মহাপ্রয়াণ দিবস আজ। দিবস নিয়ে ব্যস্ততা কেমন?

দিবসটি এলেই তো আমাদের মতো সংগীতশিল্পীদের স্মরণ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম! আজ অবশ্য ব্যস্ততা থাকবে কিছু অনুষ্ঠান নিয়ে।

 

আপনিসহ অনেক শিল্পীরই অভিযোগ, দিবসে তাদের স্মরণ করা হয়...

সত্যিই তো তাই! এই যে ২২ শ্রাবণ, ২৫ বৈশাখ এলেই কেন আমাদের মতো শিল্পীদের স্মরণ করা হয়? এটা অসম্মানজনক, অশোভন বলে মনে হয়! জানি আপনারা শিডিউল মেইনটেইন করেন, কিন্তু এক সপ্তাহ আগে থেকেই এসব নিয়ে ভাবলেই তো হয়। আর এখন টিভি চ্যানেল, পত্রিকায় সব চেনামুখ, পরিচিত কিছু চেহারাই প্রাধান্য পায়। সংগীত জীবনের এ অর্ধশত বছর পার করেও কখনোই ভাবিনি, আমার গাইতেই হবে; আমাকে নিতে হবে। এসব থেকে উত্তরণের চেষ্টা আপনাদেরই করতে হবে।

 

‘গীত সুধা’র কোনো কার্যক্রম থাকবে কি?

ঘরোয়া আয়োজন হবে। তার স্মরণে গান গেয়ে শ্রদ্ধা জানাব। 

 

অনেক স্বীকৃতি-সম্মাননা পেয়েছেন। স্বীকৃতি বিষয়টা কেমন লাগে?

স্বীকৃতি, সম্মাননা অবশ্যই আনন্দের। কোনো সম্মাননা পাওয়ার জন্য তো শিল্পচর্চা নয়। দীর্ঘ বছর ধরে গানের জগতে আছি, কখনো মনে করিনি আমাকে সম্মাননা পেতে হবে। তবে এখন তো এ স্বীকৃতির পেছনেও অনেক কাহিনি থাকে! মানুষের কাছ থেকেই শুনি, মূল্যায়ন এভাবে হয় না। তবে আমি গানের মানুষ, আজীবন গানের মধ্যেই থাকতে চাই

 

বাংলাদেশের প্রথম ছাত্রী হিসেবে শান্তি নিকেতনে পড়াশোনা করেছেন...

তখন আবদুল আহাদ ভাইয়ের সঙ্গে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পড়তেন। তখন এটি আশ্রম ছিল, পরে এটি ইউনিভার্সিটি হয়।

 

নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা কেমন গাইছে?

ভালো-খারাপ তো থাকবেই। তবে, ভালো গাইছে। অনেকেই খুব ট্যালেন্ট এবং তারা মূলধারার গানই করছেন। এখন তো শেখানোর অনেকেই আছে।

 

বর্তমানে রবীন্দ্রনাথ কতটা প্রাসঙ্গিক?

এ সময় রবীন্দ্রনাথ একদমই প্রাসঙ্গিক। সব অবস্থায়ই রবীন্দ্রনাথের প্রয়োজন রয়েছে। যেমন, রবীন্দ্রনাথের ‘দিকে দিকে নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস, শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস’ বর্তমান সময় এটা বেশি প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’ গানটির মূল তাৎপর্য হলো হে প্রভু তুমি আমাকে শান্ত করে দাও। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণের পথকে আরও সুগম করে তোলে।

 

রবীন্দ্রনাথ আপনার কাছে কেমন?

তিনি প্রাণের সঙ্গে, সত্তার সঙ্গে মিছে আছেন। তিনি কবিতায়-গানে, গল্প-উপন্যাস-নাটকে, বৈচিত্র্যময় সব রচনায় বাঙালির মেধা, মনন ও চেতনার দ্বারকে উন্মোচন করেছেন। তার রচনার মাধ্যমেই বাঙালি তার জাতিসত্তা সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। মোটকথা রবীন্দ্রনাথ বাঙালির অস্তিত্বে বিরাজমান রয়েছেন। নতুন প্রজন্মকে তাকে জানার জন্য বেশি বেশি বই পড়তে হবে।


আপনার মন্তব্য