Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:৩৯

বিশ্ব কণ্ঠ দিবস : সুস্থ কণ্ঠের গুরুত্ব

অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু

বিশ্ব কণ্ঠ দিবস : সুস্থ কণ্ঠের গুরুত্ব

বিশ্ব কণ্ঠ দিবস আজ। প্রতি বছর ১৬ এপ্রিল দিবসটি পালিত হয়। ১৯৯৯ সালে ব্রাজিলে প্রথম এবং ২০০২ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় কণ্ঠ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘বি কাইন্ড উইথ ইওর ভয়েস’। কণ্ঠের ব্যবহার, যত্ন, রোগের চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়ানোই দিবস পালনের উদ্দেশ্য।

সুস্থ কণ্ঠের গুরুত্ব : কণ্ঠকে শুধু যোগাযোগের প্রধান উপায় ভাবলে ভুল হবে। বাক্যের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে কণ্ঠের ওঠানামা আমাদের ব্যবহার করা শব্দের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার কথা কি প্রভাব সৃষ্টি করবে তার ৩৮ শতাংশ নির্ভর করে কণ্ঠের ওঠানামার অপর। আর তাই দৈনন্দিন সাংসারিক বা কর্মক্ষেত্রে কথাবার্তার জন্য ভালো কণ্ঠের গুরুত্ব অনেক বেশি। পেশাগত কণ্ঠ ব্যবহারকারী মানুষের জন্য কণ্ঠই সবকিছু। পেশাগত কণ্ঠ ব্যবহারকারী বলতে আমরা বুঝি যাদের পেশার জন্য কণ্ঠ প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। যেমন-গায়ক, অভিনেতা, শিক্ষক, উকিল, ধারাভাষ্যকার,  সেলসম্যান, কলসেন্টারের কর্মী ইত্যাদি।

পরিসংখ্যানে কণ্ঠের সমস্যা : আমেরিকাতে ২৯% মানুষ জীবনে কোনো না কোনো সময় কণ্ঠের সমস্যায় ভুগে থাকেন এবং এতে যে কর্মক্ষমতা নষ্ট হয় তার অর্থ মূল্য প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। বছরে প্রতি ১৩ জনে একজন এই সমস্যায় পড়েন। বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে মহিলা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ছেলেরা এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। আমেরিকাতে পেশাগত কণ্ঠ ব্যবহারকারীদের মাঝে এই বিষয়ে চালানো জরিপ অনুযায়ী শিক্ষকদের ১১% কণ্ঠের সমস্যায় ভুগছেন। শিক্ষক ছাড়া অন্য পেশার জন্য এই হার ৬.২%। কণ্ঠের সমস্যায় চাকরি হারিয়েছেন এমন সংখ্যা শিক্ষক ২০% এবং অন্য পেশাজীবী ৪%। অন্যান্য জরিপে দেখা যায় যে ৪৬.০৯% কণ্ঠশিল্পী, ৪৫% কলসেন্টারের কর্মী কণ্ঠের সমস্যার কারণে কর্মক্ষেত্রে  ক্ষতিগ্রস্ত হন।

সমস্যার কারণ কী : কণ্ঠনালির প্রদাহ :

এ প্রদাহ দুধরনের। যেমন-তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি ল্যারিনজাইটিস। কণ্ঠনালির ভাইরাসজনিত, আবহাওয়া পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণেও কণ্ঠনালির প্রদাহ হতে পারে।  যদি ব্যাকটেরিয়ার কারণে কণ্ঠনালিতে ইনফেকশন ও শ্বাসকষ্ট হয়, তখন চিকিৎসা দরকার। পাকস্থলীর অ্যাসিড রিফলাক্সের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কণ্ঠনালির প্রদাহ হতে পারে। ধূমপান, অতিরিক্ত চা বা পানীয় পান করলে, হাঁপানির জন্য ইনহেলার ব্যবহার বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের

দীর্ঘমেয়াদি ল্যারিনজাইটিস হতে পারে।

কণ্ঠস্বরের অতিব্যবহার : অতি উচ্চৈঃস্বরে অতিরিক্ত কথা বলা, দীর্ঘমেয়াদি বা পরিবর্তিত স্বরে কথা বললে কণ্ঠনালির প্রদাহ হতে পারে। ৩. এতে পলিপ, নডিউল বা সিস্ট, রক্তক্ষরণ।

কণ্ঠের যত্নে কিছু উপদেশ : ১। সবার আগে দরকার সচেতনতা। অনেকেই জানে না যে, তাদের পেশার জন্য সুস্থ ও সুন্দর কণ্ঠ কতটা জরুরি। ২। নিজের কণ্ঠ নিজে শুনতে হবে, যেন কোনো সমস্যা তাড়াতাড়ি আন্দাজ করা যায়। সমস্যা তিন সপ্তাহের বেশি থাকলে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ৩। আর্দ্রতা কণ্ঠের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি, তাই  প্রতিদিন অন্তত ২ লিটার পানি পান করতে হবে। ৪। কণ্ঠ ব্যবহারে সাবধানী হোন। অতিউচ্চ বা পরিবর্তিত স্বরে কথা বলবেন না। ৫। ধূমপান, অ্যালকোহল, তামাক, গাঁজা ও অন্যান্য নেশা সম্পূর্ণ পরিহার করুন। ৬। ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে খাওয়া শেষ করুন এবং অল্প আহার করুন। ৭। অতিরিক্ত টেলিফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। ৮। অপ্রয়োজনে বারবার গলা পরিষ্কার/কাশি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ৯। শুষ্ক আবহাওয়া  কণ্ঠের জন্য ক্ষতিকর। শীতাতপ যন্ত্রের বাতাস যাতে জলীয়বাষ্প কম, কণ্ঠের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। রাতে আর্দ্রতাকরণ যন্ত্র ব্যয়ভার করুন। ১০। গলা শুকনা থাকলে অথবা মিউকাস জমে থাকলে জোরে কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করার চেষ্টা করি যা  ক্ষতিকর। যা করবেন-বুক ভরে শ্বাস নিন, কিছুক্ষণ ধরে রাখুন, এবারে শ্বাস ছাড়ার সময় আস্তে শব্দ করুন ওয়ালার ১১। যখন বেশি মিউকাস উৎপন্ন হয় তখন মিউকাস তরলকারী ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। ১২। স্থানীয় চেতনানাশক যথেচ্ছ ব্যবহার করবেন না। লেখক : বিভাগীয় প্রধান, নাক-কান-গলা বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য