শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ মে, ২০১৯ ২৩:২২

আত্মত্যাগের শিক্ষা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

আত্মত্যাগের শিক্ষা

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হলো মানুষ। আর সেই মানুষের ব্যক্তিগত স্বভাব-চরিত্র, আচার-আচরণ, তার ইহসান সবই আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশ ও নির্দেশনা অনুযায়ী হওয়ার মাধ্যমে সেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায়। বান্দার ব্যক্তিগত চারিত্র্যিক উৎকর্ষতা ছাড়া তার কোনো আমল ও ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। ইহসানের মূল কথা হলো- ক্রোধ, লোভ, মোহ, হিংসা-বিদ্বেষ, গিবত, অপবাদ, মিথ্যা, অহংকার ইত্যাদি মন্দ স্বভাব থেকে পাক-পবিত্র হয়ে ইখলাস, আমানতকারী, বিনয় ও নম্রতা, সততা ও ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি উত্তম চরিত্রের দ্বারা নিজেকে সুশোভিত করা। এর জন্য নিরলস সাধনা ও চেষ্টা প্রয়োজন। আত্মত্যাগের মহান আদর্শ ছাড়া এ সাধনায় সফল হওয়া যায় না। খোদার নৈকট্য লাভ, তার প্রিয় বান্দা হিসেবে আশরাফুল মাখলুকাত হতে হলে মানুষকে আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সব সময় আত্মশুদ্ধির চেষ্টায় থাকতে হবে। বস্তুত আত্মাই দেহকে পরিচালিত করে, দেহ আত্মাকে নয়। সহিহ বুখারি শরিফের ইমান অধ্যায়ে রাসুলে করিম (দ.) ইরশাদ করেছেন- ‘নিশ্চয়ই মানুষের শরীরে একটি গোশতের টুকরা আছে। তা বিশুদ্ধ থাকলে গোটা শরীর সুস্থ থাকে। আর তা বিনষ্ট হলে গোটা শরীরই ব্যধিগ্রস্ত হয়ে যায়। জেনে রাখ ওই গোশতের টুকরাটি হল মানুষের কালব বা আত্মা।’ আল কোরআনের ১৮তম সুরা আল কাহফের ১৯ ও ২০ আয়াতে, ৭৪তম সুরা মুদাসিসরের ৭ আয়াতে, ৮২তম সুরা আল ইনফিতারের ৬ ও ৭ আয়াতে, ১০৩তম সুরা আসরের ৩ আয়াতে তাকওয়া অর্জনের উপায় হিসেবে আত্মশুদ্ধি, আত্মত্যাগ এবং আত্মোৎসর্গের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে প্রত্যেক মানুষ তার নিজের কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠাবান হলে এবং দুনিয়ার তথা আরাম-আয়েশ, সম্পদ-বৈভব অর্জনে অন্ধ না হয়ে একে অপরের সাহায্য-সহযোগিতার মানসিকতার দ্বারা উদ্বুদ্ধ হলে তার জন্য রয়েছে অশেষ কল্যাণ। আমরা নিজের জন্য যা ভালো-মন্দ মনে করি অন্যের জন্য তাই মনে করতে হবে, অন্যের কল্যাণ চিন্তায় এনে তার সাহায্য-সহযোগিতায় আসতে হলে নিজের স্বার্থ বা আত্মত্যাগের প্রয়োজন পড়বে। একমাত্র মানুষকে দেওয়া হয়েছে এ উপলব্ধির ক্ষমতা এবং সে সূত্রে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সাব্যস্ত করে দেওয়া হয়েছে বলেই আত্মত্যাগের মাধ্যমে মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত হওয়ার সাধনায় সফল হতে পারে। কোরআন ও রাসুলের শিক্ষা এই যে, নিজের ধর্ম ও কোরআন ও সুন্নাহর অনুসারী করে নেওয়া একজন মুসলমানের জন্য যতটা জরুরি ততটুকু জরুরি অন্যদেরও ইমান ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান করার সাধ্যমতো চেষ্টা করা। নতুবা কেবল নিজের আমল মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে না, বিশেষত আপন পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কুকর্ম থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখা আপন মুক্তির পথ বন্ধ করার নামান্তর। কোরআন-হাদিসে প্রত্যেক মুসলমানের প্রতি সাধ্যমতো সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ফরজ করা হয়েছে। নিজের আমলকে যথেষ্ট মনে করলে চলবে না। সন্তান-সন্ততি কী করছে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। দুনিয়ার আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস, সহায়-সম্পত্তির প্রতি আসক্তি এবং তা অর্জনের জন্য  অবৈধ পন্থা অবলম্বন কোনো অবস্থাতেই সমর্থনযোগ্য নয়। আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এসব অবৈধ পথ ও পন্থা অবলম্বন থেকে বিরত থাকতে হবে। লেখক : সাবেক সচিব  ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান।


আপনার মন্তব্য