শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫০

অবৈধ ব্যাংকিংয়ে বিপাকে আর্থিক খাত

রুহুল আমিন রাসেল

অবৈধ ব্যাংকিংয়ে বিপাকে আর্থিক খাত

সমবায় সমিতির নামে সারা দেশে চলছে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, প্রশাসন ও সরকার। সাইবার ক্রাইমের আড়ালে অর্থ পাচারের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। তাই সাইবার অপরাধকে প্রেডিক্যাট অফেন্স বা অপরাধের পূর্বলক্ষণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে সিআইডি। বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউর কার্যবিবরণীতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কোনো সমবায় সমিতি ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে প্রতারণা করলে সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকশন থাকা উচিত। তারা আইনি পদক্ষেপও নিতে পারে। তার মতে, আগামী দিনে সাইবার অপরাধ বাড়বে। আমেরিকা ও রাশিয়ায়ও বাড়ছে। দেশ বা বিদেশের সাইবার হামলা মোকাবিলায় এখনই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি ও সব ক্ষেত্রে নজরদারি রাখতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককেই। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সিআইডি-প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আগামীতে সাইবার অপরাধের মাত্রা বাড়বে। সে বিবেচনায় একটি প্রস্তাব দিয়েছি। সরকারও সব ধরনের সাইবার অপরাধ দমনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সিআইডি আগামীতে এ অপরাধ দমনের প্রস্তুতি নিয়েছে। পাশাপাশি সকল প্রকার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে।’ বিএফআইইউ গঠিত মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ এবং দমন কার্যক্রম জোরদারকরণ কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের অষ্টম সভার কার্যবিবরণীতে দেখা গেছে, সমবায় অধিদফতর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের তথ্য মোতাবেক সমবায় সমিতি বা কো-অপারেটিভ নামের সঙ্গে ‘ব্যাংক’ শব্দ ব্যবহার করে অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কো-অপারেটিভের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাসমূহের গৃহীত পদক্ষেপ দফায় দফায় আদালতে রিট আবেদনের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তবে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে এসব কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তথ্যসহ প্রস্তাব জাতীয় সমন্বয় কমিটিতে সময়স্বল্পতার জন্য আলোচনা করা হয়নি। মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে লেনদেন করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনের লক্ষ্যে ডাক বিভাগের সঙ্গে কয়েকটি সভা করেছে বিএফআইইউ। পরে লেনদেনের ক্ষেত্রে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক পরিপালনীয় বিষয়ে ডাক বিভাগকে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর পত্র দেয় বিএফআইইউ। সংস্থাটির পত্রের জবাবে কোনো মতামত দেয়নি ডাক বিভাগ। সাইবার অপরাধকে অপরাধের পূর্বলক্ষণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি একটি প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশ সদর দফতরে। এ ছাড়া বিএফআইইউর কাছে সিআইডি থেকে সাইবার ও পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত অপরাধকে কোন কোন আইনের ক্ষমতাবলে অর্থ পাচারের পূর্বাভাস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার মতামত চেয়েছে। ওই কার্যবিবরণীতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ‘এসটিসি ব্যাংক লিমিটেড’ নামের একটি সমবায় সমিতি অবৈধভাবে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয় প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে এসব কার্যক্রম বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিভাগীয় টাস্কফোর্সের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে যেসব কো-অপারেটিভ নামের সঙ্গে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করেছে টাস্কফোর্স। ওই কার্যবিবরণীতে বলা হয়, এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং-এপিজির তৃতীয় মূল্যায়নে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি নগদ অর্থকেন্দ্রিক অর্থনীতি বা ক্যাশ বেইসড ইকোনমি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে; যা অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন সংঘটিত হওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই আশঙ্কাজনক হওয়ায় নগদ লেনদেন নিরুৎসাহিত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এ নির্দেশনা পরিচালনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলামের মতে, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর