শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ জুলাই, ২০২০ ১৭:০০

ফুল বিক্রির ফেরিওয়ালা সোবহান

কাগজের ফুল বিক্রি করেই চলে যার সংসার

দিনাজপুর প্রতিনিধি


কাগজের ফুল বিক্রি করেই চলে যার সংসার

ফুলকে ভালবাসে না এমন মানুষ হয়তো পাওয়া যাবে না। ফুল ভালবাসার প্রতীক। তাই প্রকৃতি ও ফুল প্রতিটা মানুষকে কাছে টানে। সে কারণে প্রতিটি মানুষ প্রকৃতি ও ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভালোবাসে। প্রকৃতি ও সৌন্দর্য পিপাসু প্রতিটি মানুষ তাদের বাড়ির আঙিনা বা ছাদে ফুল চাষ করে থাকেন। কেউ বা আবার ফুলের গাছ টবে লাগিয়ে বাড়ির ছাদ বা বারান্দায় রাখেন। আর শিশুদের খেলনা কিংবা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ঘরে রাখেন কৃত্রিম ফুল। তাছাড়া বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাগজের ফুলের কদরতো রয়েছেই। কাগজের এই ফুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়,  এই কাগজের ফুল তৈরি ও বিক্রি অনেকের জীবিকাও। অনেকের সংসারই চলে এই ফুল বিক্রিতে। কাগজ ও প্লাাস্টিকের মনকাড়া কৃত্রিম ফুল তৈরি ও বিক্রি করে প্রায় ৫ বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন নওগার আত্রাই উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের শলিয়া পাড়া গ্রামের সোবাহান প্রামানিক (৫৮)।

সোবাহান প্রতিদিন ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের হাট-বাজার,পাড়া-মহল্লার অলিতে গলিতে পথে পথে ঘুরে রঙ্গিন কাগজের ফুল ও প্লাস্টিকের ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সারাদিন কাঠফাটা রোদ কিংবা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফুল বিক্রি করেন। নিজ হাতে তৈরী কাগজের ফুল বিক্রি করাই তো তার অন্ন জোগানোর একমাত্র উৎস। 'ফুল নেবে ফুল', 'লাল-নীল রঙ্গিন কাগজের ফুল'- গ্রামের পথে পথে কাগজের ফুল বিক্রেতার হাঁক শুনলেই গ্রামের ছোট বড় সকলেই ছুটে আসেন ফুল নিতে।

রবিবার ফুলবাড়ী উপজেলার কাঁটাবাড়ী নয়াপাড়া গ্রামের রাস্তার পাশে দেখা মেলে কাগজের ফুল বিক্রেতা সোবাহানের। ফুল বিক্রি নিয়ে সোবাহান বলেন, আমি আগে কৃষি কাজ করতাম। বয়স হয়েছে তাই তেমন শক্তি পাই না। অল্প পুঁজিতে এ ব্যবসা করা যায়। ৫ বছর ধরে এ ব্যবসা করে আসছি।

তিনি আবেগাপ্লত কণ্ঠে বলেন, একমাত্র ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকে, আমাদের খোঁজ খবর রাখে না। দুটি মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই অভাবের সংসারে এভাবেই জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন সকাল হলেই ফুল বিক্রি করতে চলে যাই পার্শ্ববর্তী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। প্রতিটি ফুল ৫-১০ টাকায় বিক্রি করে সারাদিনে কমপক্ষে ৩শ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। কিন্তু বর্তমানে করোনার কারণে স্কুল বন্ধ, এখন আর তেমন জনসমাগম নেই, তাই ফুল তেমন বিক্রি হচ্ছে না, কোনো রকমে সংসার চলে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা যদিও লাভজনক তারপরও জীবনের যথেষ্ট ঝুঁকিও রয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে বা ট্রাকে কখনো ট্রেনে করে গন্তব্যে যাই। এভাবেই চলে আমার জীবন জীবিকা।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য