শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ জুন, ২০২১ ১৮:২৬
প্রিন্ট করুন printer

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি ঝর্ণা

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি:

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি ঝর্ণা
Google News

পাহাড়ের বুক চিরে আছড়ে পড়ছে প্রবহমান সুরূল জলধারা। গুঁড়ি গুঁড়ি জলকনা আকাশের দিকে উড়ে গিয়ে তৈরি হচ্ছে কুয়াশার আভা। স্রোতধারার শীতল কলতানে নিক্কন ধ্বনির উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে চারপাশ। যেন সবুজ অরণ্যের প্রাণের ছোয়ার পরশ এঁকেছে কেউ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপূর্ব নৈসর্গিক সৃষ্টি রাঙামাটির পাহাড়ি ঝর্ণা। 

রাঙামাটি জেলায় অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়ি ঝর্ণা থাকলেও নয়নাভিরাম ও বিস্ময়কর প্রাকৃতিক প্রাচুর্য শুধুমাত্র রাঙামাটির বরকল উপজেলার শুভলং ইউনিয়নে দৃশ্যমান। যা দেখে হৃদয়-মন জুড়ে সৃষ্টি করে শিহরণ। যার রূপ বৈচিত্র আকর্ষণ করে পর্যটকদের। বর্ষাতে পাহাড়ি ঝর্ণা যৌবন ফিরে পেলেও উচ্ছ্বাস নেই পর্যটকদের। করোনার কারণে স্থবির পাহাড়ি ঝর্ণা স্পট। 

জানা গেছে, রাঙামাটির বরকল উপজেলায় ছোট-বড় অন্তত ৮টি ঝর্ণা রয়েছে। এর মধ্যে মূল অর্থাৎ গিরিনির্ঝর ঝর্ণাটি সত্যিই আকর্ষণীয়। প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে বর্ষায় জলধারার অবিরাম পতনে সৃষ্ট নিক্কন ধ্বনিসমেত অপরূপ দৃশ্য না দেখলে কল্পনায়ও সে ছবি আঁকা অসম্ভব। বর্ষার প্রবল বর্ষণে যখন পাহাড় ফিরে পায় তার নব যৌবনা। গিরিনির্ঝর ঝর্ণা তখন ফিরে পায় তার আদিরূপ। অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা এ ঝর্ণা সেজেছে নবরূপে। ঝর্না সতেজতায় পাহাড়ি ঝিরিগুলো হয়ে উঠে প্রাণচঞ্চল। সাঁই সাঁই করে ধেয়ে চলে ঝিরির জলরাশি মিলেছে হ্রদের প্রাণে। বহু আগেই দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতির বিস্তৃতি ঘটেছে রাঙামাটি শুভলং গিরিনির্ঝর ঝর্ণার। পাহাড়ে ঝর্ণার শীতল ও চঞ্চলা জলধারা সকল পর্যটককেই কাছে টানে সহজে। প্রতি বছর বর্ষাতে শুভলং ঝর্ণাতে পর্যটকদের ভিড় জমলেও এবার ভিন্ন চিত্র। টানা লকডাইনে নেই পর্যটক। তাই নেই উৎসবও। 

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের নৌযান ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. রমজান আলী জানান, শুস্ক মৌসুমে ঝর্ণার জলধারা শুকিয়ে গেলেও বর্ষা নিজ রূপবৈচিত্র্যে ফিরে আসে গিরি নির্ঝর। বর্তমানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সেই অপরূপ দৃশ্য বজায় রয়েছে। যার কারণে এ সময় আমাদের ব্যবসাও চাঙ্গা হয়ে উঠতো। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র। করোনার জন্য সব কিছু স্থবির। পর্যটক নেই। তাই বোর্ট ভাড়াও নেই। 

রাঙামাটির শুভলং ঝর্ণার টিকেট বিক্রেতা রিন্টু চাকমা জানান, বর্ষা শুরু হলেই পর্যটকের ঢল নামে সুবলং ঝর্ণা স্পটে। কিন্তু এখন একবারে কোন পর্যটক নেই। তাই অনেকটা নিরিবিলি শুভলং ঝর্ণা। জমে উঠছে না ব্যবসাও। 

অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে শুধু রাঙামাটির শুভলং ঝর্ণা, নয় বৈচিত্রতা ফিরেছে ঘাগড়া কলা বাগান ঝর্ণাতেও। দূর থেকে পানির শব্দ শুনা যায় এ ঝর্ণার । রাঙামাটি-চট্টগ্রারে প্রধান সড়কের পাশে এ ঝর্ণা স্থান। তাই দুর-দুরান্তের পর্যটক নাথাকলেও স্থানীয়দের সরব উপস্থিত রয়েছে ঝর্ণা কেন্দ্রে ।
অভিযোগ রয়েছে, রাঙামাটি জেলাজুড়ে অসংখ্যা সম্ভাবনাময় ঝর্ণা স্পট থাকলেও একটিকেও ঘিরে গড়ে উঠেনি পর্যটন কেন্দ্র। অরক্ষিত ঝর্ণা স্পট বিলীন হয়ে যাচ্ছে নিরবে। 

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 

এই বিভাগের আরও খবর