শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০৯:৫৭

বিপন্ন হচ্ছে ‘সুন্ধি কাছিম’

সাইফুল ইসলাম বেগ, বিশ্বনাথ (সিলেট)

বিপন্ন হচ্ছে ‘সুন্ধি কাছিম’

সুন্ধি কাছিম। এর ইংরেজি নাম flapshell Turtle, বৈজ্ঞানিক নাম Lissemys punctata। লোনাজলে দেখা পাওয়া যায় না। স্বাদুপানিই ওদের আবাসস্থল। সুন্ধি কাছিম দেশের সব জলাশয়ে আগে অনেক দেখা গেলেও এখন এর সংখ্যা কম। শুকনো মৌসুমে মাছের জন্যে খাল-বিল, হাওর-বাওর সেচ করলেই দেখা মিলতো একাধিক কাছিম। বর্তমানে আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার ও জলাশয় দূষণের কারণে বিপন্ন হচ্ছে উপকারী এ প্রাণী।

প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, পাকিস্থান, ভারত, মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কাতেও আছে সুন্ধি কাছিম। প্রতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এদের প্রজনন মৌসুম। এটি মিঠাপানির কাছিম হওয়ায় ডিম দিতে ওই সময়ে ডাঙায় উঠে ওরা। তাদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে জলজ উদ্ভিদ ও ছোট ছোট প্রাণী।

গত সোমবার সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাউসী গ্রামের বিলে অবৈধ ভাবে সুন্ধি কাছিম শিকার করছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সুরির দাসের ছেলে পান্ডা বাবু (৪৮) নামের এক শিকারী। বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এগুলো ধরা দণ্ডনীয় জানিয়ে তার সাথে কথা হয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। ৩০-৩৫ বছর ধরে জীবিকা উপার্জনের অংশ হিসেবে কাছিম শিকার করছেন তিনি। আগে দিনে ১০-১২টা কাছিম শিকার করা গেলেও, এখন দিনে ২-৩টির বেশি পাওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা হলে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের গবেষণা সহযোগী শিহাব খালেদীন ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে বলেন, বণ্যপ্রাণী আইনে এটি সংরক্ষিত এবং অবৈধ শিকারে শাস্তির বিধানও আছে। প্রকৃতি থেকে প্রাণী বিপন্ন হলে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বেই। তাই এদের সংরক্ষণে স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য