শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ জুন, ২০২১ ১০:২২
প্রিন্ট করুন printer

সুনামগঞ্জের প্রাচীন পুরাকীর্তির নিদর্শন ‘পাইলগাঁও জমিদার বাড়ি’

সাইফুল ইসলাম বেগ

সুনামগঞ্জের প্রাচীন পুরাকীর্তির নিদর্শন ‘পাইলগাঁও জমিদার বাড়ি’
পাইলগাঁও জমিদার বাড়ি’
Google News

অজো পাড়া গায়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে, আজও প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্যের জানান দিচ্ছে ‘পাইলগাঁও জমিদার বাড়ি’। স্বাক্ষ্য দিচ্ছে কালের বিবর্তনের। তিনশত বছরেরও বেশি পুুরনো, পুুরাকীর্তির অন্যতম নিদর্শন বাড়িটি এখন পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুু। 

প্রতিদিনই কাঁচা-পাকা মেঠোপথ মাড়িয়ে বাড়িতে ছুটছেন দেশি-বিদেশী মানুষ। ইট-পাথরে লেগে থাকা ইতিহাস ঐতিহ্যের গল্প ও স্থাপত্যশৈলী দেখতে ভীড় করছেন তারা। পাইলগাঁও জমিদার বাড়ি সুনামগঞ্জের প্রচীন পুুরাকীর্তির অন্যতম নিদর্শন ও প্রধান দর্শনীয় স্থান।

জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামে ঐতিহ্যবাহী এ জমিদার বাড়ির অবস্থান। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘বাবুর বাড়ি’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। জমিদারির নিদর্শন হিসেবে গ্রামে আজও দাঁড়িয়ে আসে এই প্রাসাদ। প্রায় সাড়ে পাঁচ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত বাড়ি বহন করছে এ অঞ্চলের প্রচীন ইতিহাস ঐতিহ্য।

সরেজমিন পাইলগাঁও জমিদার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বড় দিঘি’র পাড়েই দাঁড়িয়ে আছে একাধিক দরজা বিশিষ্ট স্থাপনা। এটি ছিল জমিদারি কার্যে ব্যবহৃত প্রধান অফিস। এর একটু পেছনেই ‘বাংলো’ ও ভোগ মন্দির। তার পেছনে পারিবারিক মহল। 

পেছনে শান বাঁধানো দ্বিতীয় দিঘি। মহলের একপাশে রয়েছে রক্ষীদের স্থাপনা ও কাছারি ঘর। ওখানে বিচারকার্য শেষে ঘরের পাশেই, বড় দেয়ালের ছোট কামরার জেলে রাখা হতো সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের। জমিদার বাড়ির অধিকাংশ স্থাপনাই এখন হারিয়েছে জৌলুস। খসে পড়েছে ইট। ‘বাংলো’র মাটির চালা। দেয়াল ও দরজা নেই অধিকাংশ স্থাপনার। কাছারি ঘর গ্রাস করেছে গাছ-গাছালি ও লতাপাতায়।

জমিদার বাড়ি দেখতে আসা স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী রোজিনা ও মোমিনা জানান, ‘বাবু’র বাড়িতে এসে আগেকার দিনে মানুষের জীবন-যাত্রা ও স্থাপনা সম্পর্কে জানতে পেরে আমরা খুুবই আনন্দিত।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাচীনকালে পাইলগাঁও এ পাল গোত্রের লোকজন বাস করতেন। এ গোত্রের পদ্মলোচনের কন্যা রোহিণীকে বিবাহ করে গৃহ জামাতা হন গৌতম গোত্রের কানাইলাল ধর। তার আট পুরুষ পরে বালক দাস নামের এক ব্যক্তির উদ্ভব হয়। তার কয়েক পুরুষ পর উমানন্দ ধর ওরফে বিনোদ রায় দিল্লীর বাদশা মোহাম্মদ শাহ কর্তৃক চৌধুুরী সনদ লাভ করেন। তার দুই ছেলে মাধব ও শ্রীরামের মধ্যে মাধব রাম জনহিতকর কর্মে এলাকায় সুনাম অজর্ন করেন। পর্যায়ক্রমে জমিদারি বর্ধিত করে এ বংশের প্রভাবশালী জমিদাদের খেতাব অর্জন করেন ব্রজনাথ চৌধুরী। তার পৌত্র ব্রজেন্দ্র নারায়াণই ছিলেন এ বংশের শেষ জমিদার।

ব্রজেন্দ্র নারায়াণ চৌধুরী প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সিলেট বিভাগের কংগ্রেস সভাপতি ও আসাম আইন পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ (চৌহাট্টায় অবস্থিত) ও পাইলগাঁও ব্রজনাথ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯১৩ সালে পাইলগাঁও জমিদার বাড়ি নির্মাণ শুরু হয়ে ১৯২১ সালে শেষ হয়। এটি নির্মাণ করেন ধঞ্জন রাজ মিস্ত্রী। প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে এ অঞ্চলের জমিদারি শাসনামলের পতন ঘটে। ১৯৭১ সালে মুুক্তিযোদ্ধের সময় জমিদাররা ভারতে পাড়ি জমান। এরপর থেকেই পরিত্যক্ত এ জমিদার বাড়ি।

 


বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির 

এই বিভাগের আরও খবর