শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ জুলাই, ২০২১ ২৩:০৮

রাজস্ব আদায়ের মাইলফলকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

রাজস্ব আদায়ের মাইলফলকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস
Google News

রাজস্ব আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করেছে দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। প্রতিষ্ঠানটি বিদায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৫১ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সাফল্য দেখিয়েছে, যা আগের ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের চেয়ে ৯ হাজার ৭১১ কোটি টাকা বেশি। আগের বছরের তুলনায় এই কাস্টমস হাউসের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ২০ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং গত ২৫ বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে।

এত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের রেকর্ড চট্টগ্রাম কাস্টমসের ইতিহাসে তো বটেই, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা দেশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই। আগে থেকেই রাজস্ব আয়ে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। করোনা মহামারীর কঠিন সময়ে এবার ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি আয়ের মাইলফলক অর্জন করে বিরল কৃতিত্বের চূড়ায় পৌঁছাল প্রতিষ্ঠানটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার এম ফখরুল আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। তার ফল হিসেবে রাজস্ব আদায়ে এই সাফল্য পেয়েছি। তিনি বলেন, আমি আমার সব পর্যায়ের সহকর্মীকে আন্তরিক ধন্যবাদ, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের মতো টিম ছিল বলেই এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা একইভাবে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে ইতিহাস গড়ব। কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম আরও বলেন, করোনা মহামারীর কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং এই সময়ে আমরা কাস্টমসের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়েছি। একই সঙ্গে পণ্য আমদানিতে অনিয়ম বন্ধ, চোরাচালান রোধ, শুল্ক ফাঁকিতে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করায় এই সুফল পেয়েছি। তিনি বলেন, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে-এর প্রমাণ এই রাজস্ব আয়। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় সত্যি গৌরবের। একই সঙ্গে করোনার এই জটিল সময়ে ২৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধিও বড় অর্জন। চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দুই হাজার ৬০০ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। আমদানিকারকের পক্ষে পণ্যছাড়, শুল্ক জমা দেওয়াসহ যাবতীয় কাজ করে এই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বলেন, করোনা মহামারীর চ্যালেঞ্জিং সময়ে ৫০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের মাইলফলক অর্জন সত্যি বিশাল ব্যাপার। চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনারের দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বে এটি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কোনো দফতর এই প্রথম রাজস্ব আদায়ে ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করল। করোনা মহামারীর এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেও এই বিশাল অর্জন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। এই প্রশংসার সব কৃতিত্ব কাস্টম হাউসের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর, যাদের নিরলস প্রচেষ্টা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আন্তরিকতার সঙ্গে কর্ম সম্পাদনের ফসল এই অর্জন। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা মনে করেন, এনবিআর চেয়ারম্যান, সদস্য ও অন্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় তাদের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন। অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছেন। তাদের কাছেও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তারা বলেন, আমরা আরও কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই সব স্তরের অংশীজনদের প্রতি, যারা আমাদের এ অর্জনে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর