শিরোনাম
বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:০০ টা
সাংবাদিক জামিনে মুক্ত

ব্যবস্থা নেওয়া হবে ইউএনও এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাংবাদিককে সাজা দেওয়ার ঘটনায় শেরপুরের মাঠ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলাও হতে পারে বলে জানা গেছে। আর মন্ত্রণালয়ের এপিডি বিভাগ জানিয়েছে তথ্য কমিশনের সুপারিশ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি বছরের ৫ মার্চ তথ্য অধিকার আইনের অধীনে নকলা উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য চেয়ে আবেদন করেন সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা। এর জেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিহাবুল আরিফের বিরুদ্ধে ক্ষমতা ও আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ইউএনওর নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিহাবুল আরিফ এ সাজা দেন বলে জানা যায়। সাংবাদিক রানার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দান, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ দায়ের করেছেন সাংবাদিক রানার পরিবার। এদিকে এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, যে প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক রানাকে সাজা দেওয়া হয়েছে তা যথাযথ হয়নি। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্পর্কে অনেকের কাছে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। তবে যেহেতু বিষয়টি তদন্ত করছে তথ্য কমিশন সে কারণে মন্ত্রণালয়ও কমিশনের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে গতকাল বিকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি অনুবিভাগ) মো. নাজমুছ সাদাত সেলিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি তথ্য কমিশন তদন্ত করে দেখছে। যেহেতু সাংবাদিকদের বিষয় আবার তথ্য কমিশন থেকে তদন্ত হচ্ছে তাই সেই তদন্তের সুপারিশ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব। এখনো সেটি হাতে পাইনি। গত ১০ মার্চ নকলায় গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে সোমবার রাতে ঢাকায় ফিরেন তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম ঝিনুক। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে গতকাল রাতে তথ্য কমিশনার বলেন, আমি এখনো এগুলো নিয়ে কাজ করছি, আশা করছি এ সপ্তাহে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করব।

শেরপুরে সাংবাদিক রানা জামিনে মুক্ত : গত ৫ মার্চ শেরপুরের নকলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানা (৪৫) জামিনে মুক্ত হয়েছেন। গতকাল বিকাল সাড়ে পাঁচটায় আপিল আদালতের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহার শুনানি শেষে তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেন। এ খবর নিশ্চিত করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি আরিফুর রহমান সুমন, রানার পক্ষের আইজনজীবী আবদুর রহিম বাদল ও অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম। গতকাল বিকালে অনির্ধারিতভাবে আদালত বসে ও জামিন আদেশের পরপরই সন্ধ্যায় জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা। মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেল সুপার হুমায়ুন কবীর খান। জানা যায়, গতকাল দুপুরে সাজার বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল খায়রুমের কাছে সাজা বাতিল ও জামিনের জন্য আপিল দায়ের করেন সাংবাদিক রানার আইনজীবীরা। পরে তিনি তা গ্রহণ ও শুনানির জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহারের আদালতে পাঠান। সাংবাদিক রানাকে সাজার আলোচিত ঘটনায় প্রকাশিত গণমাধ্যমের খবরের প্রেক্ষিতে ১০ মার্চ থেকে দুদিনের জন্য সরেজমিন তদন্তে আসেন তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম ঝিনুক। ওইসময় আটক সাংবাদিক রানা, রানার স্ত্রী বন্যা আক্তার ও দশম শ্রেণিপড়ুয়া পুত্র শাহরিয়ার জামান মাহিম এবং নকলার ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন ও ইউএনও’র সিএ শিলা আক্তারসহ শেরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, সাধারণ সম্পাদক আদিল মাহমুদ উজ্জ্বল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক দত্তের সঙ্গে কথা বলেন। উল্লেখ্য, ৫ মার্চ দুপুরে নকলার ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করে সিএ শীলা আক্তারকে নাজেহাল, অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল তছনছ এবং উপজেলা পর্যায়ে দাপ্তরিক এক সভায় ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিনের কর্তব্য কাজে বাধাসহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট মো. শিহাবুল আরিফ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। রানার পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়, সাংবাদিক রানা তথ্য অধিকার আইনে একটি প্রকল্পের তথ্য চাইতে গিয়ে ওই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ খবর