Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০১৯ ২১:১৮

বৈশাখে বাঙালিপনা

বৈশাখে বাঙালিপনা
♦ মডেল : শান্তা জাহান ♦ মেকওভার : বেয়ার বিজ বডি ওয়েক্স ♦ পোশাক : অঞ্জন্স ♦ ছবি : রাফিয়া আহমেদ

বাংলা নববর্ষ। নতুন বছরের আগমন। চৈত্রসংক্রান্তির নানা আয়োজনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় ১৪২৫ কে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর উৎসব। বাঙালির কাছে বৈশাখ বরাবরই রঙিন। নতুন বছরের এই দিনটিকে ঝলমলে করে তুলতে গোটা বছরই বাঙালির মাঝে চলে নানা পরিকল্পনা। সাজপোশাক, খাবার দাবার, বাঙালি ঐতিহ্যের অবতারণাÑ সবই থাকে সে পরিকল্পনায়। প্রতি বছর এই বৈশাখ আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। দেশজুড়ে বয়ে চলে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। বছরের প্রথম দিনটি সবাই বাঙালিপনায় মেতে ওঠে পরিবার পরিজন নিয়ে। সাজে ভৈববে বাঙালি রমণীরা হয়ে ওঠে অনন্য।

 

শাড়ির সঙ্গে বৈশাখের যেন সই পাতানো সম্পর্ক। যে মেয়েটি সারা বছর শাড়ি ছুঁয়ে দেখে না, পয়লা বৈশাখে তার কেনাকাটার তালিকায় প্রথমেই থাকে শাড়ির নাম। তা ছাড়া বাঙালির ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে শাড়িই রমণীর প্রথম ভরসা। কিন্তু গ্রীষ্মের গরমেও শাড়ি পরে বাইরে বের হতে ভাবতে হবে অনেক কিছুই। সেক্ষেত্রে শাড়ির উপাদান, সে তো সুতি হতেই হবে। এখানেই শেষ নয়। কীভাবে সাজবেন, সঙ্গের ব্লাউজটা কেমন হবে তা ভেবে নিতে হবে আগেই।

 

বৈশাখ শুরু হয় গরম দিয়ে। তাই এ সময় সিনথেটিক কাপড় এড়িয়ে চলা ভালো। যেহেতু দিনের অনেকটা সময় শাড়ি পরেই থাকতে হবে, সেক্ষেত্রে সুতি শাড়ি সবচেয়ে জনপ্রিয় বৈশাখের উৎসবে। সুতির শাড়িতে অনীহা থাকলে সিল্কের শাড়িতেও আরাম পাওয়া যাবে। সুতির শাড়ির ক্ষেত্রে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি সবচেয়ে ভালো। তবে তাঁতে বোনা সুতি জামদানি শাড়ি কিংবা তাঁতে বোনা সুতি শাড়ির ওপর সুতার কাজ এবং ব্লক-বাটিকে সুতির শাড়িগুলো বৈশাখের পোশাকে তুলে ধরে ভিন্ন রকম আমেজ।

 

বৈশাখ মানে লালপেড়ে সাদা গরদের শাড়ি, সেই ধারায় বদল এসেছে। অন্য উজ্জ্বল রং বৈশাখের পোশাকে দেখা গেলেও লাল-সাদার কদর বৈশাখে এখনো বেশি। এক্ষেত্রে যে কোনো রঙের সুতি শাড়ি, প্রিন্টেড শাড়ি, বিশেষ করে তাঁতের শাড়ির কদর এই দিনে থাকে সর্বোচ্চ। শাড়ি বাছাইয়ের পাশাপাশি পছন্দের ব্লাউজ তৈরিটাও সমান গুরুত্ব পায় বর্ষবরণে। শাড়িটা সাদামাটা হোক কিংবা জমকালো, এখন ব্লাউজটা হওয়া চাই ভিন্ন ধাঁচের। ফ্যাশন-সচেতন সব নারীই এখন মনোযোগ দিচ্ছেন বৈচিত্র্যময় ও সুন্দর ব্লাউজের দিকে। এখনকার ট্রেন্ডটা হলো শাড়ির সঙ্গে কন্ট্রাস্ট ব্লাউজ পরার। সুতি বা তাঁতের শাড়িগুলোর সঙ্গে কাঁথাস্টিচ, টাইডাই, প্যাঁচওয়ার্কের কাজ করা ব্লাউজ পরা যেতে পারে। গামছা কাপড়ের ব্লাউজও ভালো লাগবে। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে পাইপিন লাগানো যেতে পারে। এ ছাড়া সুতি কাপড়ের শাড়ির ওপর স্ক্রিন ও অ্যাম্ব্র্রয়ডারির কাজের শাড়িগুলোও আপনি বেছে নিতে পারেন। হালকা গোলাপি, কমলা, মেরুন কিংবা নীল রঙের সুতি শাড়ির মধ্য দিয়ে নিজেকে সাজিয়ে নিতে পারেন বৈশাখের সকালে।

