শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৪

সাক্ষাৎকার - জি এম কাদের

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা ছেড়ে দিচ্ছে মানুষ

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা ছেড়ে দিচ্ছে মানুষ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, দেশ রাজনীতিমুক্ত ও রাজনৈতিক দলশূন্য হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, রাজনীতি আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। ৪০টির মতো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থাকলেও কয়েকটি ছাড়া বাকিগুলো চোখে পড়ছে না। জি এম কাদের সম্প্রতি তার উত্তরার বাসভবনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। এ সময় সমসাময়িক রাজনীতিসহ নানা বিষয় নিয়ে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

জি এম কাদের বলেন, দিন দিন মানুষ রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা ছেড়ে দিচ্ছে মানুষ। দেশে যে নির্বাচনগুলো হয় কিংবা হচ্ছে, সেগুলো জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না।

তিনি বলেন, স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে চরমপন্থা, বিশেষ করে আইনসিদ্ধ নয় এমন সংগঠনগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে এই শক্তি বড় কোনো অঘটনও ঘটাতে পারে, যা কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ

কামনা করে না। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের স্বার্থে ও দেশের কল্যাণে যে কোনো ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে জাতীয় পার্টি থাকবে। জনগণ কখনো খারাপ কিছু প্রত্যাশা করে না। সংসদে জাতীয় পার্টির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাপা সংসদে থেকে প্রতিটি ইস্যুতে, প্রতিটি বিলে কথা বলছে। আমরা যুক্তি তুলে ধরছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার আমাদের কথা শুনতে বাধ্যও হচ্ছে। আর রাজপথের আন্দোলনের কথা যদি বলি তাহলে সেটি এখন কোনো দলেরই নেই। তিনি বলেন, ’৯১-এর পর থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে যারাই বিরোধী দলে বসেছে, নিরপেক্ষ মূল্যায়নে এক্ষেত্রে জাপা সর্বোচ্চ নম্বর পাবে। সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদে সরকারি দল যেটা চাইবে সেটাই হবে, অতীতের বিরোধী দলগুলো সংসদ বর্জনের মাধ্যমে সরকারের সেই চাওয়াকে আরও সহজ করে দিয়েছে। জি এম কাদের বলেন, আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। বিরোধী দলগুলোর প্রতি সরকার অনেক বেশি সহনশীল ছিল। দলগুলো যার যার ভাব-আদর্শ নিয়ে কর্মসূচি পালন করতে পারত। কর্মসূচি পালনে কখনো কখনো সমস্যার সম্মুখীন হলেও সেটি এখনকার মতো এই মাত্রায় ছিল না। সহনশীলতার ঘাটতি আগের তুলনায় এখন প্রবল। প্রধান প্রধান দলগুলোর নেতৃত্ব বিশ্লেষণে তিনি বলেন, বিএনপির নেত্রী সাজা খাটছেন, মুচলেকা দিয়ে তিনি কার্যত রাজনীতির বাইরে চলে গেছেন। বিএনপি নেতৃত্বের সংকটে ভুগছে। বিএনপির দ্বিতীয় নেতৃত্ব বেগম জিয়ার ছেলে দেশে থেকে রাজনীতি করতে পারছেন না, তিনিও দন্ডিত। নেতৃত্বহীনতার কারণে দলটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্তহীনতায় থাকে, যে কারণে দলটি এগোতে পারছে না। আর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এমন স্তরে পৌঁছেছেন, যেখানে দলের অন্য কেউ তার কাছাকাছি নেই। সেক্ষেত্রে নেতৃত্বের ঘাটতি হলে দলটিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এইচ এম এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির অবস্থা প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, এরশাদ যখন ছিলেন, তখন বিষয়টা ছিল জাপা মানে এরশাদ। উনি যা বলতেন সেটিই দলের রাজনীতি, সেটিই দলের সিদ্ধান্ত ছিল। তার অবর্তমানে এখন জাপায় সেই ভাবমূর্তি এককভাবে আমাদের কারও নেই। আমরা এখন দলের ঐক্য ও শক্তিটাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। সবাই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই। এরশাদের অবর্তমানে ঐক্যটাই আমাদের একমাত্র শক্তি। জাপাকে মানুষ আওয়ামী লীগের বি টিম মনে করে, কারণ কী জানতে চাইলে জি এম কাদের বলেন, ’৯১ থেকে বেশির ভাগ সময়ই জাপা কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য গড়েছে। সেই কারণে মানুষ মনে করে, জাপা আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। ’৯৬-এ জাপার সমর্থন ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পারছিল না। সেজন্য জাপাকে সঙ্গে নিতে আওয়ামী লীগের বেশ আগ্রহ ছিল। বিএনপিও চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে জাপার যুক্তি যেটা ছিল সেটি হলো, আওয়ামী লীগ একটি উদারপন্থি ও বামঘেঁষা রাজনৈতিক দল। আর বিএনপি রক্ষণশীল ও মধ্যপন্থি রাজনৈতিক ধারার শক্তি। জাপাও রক্ষণশীল ও মধ্যপন্থি দল। এই রসায়ন বিবেচনায় জাপা যদি বিএনপির সঙ্গে যায় তাহলে জাপার নিজস্ব আলাদা রাজনীতি থাকে না, সেখানে বিএনপির রাজনীতির মধ্যে জাপা হজম হয়ে যাবে। আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেহেতু জাপার রাজনৈতিক আদর্শগত পার্থক্য রয়েছে, সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গেলে জাপার স্বতন্ত্র অবস্থান টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। এ ছাড়া রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য গড়েছি। কিন্তু আমরা নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থানটা ধরে রেখেই সামনে এগোচ্ছি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর