শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫০

মধ্যপ্রাচ্যে বাজার সৃষ্টি ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে বাজার সৃষ্টি ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, দেশীয় পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সর্বাধিক রেমিট্যান্স প্রেরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতদের বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে। সোমবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। বার্তা সংস্থা বাসস জানায়,  সোমবার রাতের রাষ্ট্রদূত সম্মেলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রেস সচিব জানান, রাষ্ট্রদূতদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। শেখ হাসিনা একই সঙ্গে রাষ্ট্রদূতদের প্রতি তাদের কূটনৈতিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী ও অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে যে কোনো ভুল বোঝাবুঝির মীমাংসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সে ধরনের পরিস্থিতিতে বৈদেশিক সম্পর্ক জোরদার হবে, তবে তা হতে হবে সংলাপের মাধ্যমে। কাজ করার সময় মনে রাখতে হবে, বিশ্বটাকে এখন ‘বৈশ্বিক পল্লী’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রত্যেককে একে অপরের সহযোগিতা বাড়ানোর মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের জন্য যে পররাষ্ট্রনীতি রেখে গেছেন তার মূল কথা হলো- ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকেই বাংলাদেশে সর্বাধিক রেমিট্যান্স পাঠানো হয়। অথচ বাংলাদেশি শ্রমিকরা এসব দেশে প্রায়ই প্রতারণার শিকার হয়। তাদের প্রত্যেকেরই নিরাপত্তার জন্য সম্মিলিত ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। বিদেশে চাকরি প্রার্থী কোনো ব্যক্তি যেন প্রতারণার শিকার না হয় সেজন্য ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে সরকারি রেটের বাইরে অন্য যে কোনো প্রকার চার্জ গ্রহণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যাপকভাবে অবদান রেখে যাচ্ছেন। সরকার তাদের কল্যাণে ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রবাসীরা বাণিজ্যের জন্যও সেখান থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারে।’ তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে এক সময় বিদেশি দাতাদের ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতো। এ অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে নতুন মর্যাদায় উন্নীত করতে দেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার এখন ব্লু ইকোনমি নিয়ে কাজ করছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আগের অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে, এখন আমরা কোনো দাতাকে ডাকি না, বরং আমরা ‘উন্নয়ন অংশীদার’ চাই। দরিদ্র কমে ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। এই দারিদ্র্যের হার আরও তিন শতাংশ কমাতে তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য একটি বিশাল সৌভাগ্যের বিষয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশে অনেক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। মধ্যপ্রাচ্যের নয়টি দেশে বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- গোলাম মসিহ (সৌদি আরব), মোহাম্মদ ইমরান (ইউএই), মেজর জেনারেল (অব.) কে এম মমিনুর রহমান (বাহরাইন), এ এফ এম গাউসুল আজম সরকার (ইরান), এ এম এম ফরহাদ (ইরাক), এস এম আবুল কালাম (কুয়েত), আবদুল মোত্তালেব সরকার (লেবানন), মো. গোলাম সারোয়ার (ওমান) এবং আসুদ আহমেদ (কাতার)। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিন দিনের সরকারি সফর শেষে গত রাতে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট রাত ১২টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।


আপনার মন্তব্য