শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৪:২৪
প্রিন্ট করুন printer

ভালবাসার নিদর্শন ঐতিহাসিক সুতানাল দীঘি

নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি

ভালবাসার নিদর্শন ঐতিহাসিক সুতানাল দীঘি

পৃথিবীতে ইতিহাস কাঁপিয়ে দেওয়া প্রেম কাহিনী অনেক আছে। কিন্তু এমন প্রেম কাহিনী খুব কমই আছে যার সাক্ষী এখনো পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে ঠায় দাঁড়িয়ে। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অমর সৃষ্টি তাজমহলের কথা যদি ধরা হয়, তাহলে এমন নিদর্শন পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ অনন্য কীর্তির পেছনে ছিল একটি প্রেমের গল্প। 

আর এক প্রেমের উজ্জ্বল নিদর্শন কক্সবাজারের টেকনাফের মাথিনের কূপ। টেকনাফ থানায় অবস্থিত কূপটির নিথর জলে মিশে আছে বিষাদ আর বেদনাবিধুর এক অমর প্রেমের গল্প। জমিদার কন্যা মাথিন ও পুলিশ কর্মকর্তা ধীরাজ ভট্টাচার্যের অতৃপ্ত প্রেমের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই কূপটি। প্রেমের এই নিদর্শন দেখতে প্রতিবছর ভীড় করে পর্যটকরা।
তেমনি এক ভালবাসার নিদর্শন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সুতানাল দীঘি। দীঘিটি কে কখন কোন উদ্দেশে খনন করেছিলেন তার ইতিহাসনির্ভর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকার প্রবীণদের কাছ থেকে জানা যায়, মোগল আমলের শেষের দিকে এ গ্রামে সামন্ত রাজার বাড়ি ছিল। আবার কেউ বলেন- এখানে বৌদ্ধ বিহার ছিল। কথিত আছে সামন্ত রাজা তার স্ত্রী কমলারাণীকে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশের জন্য উপহার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। রাণী তখন রাজাকে বলেন, ভালবাসার নিদর্শন হিসেবে আপনি এমন কিছু দান করুন যা যুগযুগ ধরে মানুষ মনে রাখে। সে মতেই রাজা তখন সিদ্ধান্ত নিলেন অবিরাম একরাত একদিন সুতা কাটা হবে। যে পরিমান সুতা হবে সেই সুতার সমপরিমান লম্বা এবং প্রশস্ত একটি দীঘি খনন করা হবে। এলাকার জনগণ দীঘির পানি ব্যবহার করবে। আর তোমাকে স্মরণ করবে।

এরপর দিনের পর দিন খননকাজ চলে। নির্মিত হয় বিশাল এক দীঘি। এক পাড়ে দাঁড়ালে অন্য পাড়ের লোক চেনা যায় না। কথিত আছে খননের পর দীঘিতে পানি ওঠেনি। িএতে সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ে। কমলারাণী তখন স্বপ্নাদেশ পান “গঙ্গাপুজা কর নরবলি দিয়া,তবেই উঠিবে দীঘি জলেতে ভরিয়া।” স্বপ্ন দেখে রাণী চিন্তিত হয়ে পড়েন। নরবলি না দিয়ে রাণী গঙ্গামাতাকে প্রণতি জানানোর জন্য মহাধুমধামে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দীঘির মাঝখানে গঙ্গাপুজার আয়োজন করা হয়। কমলারাণী গঙ্গামাতার পায়ে প্রার্থনা জানিয়ে বলেন,“কোন মায়ের বুক করিয়া খালি,তোমারে দিব মাতা নরবলি। আমি যে সন্তানের মা,আশায় করিয়া ক্ষমা কোলে তুলিয়া নাও। মা পুর্ণকর তোমার পুজা।”

এরপর হঠাৎ বজ্রপাতের শব্দে দীঘিতে পানি উঠতে লাগল। লোকজন দৌড়ে পাড়ে উঠতে পাড়লেও দীঘির টইটুম্বুর পানিতে রাণী তলিয়ে গেলেন। কমলা রাণী আর তীরে উঠতে পারেননি। সেই থেকে কমলারাণী বা সুতানাল দীঘি নামে পরিচিতি পায় এটি।

উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে মধ্যমকুড়া গ্রামে ৬০ একর জমির ওপর দীঘিটি অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দূরে দীঘিটির অবস্থান। দীঘিটিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর সৌখিন মৎস্য শিকারিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। দূরদূরান্ত থেকে মৎস্য শিকারি ও উৎসুক মানুষের আনাগোনায় এলাকার পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। এ দীঘির মাছ খুব সুস্বাদু বলেও প্রশংসা রয়েছে।

১৯৮৩ সালে এই দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে“সুতানালি দীঘিরপাড় ভূমিহীন মজাপুকুর সমবায় সমিতি।”বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ১১৮ জন। সব সদস্যই দীঘির পাড়ে বসবাস করেন।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:৪৪
প্রিন্ট করুন printer

এ যেন ফুলের সাম্রাজ্য

রোমান চৌধুরী সুমন, নারায়ণগঞ্জ

এ যেন ফুলের সাম্রাজ্য

এ যেন ফুলের সাম্রাজ্য। চোখে না দেখলেই বিশ্বাস করা যাবে না। শুনলে শুধু মনে হবে স্বপ্ন বা কল্প কাহিনী। চারদিকে লাল, নীল, গোলাপী বেগুনি হলুদ, সাদা ও লাল হরেক রকমের বাহারি ফুল। গ্রামের পর গ্রাম ধূ ধূ প্রান্তর যতদূর চোখ যায় শুধু ফুল আর ফুল। এ রকম মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যা দেখতে পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদী গ্রামে গেলে। স্থানীয়সহ নারায়ণগঞ্জ জেলার মানুষ এই গ্রামকে এখন নানা নামে ডাকে। যেমন কেউ বলে ফুলের গ্রাম, কেউ বলে ফুলের রাজ্য বা আর কেউ বা বলে ফুল সাম্রাজ্য। আর একটু শিক্ষিত মানুষ এখন এই গ্রামকে বলে “ফ্লাওয়ার ওয়ার্ল্ড”। মূলত এই গ্রামের মানুষ একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে ফুলের চাষ করে থাকেন। এতে এই গ্রাম থেকে বছরে ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন চাষীরা। এছাড়া প্রতিদিন ঢাকা ও আশপাশ এলাকা থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় জমাচ্ছে ওই গ্রামে।

সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়, সাবদি গ্রাম ছাড়াও পাশের গ্রাম দীঘলদী, মাধবপাশা, আরজাদি, ফেলারদী, আখতলা, মুখ কলদী, শেলসারদী ও বন্দর ইউনিয়নের চৌধুরীবাড়ি, চিনারদী, মোল্লাবাড়ি, কলাবাগ, নবীগঞ্জ, তিনগাঁও এলাকায় জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ করেছেন চাষিরা। ওই গ্রামের জমিগুলোতে বিদেশি জারবেরা, গাঁদা, রজনীগন্ধা, জিপসি, চেরি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, হলুদ গাঁদা, গ্লাডিওলাস, চায়না গাঁদা, কাঠমালতী, কামিনী, বেলি, জবা, গন্ধরাজসহ নানান প্রজাতির ফুল ফুটেছে। কলাগাছিয়া ইউনিয়নের এসব গ্রামের প্রায় ১৫-১৬ হাজার নারী-পুরুষ এ ফুল চাষে এখন স্বাবলম্বী। প্রায় দেড়শ’ হেক্টর আবাদি জমিতে ২৪-২৫ ধরনের ফুল চাষ হচ্ছে। বসন্ত, ফাগুন, ভালোবাসা দিবস, ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে ৪-৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করে থাকেন। এছাড়া। এছাড়া ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নারী-পুরুষ ভিড় জমান সাবদি গ্রামে। 

সাবদির ফুল বাগানের মালিক মো: আনিস মোল্লা জানান, বাগানে চাষ করা হচ্ছে- গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, বাগানবিলাস, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, কসমস,  দোলনচাঁপা, নয়নতারা, মোরগঝুঁটি, কলাবতী, বেলি, জিপসি, চেরি, কাঠমালতি, আলমন্ডা, জবা, রঙ্গন, টগর, কাঠগোলাপ, রক্তজবা ও ক্যালেন্ডুলা। 

তিনি আরো বলেন, ফলন ভালো হলে লাভ বেশি হয়। তবে ফুল চাষের জন্য মানসম্পন্ন বীজ, চারা ও টিস্যু কালচারের জন্য গবেষণাগার নেই। স্বল্প সুদে ঋণের সুবিধা পাওয়া যায় না। উৎপাদিত ফুল সংরক্ষণে কোনো হিমাগার এবং বাজারজাত করারও ভালো ব্যবস্থা নেই। এসব সমস্যার সমাধান হলে এ গ্রামে ফুলের চাষ আরো বাড়বে, আগ্রহী হবে কৃষকরা। এতে এক সময় এখান থেকে অর্ধ শত কোটি টাকা ফুল বিক্রি করা সম্ভব। 
সেলশারদি গ্রামের ফুল চাষিরা বলেন, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভালোবাসা দিবস, পহেলা বৈশাখ, ২১শে ফেব্রুয়ারিসহ নানা দিবস ছাড়াও বিয়ে, জন্মদিন পূজা-পার্বণে ফুলের বেশ চাহিদা থাকে। এ সময় দামও ভালো পাওয়া যায়। 
ওই গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মোজাফ্ফর মিয়া জানান, ১৯৮০ সালের দিকে কাঠমালতী ও গাঁদা ফুল দিয়ে বন্দর উপজেলার সাবদীতে ফুলের চাষ শুরু হয়। ধীরে ধীরে কৃষিজমিতে এই ফুল চাষ সম্প্রসারিত হতে থাকে। এখানকার প্রতিটি বাড়ির সীমানা, সড়কের দুপাশে কাঠমালতীসহ বিভিন্ন ফুলের গাছ লাগানো রয়েছে। ফুল চাষ করে স্থানীয় লোকজন এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:৪৩
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:৫৭
প্রিন্ট করুন printer

গরম তেলে হাত নেড়েচেড়ে পিঁয়াজু-বেগুনি ভাজার দৃশ্য ভাইরাল!

অনলাইন ডেস্ক

গরম তেলে হাত নেড়েচেড়ে পিঁয়াজু-বেগুনি ভাজার দৃশ্য ভাইরাল!

ফুটন্ত গরম তেলে খালি হাত নেড়েচেড়ে পিঁয়াজু-বেগুনির মতো খাবার ভাজেন এক ব্যক্তি। অবিশ্বাস্য হলেও সবাইকে তাক লাগিয়ে এভাবেই গত ৩৭ বছর ধরে সাতক্ষীরার নলতা হাসপাতাল মোড়ে মুখোরোচক খাবার বিক্রি করে আসছেন সুনীল দাস।

প্রতিদিনই এই দৃশ্য দেখতে ও খাবার কিনে খেতে সেখানে ছুটে আসেন বহু কৌতুহলী মানুষ। সম্প্রতি সুনীল দাসের পিঁয়াজু ও বেগুনি ভাজার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেটদুনিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তিনি শুধু এসব মুখোরোচক খাবার ভাজছেনই না, বরং কড়াইয়ের গরম তেল মুখে দিচ্ছেন ও গায়ে মাখছেন।

বিস্তারিত দেখুন এই ভিডিওতে (সৌজন্যে চ্যানেল ২৪)

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৮:১৮
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১১:৫৭
প্রিন্ট করুন printer

অ্যান্ডোরফিনস+অক্সিটোসিন= ভালোবাসা

শামছুল হক রাসেল

অ্যান্ডোরফিনস+অক্সিটোসিন= ভালোবাসা

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এখন পালিত হয় এ দিনটি। বাধা পেলে আরও ঘনীভূত হয় ভালোবাসার তেজ। সামনের পথ রুদ্ধ হলে গোপনে চলে নীরব বিপ্লব। ভালোবাসায় যেমনটি রয়েছে আবেগের ভূমিকা, তেমনি রয়েছে হরমোনসহ অনেক রাসায়নিক উপাদানের ক্রিয়া-বিক্রিয়ার গোপন চাল। এজন্য ভালোবাসার ব্যবচ্ছেদ ও রসায়ন জানা জরুরি। অন্তর্গত রাসায়নিক পরিবর্তন আমাদের চিত্তে ঝলসে ওঠে, পাল্টে দেয় জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রেম-রোমান্সের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হতে থাকে কামের নেশা। নেশা ও কাম তাই একই মুদ্রার দুই পিঠ। তখন সবকিছু আর আবেগের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ মধ্যে থাকে না। রাসায়নিক উপাদানের সুতীব্র টানে খুলে যায় আদিম খোলস। এমন একটি উপাদান হচ্ছে ইস্ট্রোজেন হরমোন। এটিকে স্ত্রী হরমোন বলা হয়। আর একটি হচ্ছে টেস্টোস্টেরন বা পুরুষ হরমোন। নারী-পুরুষের শারীরিক গড়ন নির্ভর করে এ দুটি হরমোনের আনুপাতিক হারের ওপর। শারীরিক গড়ন, কাম-তৃষ্ণা ছাড়াও রোমান্টিক আবেগ অনুভূতির সঙ্গেও রয়েছে ইস্টোজেন এবং টেস্টোস্টেরনের গোপন খেলা। রাসায়নিক উপাদানের বিক্রিয়ার ফলে প্রেম-ভালোবাসা এবং মানবিক তীব্র আবেগীয় অনুভূতিগুলো নিয়ন্ত্রিত হয়।

মূলত দু’জন মানব-মানবী দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার কারণে একটি অদৃশ্য মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে যান। এ বাঁধনে শক্ত গিঁট এঁটে দেয় অ্যান্ডোরফিনস নামক রাসায়নিক উপাদান এবং অক্সিটোসিন নামক হরমোন। অ্যান্ডোরফিনস দুজনার মাঝে শান্ত-সৌম্য নিরাপত্তার অনুভূতি জাগায়, উন্মাতাল ঢেউ জাগায় না। প্রধানত উত্তাল অনুভূতি তৈরি হয় কমবয়সী প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে। কম বয়সের প্রেম দ্রুত মিলিয়ে গেলেও নিঃশেষ হয়ে যায় না। এদের প্রেম পাত্র থেকে পাত্রে সঞ্চারিত হয়। নতুন মুখ, নতুন চোখ, নতুন হাসি তুমুল উদ্দীপনায় আবার ব্রেইনকে উদ্দীপ্ত করে। নতুন প্রেমের জোয়ার পুনঃউদ্যমে আবার চলে আসে এভাবেই। পক্ষান্তরে এন্ডোরফিনসের কারণে ভালোবাসায় স্থিতি আসে বিধায় প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রী নিজেদের অনেক ভুলত্রুটি সয়ে নিতে পারে। হুট করে এদের ভালোবাসা চলে যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, অব্যাহত অকৃত্রিম দেহমিলনের ফলে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান দেহের ভেতর উৎপাদিত হয়। অক্সিটোসিন তখন অ্যান্ডোরফিনসের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এন্ডোরফিনস মনকে শান্ত করে, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দূর করে। বিজ্ঞানীরা এ রাসায়নিক উপাদানকে মাদক জাতীয় নির্ভরতা বলে চিহ্নিত করেছেন। মাদকদ্রব্য যত বেশি নেওয়া হয় তত নেশা গাঢ় হয়, নির্ভরশীলতা ততই বেড়ে যায়। দেহমিলনও অনেকটা সে রকম। এ জন্যই অব্যাহত দেহমিলনকে দাম্পত্য বন্ধনের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন অনেক গবেষক। দৃশ্যমান বন্ধনের মূল পর্ব দেহমিলন হলেও মূল বন্ধনকে মহিমান্বিত করে অক্সিটোসিন। এ রাসায়নিক উপাদানটিকে তাই অফুরন্ত ভালোবাসার উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এছাড়া, যখন কোনো মানুষ প্রেম বা ভালোবাসায় জড়ায় তখন সে তুলনামূলক শান্ত থাকে। বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলতে গেলে সে সময়টা মানুষের প্যারাসিম্পেথিটিক অ্যাক্টিভিটিস বাড়ে। অর্থাৎ সে তখন অন্যের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও সদাচরণ বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় বুকের ধড়ফড় কমে। এতে করে ভালো ঘুম হয়। সব মিলিয়ে আচার আচরণে পরিবর্তন আসে। এমনকি মনের অজান্তে গুনগুনিয়ে গান গাইতে থাকে। ভালোবাসায় জড়ালে বা কাউকে মনেপ্রাণে ভালোবাসলে এক কথায় প্রেমে পড়লে ব্রেন থেকে পিরোটরিন ও অ্যান্ডোরফিনস নিঃসরিত হয়।

