Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মার্চ, ২০১৯ ২২:৪৯

উপজেলাতেও হাঙ্গামা সংঘর্ষ ব্যালট ছিনতাই

আওয়ামী লীগ ৩৩, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র ১৮ প্রার্থী বিজয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উপজেলাতেও হাঙ্গামা সংঘর্ষ ব্যালট ছিনতাই

উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচনে অধিকাংশ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে। গতকাল রাত দেড়টা পর্যন্ত ৭৮টি উপজেলার মধ্যে ৫২টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে বেসরকারি ফলাফল পাওয়া যায়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা ৩৩টি, দলটির বিদ্রোহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৮টি ও বিএনপির বহিষ্কৃত একজন র্প্রাথী উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া ১৫টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন।  এদিকে জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই, ভোট বর্জন ও হাঙ্গামার মধ্য দিয়ে গতকাল উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ হয়। ব্যালট ছিনতাই-জোরপূর্বক সিল মারাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে এদিন ২৮ কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন-ইসি। বেশ কিছু ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ভোটারশূন্য ছিল অধিকাংশ কেন্দ্র। গল্প করে সময় কাটিয়েছেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা। ভোট জালিয়াতি ও ‘অনিয়মে’ জড়িত থাকার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জসহ অনেক জেলায় বেশ কয়েকজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে আটক ও কারাদ  দেওয়া হয়। গতকাল প্রথম ধাপে চার বিভাগের ১২ জেলার ৭৮ উপজেলায় ভোট গ্রহণ হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। প্রথম ধাপের ভোটে ৭৮ উপজেলায় ভোটারসংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০। ভোট কেন্দ্র ৫ হাজার ৮৪৭টি। ৭৮ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২০৭, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৮৬ ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৪৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল প্রথম ধাপের ভোটে সংঘাত আর অনিয়মের কারণে হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে বানিয়াচংয়ের শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইকরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়েছে সংঘর্ষের কারণে। আর ব্যালট পেপার ছিনতাই হওয়ায় আজমিরীগঞ্জের পশ্চিমবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদ মোবারক জানান, সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। এ ছাড়া আহত পুলিশ কনস্টেবল জামাল উদ্দিনকে গুরুতর অবস্থায় দুপুরে ঢাকায় আনা হয়। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন জানান, বানিয়াচংয়ের ইকরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হলে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর ব্যালট পেপার ছিনতাই হলে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পশ্চিমবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট দুপুর ১২টার দিকে স্থগিত করা হয়। ব্যালট ছিনতাইসহ অনিয়মের ঘটনায় কুড়িগ্রামের পাঁচ উপজেলার ১৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে হোকোডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবু বকর সিদ্দিক জানান, সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পর ৯টা ১০ মিনিটে একদল লোক ৭ নম্বর বুথে হামলা চালিয়ে একটি ব্যালট বাক্স, তিনটি ব্যালট বই ছিনিয়ে নেয়। মদিনাতুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মিজানুর রহমান জানান, সকাল ১০টা ০৫ মিনিটের দিকে ওই কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে বেশ কিছু ব্যালট বই ছিনতাই করা হয়। পরে কিছু উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ২০০ বই পাওয়া যায়নি। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে নাগেশ্বরীর কুটি নাওডাঙ্গা ফোরকানিয়া এবতেদায়ি মাদ্রাসা কেন্দ্রে ব্যালট বই ছিনতাই করে সিল মারার অভিযোগে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয় বলে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সাদিকুর রহমান জানান। সদর উপজেলার শিবরাম প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে একদল লোক ৭ নম্বর বুথে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্সে ঢোকায়। এরপর আরও ব্যালট পেপার দেওয়ার জন্য আমাকে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বাধ্য হয়ে এই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।’ নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে-ইসি সচিব : নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, প্রথম ধাপে যে নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচন কমিশন মনে করে নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সচিব বলেন, ৭৮টি উপজেলার মধ্যে ৫ হাজার ৮৪৭টি কেন্দ্রে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২৮টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে। এগুলোতে পরে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোয় সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, সিরাজগঞ্জে দুজন প্রিসাইডিং ও একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের সহকারী রিটার্নিং ও একজন পোলিং অফিসার এবং সুনামগঞ্জে দুজন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন ১০ জনের বেশি ব্যক্তিকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রংপুর বিভাগ : পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলার মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিজয়ীরা হলেনÑ তেঁতুলিয়ায় কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু, সদরে আমিরুল ইসলাম, আটোয়ারীতে তৌহিদুল ইসলাম,  বোদায় ফারুক আলম। দেবীগঞ্জে (স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) মালেক চিসতি।  লালমনিরহাটে ৪টি উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন- সদরে কামরুজ্জামান সুজন (স্বতন্ত্র), কালিগঞ্জে মাহাবুবুজ্জামান আহমেদ (আ’লীগ), হাতীবান্ধায় মশিউর রহমান মামুন (স্বতন্ত্র), পাটগ্রামে রুহুল আমিন বাবুল (আওয়ামী লীগ)।  নীলফামারীর ৪টি উপজেলার মধ্যে ৩টিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের ডিমলায় মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম, সৈয়দপুরে মোকছেদুল মোমিন, ডোমারে তোফায়েল আহম্মেদ ও কিশোরগঞ্জে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) শাহ্ আবুল কালাম বারী পাইলট। রাজশাহী বিভাগ : রাজশাহীর সব উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন-দুর্গাপুরে নজরুল ইসলাম, বাগমারায় অনিল সরকার, চারঘাটে ফকরুল ইসলাম, তানোরে লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না, গোদাগাড়ীতে জাহাঙ্গীর আলম ও পুঠিয়ায় জিএম হিরা বাচ্চু। জয়পুরহাটের ৫টি উপজেলার মধ্যে সদর ও পাঁচবিবিতে কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন জয়পুরহাট সদরে আওয়ামী লীগের এস এম সোলায়মান আলী এবং পাঁচবিবিতে মনিরুল শহীদ ম ল। কালাইয়ে আওয়ামী লীগের মিনফুজুর রহমান মিলন, ক্ষেতলালে মোস্তাকিম ম ল এবং আক্কেলপুরে (স্বতন্ত্র) আবদুস সালাম আকন্দ। নাটোরে পাঁচ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রার্থী তিনটিতে এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দুটিতে জয়লাভ করেছেন। বিজয়ীরা হলেনÑ আওয়ামী লীগের সিংড়ায় শফিকুল ইসলাম শফিক, লালপুরে মো. ইসাহাক আলী, গুরুদাসপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন, বাগাতিপাড়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী অহিদুল ইসলাম ও বড়াইগ্রামে আওয়ামী লীগের ডা. সিদ্দিকুর রহমান এগিয়ে রয়েছেন। 

সিরাজগঞ্জের ৮টি উপজেলার আওয়ামী লীগের ৩ জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ২ জন নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন- রায়গঞ্জ উপজেলায় অ্যাডভোকেট ইমরুল হোসেন তালুকদার ইমন (আওয়ামী লীগ), চৌহালী উপজেলায় ফারুক সরকার (আওয়ামী লীগ), শাহজাদপুর উপজেলায় আজাদ রহমান (আওয়ামী লীগ) এবং তাড়াশ উপজেলায় মনিরুজ্জামান মনি (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী)। ময়মনসিংহ বিভাগ : জামালপুরের ৩টি উপজেলার মধ্যে ২টিতে স্বতন্ত্র, ১টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেনÑবকশীগঞ্জ (স্বতন্ত্র) আবদুর রউফ তালুকদার, ইসলামপুরে (আওয়ামী লীগ) জামাল আবদুন নাছের বাবুল ও দেওয়ানগঞ্জে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) সোলাইমান হোসেন।

নেত্রকোনা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী যারা- আওয়ামী লীগের মোহনগঞ্জে শহীদ ইকবাল, খালিয়াজুরীতে গোলাম কিবরিয়া জব্বার, কলমাকান্দায় আবদুল খালেক, মদনে মো. হাবিবুর রহমান ও বারহাট্টা উপজেলায় স্বতন্ত্র মুহাম্মদ মাইনুল হক, দুর্গাপুরে (স্বতন্ত্র) জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা। সিলেট বিভাগ : সুনামগঞ্জের নয়টি উপজেলায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগ, তিনটিতে দলটির বিদ্রোহী এবং একটিতে নির্বাচন করার কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সুনামগঞ্জ সদরে খায়রুল হুদা চপল, শাল্লায় আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (আল-আমিন চৌধুরী), তাহিরপুরে করুণা সিন্ধু বাবুল, ছাতকে মো. ফজলুর রহমান, দোয়ারাবাজারে ডা. মো. আবদুর রহিম। এ ছাড়া  আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বিশ্বম্ভরপুরে সফর উদ্দিন, দিরাইতে মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী, ধর্মপাশায় মোজাম্মেল হোসেন রুকন এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বিএনপির সহ-সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফারুক আহমদ। নেত্রকোনায় কর্মকর্তাদের অলস সময় : নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসভার সায়মা শাহজাহান একাডেমি কেন্দ্রে ভোট শুরুর পর থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৫০টি ভোট পড়েছে। কেন্দ্রের বাইরে কিছুটা ভিড় থাকলেও ভোট কেন্দ্র ছিল প্রায় ভোটারশূন্য। বেলা ২টায় সদর উপজেলার আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় আড়াই হাজার ভোটারের মধ্যে আড়াইশ ভোট পড়েছে বাক্সে।

 সোয়া ২টায় শহরের দত্ত উচ্চবিদ্যালয়ে ২৪০০ ভোটারের মধ্যে ৫০০ ভোট পড়েছে। বেশির ভাগ কেন্দ্রেই অলস সময় কাটিয়েছেন পোলিং অফিসারসহ আনসার-পুলিশ সদস্যরা। অনেকক্ষণ পর পর দু-একজন করে আসেন। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম।

রাজশাহীতে গল্প-আড্ডায় ভোট পার : রাজশাহীর আট উপজেলায় গল্প আর আড্ডা দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা। সকালে তানোর উপজেলার হাপানিয়া কেন্দ্রে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছেন প্রার্থীর সমর্থকরা। আর গোদাগাড়ীতে জাল ভোট দেওয়ার সময় দুই সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও এক পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়েছে। জেলার সব উপজেলায় ছিল নিরুত্তাপ ভোট। অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের দেখাই পাওয়া যায়নি। ভোটার না থাকায় ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার সদস্য থেকে শুরু করে পোলিং এজেন্টরাও যেন গল্প-আড্ডায় সময় পার করেছেন।

লালমনিরহাটে ভোটার কম : লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় সকালে ভোট শুরুর পর কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি অনেক কম ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে। ভোট শুরুর পর জেলার কালিগঞ্জের বাণীনগর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে প্রিসাইডিং অফিসারসহ চারজনকে আটক করে র‌্যাব। পাটগ্রামের ভোটবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের অনিয়মের অভিযোগে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়। ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে কালিগঞ্জ উপজেলার লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী নাহিদ বেলা ৩টার দিকে ভোট বর্জন করেন।

সুনামগঞ্জে বিক্ষিপ্ত গোলযোগ : সুনামগঞ্জের নয়টি উপজেলায় বিক্ষিপ্ত গোলযোগের মধ্য দিয়ে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি ছিল অনেকটাই কম। দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ী কেন্দ্রে বেলা ১১টায় গিয়ে দেখা গেছে, বিচ্ছিন্নভাবে দু-একজন ভোটার আসছেন। ৩ হাজার ৫৮৮ ভোটের মধ্যে তিন ঘণ্টায় ভোট পড়েছে একশর মতো। এদিকে কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলার বেশকটি স্থানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের। তাহিরপুর, শাল্লা ও ধর্মপাশা উপজেলায় ভোট গ্রহণ চলাকালে আটটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকরা বাধা দেন। এতে সংঘর্ষ বাধে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশত।

জয়পুরহাটে জেলা-জরিমানা ও ভোট বর্জন : জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কুসুম সাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১০টায় জাসদ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় নৌকার দুই কর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে দুপুরে কালাই প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া এবং কেন্দ্র দখলের অভিযোগ জানিয়ে জাসদ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তারেকুল ইসলাম মিলন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এক ইউপি সদস্যকে ১০ দিনের কারাদ  এবং জাল ভোট প্রদানের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়। এদিকে নাটোরের লালপুর উপজেলায় ভোটারদের প্রভাবিত করার অপরাধে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে সাত দিনের কারাদ  দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সিংড়া উপজেলায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে দুই আওয়ামী লীগ সমর্থককে আটক করেছে স্ট্রাইকিং ফোর্স। ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় নীলফামারীতে সাতজনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

যারা বিজয়ী হলেন : রংপুর বিভাগ : পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলার মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিজয়ীরা হলেন- তেঁতুলিয়ায় কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু, সদরে আমিরুল ইসলাম, আটোয়ারীতে তৌহিদুল ইসলাম, বোদায় ফারুক আলম। দেবীগঞ্জে (স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) মালেক চিসতি। লালমনিরহাটে ৪টি উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন- সদরে কামরুজ্জামান সুজন (স্বতন্ত্র), কালিগঞ্জে মাহাবুবুজ্জামান আহমেদ (আওয়ামী লীগ), হাতীবান্ধায় মশিউর রহমান মামুন (স্বতন্ত্র), পাটগ্রামে রুহুল আমিন বাবুল (আওয়ামী লীগ)। নীলফামারী ৪টি উপজেলার মধ্যে ৩টিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) বিজয়ী হয়েছেন। ডিমলায় আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম, সৈয়দপুরে মোকছেদুল মোমিন, ডোমারে তোফায়েল আহম্মেদ ও কিশোরগঞ্জে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) শাহ্ আবুল কালাম বারী পাইলট বিজয়ী হয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগ : রাজশাহীর সব উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন- দুর্গাপুরে নজরুল ইসলাম, বাগমারায় অনিল সরকার, চারঘাটে ফকরুল ইসলাম, তানোরে লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না, গোদাগাড়ীতে জাহাঙ্গীর আলম ও পুঠিয়ায় জিএম হিরা বাচ্চু। জয়পুরহাটের ৫টি উপজেলার মধ্যে সদর ও পাঁচবিবিতে কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। জয়পুরহাট সদরে আওয়ামী লীগের এস এম সোলায়মান আলী এবং পাঁচবিবিতে মনিরুল শহীদ ম ল। কালাইয়ে আওয়ামী লীগের মিনফুজুর রহমান মিলন, ক্ষেতলালে মোস্তাকিম ম ল এবং আক্কেলপুরে (স্বতন্ত্র) আবদুস সালাম আকন্দ। ময়মনসিংহ বিভাগ : জামালপুরের ৩টি উপজেলার মধ্যে ২টিতে স্বতন্ত্র, ১টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন- বকশীগঞ্জ (স্বতন্ত্র) আবদুর রউফ তালুকদার, ইসলামপুরে (আওয়ামী লীগ) জামাল আবদুন নাছের বাবুল ও দেওয়ানগঞ্জে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) সোলাইমান হোসেন।


আপনার মন্তব্য