শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর, ২০২০ ১৩:৪৬

করোনায় বিক্রি কমেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কটকটির

আব্দুর রহমান টুলু, বগুড়া

করোনায় বিক্রি কমেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কটকটির

বগুড়ার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি খাবারের নাম কটকটি। বগুড়ার মহাস্থানগড়ের আশেপাশের এলাকায় বহু বছর ধরে কটকটি বিক্রি হয়ে আসছে। বগুড়ার মহাস্থানগড়ের ইতিহাস সমৃদ্ধ কটকটির দিন আর আগের মত ভাল যাচ্ছে না। করোনাভাইরাসের কারণে মহাস্থানগড় দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকায় কটকটির বিক্রি কমে গেছে। পর্যটক না থাকায় ঐতিহ্যবাহি কটকটি এখন প্রায় ক্রেতা শূন্য।

ইতিহাস পাঠে জানা যায়, বগুড়া শহর থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার পাশে অবস্থিত পুন্ড্রনগর বা পুন্ড্রবর্ধন। যা পর্যায়ক্রমে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়েছে। মহাস্থানগড়ে হযরত শাহ সুলতান বল্খী মাহীসওয়ার (রঃ) এর মাজার এলাকায় দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থান থকে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের আগমন ঘটতো। করোনাভাইরাসের কারণে বগুড়ার মহাস্থানগড় এখন বন্ধ। পর্যটকও নেই। করোনাভাইরাসের আগে পর্যটকদের কাছে মিষ্টান্ন হিসেবে কটকটি বেশ প্রসিদ্ধ ছিল।  মুখোরচক-লোভনীয় খাবার হিসেবে কটকটি অনেক জনপ্রিয় একটি খাবার হলেও করোনার কারলে এর বিক্রি অর্ধেকে নেমে গেছে।

কটকটির কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে চাল গুড়ো করতে হয়। পরে খামির করে চতুর্ভুজ আকারের ছোট ছোট টুকরা করে তা তেলে ভেজে নিতে হয়। পরে অন্যান্য মসলার সাথে মেখে নিয়ে জ্বাল দেওয়া গরম গুড়ের মধ্যে ভিজিয়ে নিতে হয়। তারপর কিছুক্ষণ রেখে দিয়ে তা বাজারজাত করা হয়। তেলে ভাজার পরে শক্ত হলেও চালের আটা থাকায় এটি মচমচে। কিছু কটকটিতে খাবার রং দিয়ে লাল করা হয়, আবার কোন কটকটিতে রং মেশানো হয় না। চালের আটা দিয়ে এবং ময়দা বা আটা দিয়েও কটকটি তৈরি হয়ে থাকে। তবে চালের গুড়ো দিয়ে তৈরি কটকটির স্বাদ অতুলনীয়। যা স্থানীয় বাজারে ১৬০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিদিন শত শত কেজি কটকটি বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু এখন তেমন বিক্রি হচ্ছে না।

কারিগররা কটকটি তৈরি করে আসলেও কবে থেকে, কীভাবে এ কটকটির প্রচলন হলো তার সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি।

কটকটি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্রিটিশরা শাসনামল থেকেই এই এলাকার কিছু কিছু ব্যবসায়ীরা গমের আটা দিয়ে তেলে ভেজে গুড় মিশিয়ে কটকটি তৈরি করত। মহাস্থানগড় ছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকায় বিক্রি করা হতো। 

স্থানীয়রা বলছেন, বগুড়া জেলার সদর উপজেলার গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের জয়নাল আলী মন্ডল, ভোলা মন্ডল ও গেদা মন্ডল ঐতিহ্যবাহী এই কটকটি তৈরী করেছিলেন। যা প্রায় ১১০ থেকে ১২০ বছর আগের কথা। তাদের বংশধরদের মধ্যে ভোলা মন্ডলের পুত্র মুনছের আলী, জয়নাল মন্ডলের পুত্র বাবলু মিয়া, গেদা মন্ডলের পুত্র শাহাদত হোসেন ঐতিহ্যবাহী এই কটকটির ব্যবসা অব্যহত রেখেছেন বলে জানা যায়।

মহাস্থানগড় এলাকার সাইদুর রহমান সাজু জানান, বর্তমানে চালের কটকটি কেজিতে ১০০ টাকা, ঘিয়ে ভাজা কটকটি ১৫০ টাকায়  বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের মতো আর বিক্রি হচ্ছে না। পর্যটক না থাকায় বিক্রি কমেছে।

মহাস্থানগড়ে প্রায় ৩০/৪০টি কটকটির দোকান রয়েছে। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবারে অর্থাৎ হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহঃ) এর বিজয় দিবসে ১ থেকে ২ হাজার মণ বিভিন্ন প্রকার কটকটি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে থাকে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর