শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:২৯

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার দেবে সরকার

চাঁদপুরে হবে বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার দেবে সরকার

মন্ত্রিসভা চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৯ এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৯-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করে। একই সঙ্গে জাতীয় স্কুল মিল নীতিসহ দুটি নীতিমালা ও দুটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বিকালে সচিবালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব বিষয়ে অবহিত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়ায় কী কী রয়েছে তা বর্ণনা করেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি চাঁদপুরের কোন জায়গায় স্থাপন হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি সচিব। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বেশ কিছু বিষয় নতুন করে সংযোজন করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৯-এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।  শফিউল আলম জানান, বৈঠকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবার অন্তর্ভুক্ত করে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মিড ডে মিল অনেক জায়গায় পাইলট ভিত্তিতে চালু হয়েছে। এগুলোকে কীভাবে সমন্বিতভাবে সারা দেশে ছড়ানো যায় তার জন্য এই নীতিমালা। এটি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সেল বা ইউনিট কাজ করবে। কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণে প্রয়োজনবোধে প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী, স্কুল মিল উপদেষ্টা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে সরকার মনোনীত উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে এই কমিটি কর্মপরিধি, কার্যকারিতা, অর্থায়ন ও মূল্যায়নে কাজ করবে। সরকার মনোনীত বিশিষ্ট ব্যক্তির সভাপতিত্বে এই কমিটির সদস্যদের নির্দিষ্ট মেয়াদে নিয়োগ দেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল মিল কর্মসূচির প্রধান নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, স্কুল মিল কর্মসূচির কার্যক্রমের ধরন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গাইডলাইন সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি চাহিদার ক্যালরির ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। যা প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৩-১২ বছরের ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য এটি প্রযোজ্য হবে। ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে তিন উপজেলার স্কুলে রান্না করা খাবার এবং ১০৪টি উপজেলায় বিস্কুট খাওয়ানো হচ্ছে। ১০৪টির মধ্যে ৯৩টি উপজেলায় সরকার ও ১১টি উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অর্থায়ন করছে। এই কর্মসূচির ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে। রান্না করে খাবার দিলে ১১ শতাংশ উপস্থিতির হার বাড়বে। শুধু বিস্কুট দিলে উপস্থিতির হার বাড়ে ৬ শতাংশ। কর্মসূচির আওতাধীন এলাকায় ঝরে পড়ার হার ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং শারীরিক অবস্থারও অনুকূল দেখতে পেয়েছি। রান্না করা খাবার এলাকায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিস্কুট দেওয়া এলাকায় রক্ত স্বল্পতা কমেছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এই বিবেচনায় জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তিনি জানান, ২০২৩ সালের মধ্যে সারা দেশে এই কর্মসূচি কভার করা হবে। দেশে ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১৫ হাজার ৩৪৯টি স্কুলের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে খাওয়ানো হচ্ছে। এতে খরচ হচ্ছে ৪৭৪ কোটি টাকা। বিদ্যমান প্রকল্প চলবে ২০২০ সাল পর্যন্ত। ২০২১ সাল থেকে নতুন প্রকল্প শুরু হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, যত্রতত্র, মানহীন ও অননুমোদিতভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে না দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) সম্পর্কিত সমন্বিত/বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯ এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) ব্যতীত প্রতিবন্ধী সম্পর্কিত সমন্বিত/বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯’-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে। তিনি জানান, এ নীতিমালায় একটা ব্যবস্থাপনা কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে স্থাপিত বিদ্যালয়ের জন্য জেলা প্রশাসক বা প্রতিনিধি নিয়ে ১৩ জনের একটি কমিটি আর উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিয়ে একইভাবে ১৩ জনের একটি কমিটি থাকবে। এ ছাড়া সেনা এলাকায় সংশ্লিষ্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, কর্নেল বা সমমর্যাদার সামরিক কর্মকর্তা, সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে ১৩ জনের কমিটি থাকবে। তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী ৭৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যাবে। প্রতি পাঁচজন শিক্ষার্থীর বিপরীতে থাকবে একজন শিক্ষক। পর্যায়ক্রমে মাস্টার্স পর্যন্ত কার্যক্রম চালু করা হবে। এ ছাড়াও মন্ত্রিসভা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের উদ্যোক্তা তৈরিতে আর্থিক সহায়তা দিতে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি নামে একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই কোম্পানি আইসিটি প্রোডাক্ট তৈরি ও বিপণনের জন্য উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দেবে। কোম্পানি কাজ শুরু করলে ঋণের পরিমাণ ও সুদের হার ঠিক করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন হবে ৫০০ কোটি টাকা। ২০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করবে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা। তথ্য প্রযুক্তি সচিব কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন এবং মোট পরিচালক হবেন ৭ জন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বৈঠকে সরকারি মালিকানাধীন রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) এবং চীনের বেসরকারি কোম্পানি সেনজান স্টার ইন্সট্রুমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ পাওয়ার ইকুইপমেন্ট মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড নামে  জয়েন্ট ভেঞ্চারে একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।


আপনার মন্তব্য