শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি, ২০২০ ১৮:১০

মাটি নয় নারিকেলের ছোবড়ায় বেড়ে উঠছে পেঁপের চারা!

আব্দুর রহমান টুলু, বগুড়া:

মাটি নয় নারিকেলের ছোবড়ায় বেড়ে উঠছে পেঁপের চারা!

চারার নগর খ্যাত বগুড়ার শাজাহানপুরের শাহ্নগর গ্রামে ট্রে-তে উৎপাদন হচ্ছে উন্নত জাতের হাইব্রিড পেঁপে চারা। মাটির পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে কোকো ডাষ্ট (নারিকেলের ছোবড়া’র ধুলা)। শুধু পেঁপে না বিভিন্ন সবজির চারাও তারা এভাবে করে থাকে। 

চারা উৎপাদনের পুরো কাজ চলছে নেট হাউজের ভিতরে। ফলে মাটি ও বায়ুবাহিত রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকছে এসব চারা। প্রতিটি গাছেই পেঁপে ধরবে। এসব চারা গাছ প্রতি পিছ ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চারা উৎপাদনের আধুনিক এই প্রযুক্তি সবজি চাষিদের কাছে যেন এক নতুন দিগন্ত।

বগুড়ার শাজাহানপুরে হাইব্রিড পেঁপে চারা উৎপাদন শুরু করেন শাহ্ নগর গ্রামের আমজাদ হোসেন এবং মাদলা গ্রামের রেজাউল করিমসহ কয়েকজন। গত বছর ৮-১০ হাজার চারা উৎপাদিত হয়। এসব চারায় পেঁপে চাষ করে সফলতা পেয়েছেন জোঁকা গ্রামের আবু জাফর মাস্টার, শাহ্নগর গ্রামের আব্দুস সালাম, দুরুলিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম। তারা চলতি বছরেও পেঁপে চাষ শুরু করেছেন। অপরদিকে শাজাহানপুরে উৎপাদিত হাইব্রিড পেঁপে চারা আশপাশের এলাকা ছাড়িয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে সিলেট, ফেনী, পিরোজপুর, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। 

চারার চাহিদা বাড়ায় চারা উৎপাদনকারী নার্সারির সংখ্যাও বেড়েছে। এবছর শাহ্নগর গ্রামে ‘কৃষি সেবা ট্রে-নার্সারি’, ‘ফাইম নার্সারি’, ‘তোহা নার্সারি’ এবং মাদলা গ্রামে ‘নাফিসা ট্রে-নার্সারি’ তে ‘ফাস্ট লেডি’ নামের উন্নত জাতের হাইব্রিড পেঁপে চারা উৎপাদন চলছে। এসব নার্সারিতে ইতোমধ্যে ৮-১০ হাজার চারা উৎপাদন ও বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল নাগাদ আরও ৪০ হাজার চারা উৎপাদনের টার্গেট রয়েছে।    

‘কৃষি সেবা ট্রে নার্সারি’র মালিক আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলে মাটি ছাড়া কোকো ডাষ্ট-এ চারা উৎপাদনের আধুনিক কলাকৌশলের ব্যবহার প্রথম শুরু হয় রংপুরে। এরপর শাজাহানপুরে শুরু হওয়ায় বগুড়া হল এ প্রযুক্তি ব্যবহারে দ্বিতীয় জেলা। নেট হাউজ থাকায় প্রখর রোদ, কীট-পতঙ্গ ও পোকা-মাকড়ের হাত থেকে চারাগাছ রক্ষা পায়। অপরদিকে মাটির পরিবর্তে কোকোপীটের ব্যবহার চারাকে মাটিবাহিত রোগ বালাই থেকে মুক্ত রাখে। 

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে একই জমিতে বার বার চারা উৎপাদন করায় জমিগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। উৎপাদিত চারা আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগে। এতে লোকসান গুণতে হয় নার্সারি মালিকদের। সবজি উৎপাদনেও ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

‘নাফিসা ট্রে নার্সারি’র মালিক রেজাউল করিম মণ্টি জানিয়েছেন, প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ট্রে নার্সারি পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন খরচ শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ বেশি হলেও রোগমুক্ত ও সুস্থ সবল হওয়ায় কীটনাশকের খরচ থাকে না। তুলনামূলক কম খরচেই চাষিরা বেশি ফলন পাচ্ছেন। উভয়লিঙ্গ এসব প্রতিটি গাছে পেঁপে ধরে। ৯০ দিনের মধ্যেই ফলন আসে। ৪ কেজি পর্যন্ত একটি পেঁপের ওজন হয়ে থাকে। তাই প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ট্রে নার্সারি পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করা হলে নার্সারি মালিক ও সবজি চাষি উভয়ের জন্যই লাভজনক।

চাষিরা আরো জানান, ৩০ থেকে ৩৫ দিন বয়সী চারা তারা বিক্রি করে থাকে প্রতি পিস ২০ টাকায়। এসব চারা বগুড়ার বাহিরের জেলায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যাচ্ছে। ২৫টির বেশি চারা নিলেই ১শ' টাকা কুরিয়ার খরচে পৌছে যায় চারা। ৯০ দিনের মধ্যেই ফলন ঘরে তোলা যায়। একটি গাছে ২ মনেরও বেশি ফলন হয়ে থাকে। 

ট্রে নার্সারিতে সবজি চারা উৎপাদন কার্যক্রম অত্যন্ত সম্ভবনাময়ী উল্লেখ করে শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানিয়েছেন, আধুনিক এ প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে নার্সারি মালিক ও সবজি চাষিরা দারুণ ভাবে লাভবান হবেন। 

অপরদিকে মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং রোগ বালাইয়ের কারণে সবজি উৎপাদনে যে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে তা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

close