 

এবারের বৈশাখে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো তৈরি করেছে থিমভিত্তিক বর্ণিল সব পোশাক। লাল-সাদায় উপজীব্য অন্যান্য উজ্জ্বল সব রঙে শীতলপাটি, পুরনো স্থাপত্য শিল্প থেকে নেওয়া নকশা, ফুলেল প্রিন্ট, কাঁথা স্টিচ, মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে অনুপ্রেরণা, এই হচ্ছে বৈশাখী থিমের মূল উপস্থাপনা। ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে আর বাজার ঘুরে দেখা গেল, এবার শাড়ির নকশাতেও এসেছে পরিবর্তন। কয়েক বছর ধরে ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, অ্যাপ্লিকের কাজে শাড়ির জমিনজুড়ে যে উজ্জ্বল রঙের মেলা ছিল, তা এবার কমই। বরং একরঙা জমিনে চওড়া পাড় না হলে জমিনজুড়ে ডোরাকাটা আর চেকÑ এমন নকশার শাড়িই যেন এবারের ফ্যাশনধারা। জমিনের রং হিসেবে সাদাই এবার এগিয়ে।

 

উৎসব মানেই সাজের বাহানা। বৈশাখ এলে তা ঢাকঢোল বলবার কিছু নেই। কিন্তু  বৈশাখের ঝড়ো আর উত্তপ্ত আবহাওয়ায় সাজ হতে হবে স্নিগ্ধ। সাজ হালকা রাখাটাও একটা শিল্প। পোশাক আর গয়না জমকালো হলেও সাজের মাধ্যমে  চেহারায় ধরে রাখা যাবে সতেজ ভাব। বছরের এই প্রথম দিনটি পোশাকের সঙ্গে সাজটা হোক আরামদায়ক এমনটাই সবার প্রত্যাশা। সাজের যে কোনো একটি জায়গা হালকা রাখলে ভালো। এজন্য চোখে কাজল, মুখের হালকা মেকআপ আর ঠোঁটের লিপস্টিক থাকলেই যথেষ্ট। এ ছাড়া সাজের সঙ্গে উপযুক্ত অনুষঙ্গ তো থাকছেই। এ সময় চুলে বেণি করা যায় নানাভাবে। শাড়ির সঙ্গে চুল সোজা করেও  ছেড়ে রাখতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে টিপ  যেন অনেকটাই আবশ্যক। সুতির শাড়ির সঙ্গে কাপড়ের তৈরি বালা আর মালায় আরাম পাবেন। চাইলে রুপালি রঙের গয়নাও পরতে পারেন। দুটোতেই বাঙালিপনা চলে আসবে। ব্যাস! বৈশাখ বরণের প্রস্তুতি তো বলা হলো। এবার নতুন বছরে নতুনভাবে সেজে উঠুন।

 

রেশমি চুড়িতে আনন্দ

বৈশাখী সাজে রেশমি চুড়ির রং উৎসব বাদ গেলে চলবে না। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে কাচের চুড়ি চাই-ই চাই। রং বাহারি চুড়িতে রংয়ের খেলা তো রয়েছেই, সঙ্গে যোগ দেবে রিনিঝিনি সুর-সংগীত। আর উৎসব, পার্বণের সাজে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া চুড়ির আবেদন সব সময়ই ছিল। বাঙালিয়ানা সাজে সুতি শাড়ি, টিপ, আলতা আর একগোছা রেশমি চুড়ি লাগবেই। এই রীতি আজকের নয়, বহু পুরনো। অঘোষিতভাবে বাঙালি নারীর পরিচয়ের সঙ্গে এসবের অস্তিত্ব মিশে গেছে। যে কোনো সাজের সঙ্গে খুব সহজে মানিয়ে যায় কাচের চুড়ি। গ্রামে কিংবা শহরে, চুড়ি পরে নিজেকে সাজাতে পছন্দ করেন সবাই। কেউ কেউ এই রেশমি চুড়ি একহাত ভরেই পরে থাকেন। কেউ পরেন দুই হাত ভরে। আবার  কেউ কেউ পরে থাকেন কিছুটা আলাদাভাবে। কয়েকটি ভিন্ন রঙের চুড়ি একটির পর আরেকটি সাজিয়ে পরেন। চুড়ি পরার এই ভিন্নতা সম্পূর্ণই নির্ভর করে আপনার  পোশাকের রং ও রুচির ওপর। নানা রঙের রেশমি চুড়ি মনের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় অনেক গুণ।  এই চুড়ির একই বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর শব্দ আর এর রং। আলোর মাঝে এর রঙের খেলা যে কোনো নারীর মন চুরি করতে যথেষ্ট। রেশমি চুড়ি সাধারণত দুই ধরনের হয়। সাধারণ মসৃণ ও খাঁজ কাটা কাচের চুড়ি। মসৃণ চুড়ির মধ্যে আবার দুই ধরনের চুড়ি রয়েছে। এর একটি স্বচ্ছ (ট্রান্সপারেন্ট), চুড়ির এক পাশ থেকে অন্য পাশ  দেখা যায়। অন্যটি গাঢ় রঙের হয়। এক রঙের চুড়ি ছাড়াও একই চুড়ির মধ্যে বিভিন্ন রংও (মাল্টিকালার) পাবেন। তবে এ চুড়ির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো লাল, সবুজ, সাদা, হলুদ থেকে শুরু করে প্রায় সব রঙেরই পাবেন। কিছু চুড়ি মাল্টিকালারের হয়। একটি চুড়িতে দুই তিন রঙের মিশেল থাকে। কোনো কোনো চুড়িতে জরির কাজও থাকে। তবে সাধারণভাবে রেশমি চুড়ি বলতে প্লেন কাচের চুড়িকেই বোঝায়।

 

অল্প সাজে চমক

এই বৈশাখে হাল্কা সাজেও চমকে দিতে পারেন সবাইকে। সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীরের ছবিটি তাই বলে!

 

যে কোনো উৎসব এলেই মাথায় একগাদা চিন্তা ভর করে। কীভাবে সাজবেন, কোন পোশাকটি পরবেন, কেমন দেখাবে। বিশেষ করে কর্মজীবীদের জন্য এই ধরনের সিদ্ধান্তহীনতার ঘটনা বেশি ঘটে। পর্যাপ্ত সময়ের অভাবে নিজেকে পরিপাটিভাবে সাজানোর এত সময় কোথায়? আপনিও যদি হন এমন একজন কর্মব্যস্ত নারী তবে অবশ্যই জেনে রাখা জরুরি অল্প সাজে চমক ছড়ানোর কিছু গোপন সূত্র।

 

প্রথমেই ত্বকের রং থেকে এক শেড আপ ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। তারপর চোখের ধরনের ওপর নির্ভর করে মেকআপ দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পোশাকের সঙ্গে চোখের সাজের মিল থাকে। অল্প সময়ে করা যায় স্মোকি আই। সব পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যাওয়া এই সাজটি হতে পারে দ্রুত সময়ের সঙ্গী। কিন্তু নিতান্তই যদি পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চান, তাও খারাপ হবে না। এ ছাড়া আপনি চাইলে কয়েকটা রং মিলিয়ে ভালো করে চোখ সাজাতে পারেন। ঠোঁটকে আকর্ষণীয় করতে ম্যাট লিপস্টিক লাগাতে পারেন। ঠোঁটকে ফোকাস করতে গ্লোসি লিপস্টিকের তুলনা নেই। লিপস্টিকে ঠোঁটের শেপ সুন্দর করতে অবশ্যই লিপ লাইনারে ঠোঁট এঁকে নিতে হবে। লিপলাইনার হতে হবে লিপস্টিকের রঙের। এবার দুই চোয়ালে একটু ব্লাশঅন বুলিয়ে নিলেই হলো। তবে যাদের ত্বকের রং ডার্ক তাদের ব্লাশঅন না ব্যবহার করাই ভালো। চুলটা রাখতে পারেন আপনার সুবিধা মতো স্টাইলে। ব্যাস অল্প সাজে চমক ছড়ান আপনিও।


আপনার মন্তব্য