ফলে কাজকর্মে সতেজতা পাওয়া যায়। এ কারণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ভালোবাসা জরুরি।

পরিশেষে একটা কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে একজনকে ভালোবেসে ফেললাম, বিশ্ব জয় করে নিলাম। এটিই বড় প্রাপ্তি নয়। আসল স্তম্ভ হচ্ছে, ভালোবাসা জাগ্রত হওয়ার পর এটি টিকিয়ে রাখারও প্রচেষ্টা থাকতে হবে ভিতরে ভিতরে। ভালোবাসা থেকেই মনের ভিতর একটি ছোট্ট চারাগাছ প্রোথিত হয়েছে। গাছটিকে বড় করতে হবে, ফুল ফোটাতে হবে গাছে। এ জন্য চাই পরিচর্যা। তাই ভালোবাসা বা প্রেমে জড়ানোটা বড় কথা নয়, টিকিয়ে রাখাটাই আসল। সেটাকে লালন করতে হবে। এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে ভালোবাসার শিখরে। 

তথ্যসূত্র: মনোরোগ ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৩৪
আপডেট : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৩৫
প্রিন্ট করুন printer

দিনাজপুরে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ধানের বীজ রোপণ

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর

দিনাজপুরে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ধানের বীজ রোপণ

শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি, সময়মত কৃষি কাজ সম্পাদন, পণ্যের উৎপাদন খরচ কমানো, কর্তনোত্তর অপচয় রোধ, শ্রমিকের কায়িক শ্রম লাঘব ও অভাব পূরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করণ, উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষিকে আধুনিক ও আকর্ষণীয় পেশায় পরিণত করার জন্য কৃষিতে আধুনিক ও লাগসই যান্ত্রিকায়ন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাইব্রিড ধানের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমলয়ে চাষাবাদে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ধানের চারা রোপণ উদ্বোধন করা হয়েছে। 

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউপির শীতলাই গ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বীরগঞ্জের ব্যবস্থাপনায় ৫০ একর জমিতে হাইব্রিড ধানের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমলয়ে চাষাবাদে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ধানের চারা রোপণ করা হয়। 

উপকারভোগী কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, কম খরচে সঠিক সময়ে ও সঠিক নিয়মে চাষাবাদের ফলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। এটা করতে ট্রেতে চারা উৎপাদন পদ্ধতি, পরিচর্যা ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমলয়ে চাষাবাদে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ধানের চারা রোপণ করতে হবে। 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমলয়ে চাষাবাদে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ধানের চারা রোপণ উদ্বোধনকালে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম, কৃষি প্রকৌশলী বদরুদ্দোজা, উপজেলা কৃষি অফিসার আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বৃন্দসহ কৃষক-কৃষাণীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতি বছর আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু আবাদি জমি হ্রাস পাচ্ছে। তদুপরি দেশে ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নের ফলে কৃষি শ্রমিকের অভাবে খাদ্য উৎপাদন দারুণ ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 

বর্তমানে বীজ, সার, কীটনাশক ব্যবহার করে একর প্রতি ফলন বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক ও লাগসই কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপচয় রোধ করে কম খরচে সঠিক সময়ে ও সঠিক নিয়মে চাষাবাদের ফলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। এসময় তিনি ট্রেতে চারা উৎপাদন পদ্ধতি, পরিচর্যা ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমলয়ে চাষাবাদে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ধানের চারা রোপণ করতে হবে। 

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:০৯
প্রিন্ট করুন printer

পটুয়াখালীতে গোলগাছে সফলতা

উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীতে গোলগাছে সফলতা

দক্ষিণাঞ্চলের ফসল গোল গাছ। ডগা থেকে বেরিয়ে আসছে মিষ্টি রস। সেই রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু গুড় দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র অর্থকারী ফসল গোল গাছ। এ গাছের নাম গোলগাছ হলেও দেখতে কিছুটা নারিকেল পাতার মতো। নোনাজলে জন্ম, নোনা সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। অথচ এর ডগা থেকে বেরিয়ে আসছে মিষ্টি রস। সেই রস দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়। সুস্বাদু এই গুড়ের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রায় শতাধিক কৃষক এ গাছে রস ও গুড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। প্রতি বছরই শীতের শুরুতে প্রতিদিন সূর্য ওঠার সাথে সাথে কৃষক বেরিয়ে পড়েন এ গাছের রস সংগ্রহ করতে। এরপর বাড়ির উঠানে বসে শুরু হয় রস দিয়ে গুড় তৈরির কাজ। সেই গুড় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে চলছে এসব কৃষকদের জীবন-জীবিকা। কিন্তু জলবায়ুর প্রভাবসহ প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ, চাষাবাদের জমি বৃদ্ধি এবং অসাধু একশ্রেণির বনকর্মীর কারণে ক্রমশই ধ্বংস হতে বসেছে গোল গাছ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল সুন্দরবনসহ দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে গোলগাছ রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালি, গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল, বরগুনার আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, ভোলা ও খুলনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাসহ চরাঞ্চলে গোলগাছের বাগান রয়েছে। শীত মৌসুমে গোলবাগানের মালিকরা এর রস দিয়ে গুড় উৎপাদন করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করে থাকেন। এর রস দিয়ে সুস্বাদু পায়েস তৈরি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট গোল গাছের মালিকরা জানান, প্রতিটি গোলগাছের পাতাসহ উচ্চতা হয় ১২ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত। এর ফুল হয় হলুদ এবং লাল। গোলপাতা একটি প্রকৃতিনির্ভর পাম জাতীয় উদ্ভিদ। এই ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদটি নদী-খালের কাদামাটি আর পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয়। তবে গোলগাছ চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক, সহজসাধ্য এবং ব্যয়ও খুব কম। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োজন হয় না। এতে কোনো পরিচর্যা করতে হয় না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামে প্রতিদিন সকালে কৃষকরা গোল বাগান থেকে সংগৃহীত রস বাড়ির উঠানে নিয়ে আসেন। আর সেই রস গৃহবধূরা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে ঢোঙ্গায় গোলের রস রাখনে। এরপর তাফালে কুটা দিয়ে আগুন ধরিয়ে রস দিয়ে তৈরি করেন গুড়। ওই গ্রামের সুনিতি রানী সকালে বাড়ির উঠানে রস থেকে গুর তৈরির কাজে ব্যস্ত। এসময় তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বাবারে গুড়ে পাক ধরেছে। এখন কথা বলার সময় নেই। একটু বসতে হবে।

অপর এক গৃহবধূ বিথীকা বলেন, প্রতি বছর এই সময় রস জাল দিতে হয়। এ থেকেই তৈরী হয় গুড়। আগে অনেক বেশি গুড় হত। এখন কমে গেছে। নবীপুর গ্রামে গোল গাছ চাষি নির্মল গাইন বলেন, প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে উঠে কলস নিয়ে বাগানে যেতে হয়। এরপর প্রতিটি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে হয়। অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু করে রস সংগ্রহ করা হবে চৈত্র মাস পর্যন্ত।

একই গ্রামের পরিমল হাওলাদার বলেন, বাগানে ৪০০ ছড়া ধরেছে। প্রতিদিন সকালে ৮ এবং বিকালে ২ কলস রস হয়। এই থেকে  প্রায় ১০০ কেজি গুড় তৈরি করি।

গোল গাছ চাষি নিঠুর হাওলাদার বলেন, তার বাগান থেকে প্রতিদিন ৪ কলস রস বের হয়। এতে মোট ১৩ কেজি গুড় আসে। এ গুড় কেজি প্রতি ১০০ টাকা দরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। তবে তাদের জীবিকার একটি অংশ বছরের এ সময়ে গোল গাছ থেকে আসে বলে তারা জানিয়েছেন।

বন বিভাগের কলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, এ উপজেলার চাকামইয়া, নীলগঞ্জ ও টিয়াখালীর ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০ হাজার গোলগাছের বীজ রোপণ করা হয়েছে। এতে ব্যাপক সফলতা পেয়েছি। এ বছর আরো ২০ হাজার গোলগাছের বীজ রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ গাছগুলো উপকূলীয় এলাকার প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর