সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ টা

নতুন মুখের আনাগোনা সরব নাটকপাড়া

নতুন মুখের আনাগোনা সরব নাটকপাড়া

ঘুরেফিরে একই মুখ আর দেখতে চান না দর্শক। তাই টিভি নাটকে নিত্যনতুন মুখের আনাগোনা। তাঁরা প্রতিষ্ঠিত তারকাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন। নিজস্ব অভিনয়গুণে দর্শক নজর কাড়তেও সক্ষম হচ্ছেন। বিস্তারিত লিখেছেন - পান্থ আফজাল

আস্তে আস্তে শোবিজ অঙ্গন বড় হচ্ছে, তাই প্রতিনিয়ত বাড়ছে নতুন মুখ। জনপ্রিয় তারকাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠতি অভিনয়শিল্পীরা নিজস্ব ঢং ও বৈচিত্র্যপূর্ণ অভিনয়গুণে দর্শক নজর কাড়তে সক্ষম হচ্ছেন। অসংখ্য প্ল্যাটফরম আসার ফলে তাঁদের অভিনয়ের ক্ষেত্রও হয়েছে বিস্তৃত। অন্যদিকে দর্শকও বরাবরই নতুন মুখ দেখতে আগ্রহী। সে আগ্রহ পূরণে প্রায় প্রতি বছরই নতুন শিল্পী ভিড় করছে শোবিজ মিডিয়ায়। কিন্তু সব মুখই কি দর্শক নজর কাড়তে সক্ষম হচ্ছেন? তা কিন্তু নয়। অসংখ্য নতুন মুখের ভিতর থেকে সম্ভাবনাময় কিছু মুখ তাঁদের প্রতিভা ও যোগ্যতা দিয়ে এ অঙ্গনে টিকে থাকতে পারছেন। দিন দিন তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে দর্শকদের কাছে।

একঘেয়েমি কাটাতে নির্মাতা-প্রযোজকরাও প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছেন নতুন মুখ পর্দায় দেখানোর। ফলে একসময় নাটক দেখতে বসলে দর্শকরাও খোঁজেন কিছু নতুন প্রিয়মুখ। ইউটিউব-ওটিটিতেও বেছে নেন নতুনদের নাটক। তাই অভিনয়ে ব্যস্ততা বাড়ছে নতুনদের। যদিও নাটকের মান নেমে গেছে অনেক আগেই। বোকাবাক্স হয়ে গেছে জোকারবাক্স! টিভি চ্যানেলের দীনতা ও মানহীন নাটক প্রচারের কারণে হয়ে পড়েছে দর্শকবিহীন। ভিউ ধরার ফাঁদে দর্শককে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও প্ল্যাটফরম উদ্ভট গল্পের নাটক নির্মাণ করছে। অন্যদিকে টিভি নাটক চ্যানেলের হাত থেকে চলে গেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হাতে। তারা নাটকের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে! এত দীনতার মাঝেও কিছু সম্ভাবনাময়ী নতুন শিল্পী আশার আলো নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন এই সময়ে। তারা ইমেজ ধরে রাখতে ভালো গল্প ও সাহিত্যনির্ভর কাজ করে যাচ্ছেন। এটি এ ইন্ডাস্ট্রির জন্য স্বস্তিদায়কও বটে!

দেশের টিভি নাটকের রয়েছে সুন্দর সোনালি অতীত। সেসময়কার নাটক মানেই তুমুল জনপ্রিয়তা। নাটকের জন্য রাজপথে মিছিলও হয়েছে। কী সুন্দর সব নামের, গল্পের, সংলাপের ও অভিনয়ের নাটক! সাহিত্যনির্ভর গল্প নিয়ে তৈরি হতো টেলিভিশন নাটক। নামেও পাওয়া যেত কাব্যিক ছোঁয়া। নাটক দেখে মধ্যবিত্ত পরিবার তাদের জীবনাচরণ ঠিক করে নিত সে সময়। কিন্তু এখন নাটকের ভিউ বা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নাটকের মান যাচ্ছেতাই হয়ে যাচ্ছে। নতুনদের বিরক্তিকর অপেশাদারি অভিনয় মনোভাব তো আছেই। তবে এর উল্টোচিত্রও দেখা যাচ্ছে ইদানীং। নিজস্ব মেধা, শ্রম ও অভিনয় দক্ষতায় সবার কাছে নির্ভরশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখা দিচ্ছেন কিছু নতুন শিল্পী। তারা গল্প ও চরিত্র বুঝে বেছে বেছে কাজ করছেন। চেষ্টা করছেন ভালো কিছু করার। দীর্ঘ করোনাকালেও থেমে থাকেনি তাদের গতি। সাবলীল অভিনয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন কিছু নতুনমুখ। অল্প সময়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন নতুনরা। এদের মধ্যে রয়েছেন- ইয়াশ রোহান, তানজিন তিশা, জোভান, তৌসিফ, তাসনিয়া ফারিণ, মনোজ প্রামাণিক, মুশফিক আর ফারহান, সাফা কবির, সাবিলা নূর, ইরফান সাজ্জাদ, নাজিয়া হক অর্ষা, মিশু সাব্বির, টয়া, তাসনুভা তিশা, সায়েদ জামান শাওন, শ্যামল মওলা, জিয়াউল হক পলাশ, কেয়া পায়েল, নিশাত প্রিয়ম, নাজিবা বাশার, খায়রুল বাসার, সারিকা সাবাহ, মৌসুমী মৌ, রুকাইয়া জাহান চমক, রোদশী, শামীম হাসান সরকার, সামিরা খান মাহি, মিহি, পারসা ইভানা, নীল হুরেরজাহান, আরশ খান, অহনা, জীবন রয়, তূর্না, শাকিলা পারভীন, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি, আবু হুরায়রা তানভীর, সিয়াম নাসির, সানজানা রিয়া, জয়নাল জ্যাক, ইফফাত আরা তিথি, ফরহাদ লিমন, তানিয়া বৃষ্টি, নীলাঞ্জনা নীলা, তানহা তাসনিয়া, শহীদুল্লাহ সবুজ, তানজিম অনিক, সালহা নাদিয়া, নাদিয়া মিম, নাবিলা ইসলাম, অবাক রায়হান রিয়াদ, ফারহানা হামিদ, আরেফীন জিলানী, সুজন হাবিব, জামসেদ শামীম, এলিনা শাম্মী, আনন্দ খালেদ, শারমিন আঁখি, রাশেদ এমরান, শিমুল শর্মা, সাইদুর রহমান পাভেল, এ বি রোকন, এম এ ইউ রাজু, আনোয়ার হোসেন, সঞ্চিতা দত্ত, সেমন্তি সৌমি, তাবাস্সুম মিথিলা, তিনু করিম, আনোয়ারুল আলম সজল, ইমতু রাতিশ, জামিল হোসেন, পুনম জুঁই, ইভান সাইর,  শেহজাদ ওমর, সাব্বির অর্নব, মুুনমুন, লাবণ্য, জাহের আলভী, প্রত্যয় হিরণ, মায়মুনা মম, ফারজানা রিক্তা, পূর্ণিমা বৃষ্টি, নাফিজ আহমেদ, সূচনা আজাদ, তামিম মৃধা, মাহিমা, আদর আহমেদ, কারার মাহমুদ, দাউদ নূর, নিরু, কমল, পুনম, শাওন মজুদদার, আর এ রাহুল প্রমুখ। এরা ছাড়াও প্রতিনিয়ত কিছু নতুন মুখ ভালো নামের এবং গল্পের কনটেন্টে অভিনয় করছেন। যদিও কিছু ভালো কাজের মধ্যেও নির্মাতারা কোনো ধরনের বিচার-বিবেচনা ছাড়াই উদ্ভট নাটক বানিয়ে চলেছেন। এটা হতাশাজনক! এসব উদ্ভট গল্পের ও নির্মাণের দুই-একটি নাটক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় এখন সবাই একই স্রোতে গা ভাসিয়েছেন। এসব নাটক নির্মাতার তালিকায় সিনিয়র থেকে তরুণ, সব কাতারের নির্মাতাই আছেন। এসবে আবার অভিনয়ও করছেন জনপ্রিয় দুই-তিনজন শিল্পী। গল্পের কমন ফর্মুলা এখন দুই তরুণ-তরুণীর লুতুপুতু প্রেম অথবা গ্রুপ বন্ধু-বান্ধবীদের অযথা বাক্যবাণ। যেখানে না থাকছে গল্প, চরিত্র, অভিনয়শিল্পীদের বৈচিত্র্যতা, প্রমিত সংলাপ আর লোকেশনের বৈচিত্র্য। নাটকের অনুষঙ্গ হয়ে পড়েছে অপ্রয়োজনীয় গান। ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নতুনরা বড় বাজেটের নাটকে ডাক পাচ্ছেন না। যেটুকু তারা কাজ করছেন তা নিজেদের অভিনয় যোগ্যতায়। তবে হতাশার কথা হচ্ছে, কিছুদিন আগেও যেসব নবীন তারকাশিল্পী টেলিভিশনে একচেটিয়া অভিনয়, মডেলিং, উপস্থাপনা বা ফটোশুট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন তাদের বেশির ভাগই অভিনয়ে অনিয়মিত। খামখেয়ালিপনা, হুটহাট শিডিউল ফাঁসানো, নেশায় আসক্ত হওয়া, ইচ্ছামতো শুটিংয়ে যাওয়া, প্রেম-ভালোবাসা ও বিয়েসংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াও বিভিন্ন কারণে তাঁরা হারিয়ে যাচ্ছেন। রয়েছে পেশাদারির ঘাটতি, দায়িত্বহীনতাসহ নানা সমস্যা। ফলে তাঁরা ঝরে পড়ছেন। এসব নিয়ে নাটক-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এখনই ভাবার সময়।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর