Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মে, ২০১৯ ২২:১৪

ইউরিক এসিড কমায় তরমুজ

ডা. ফারহানা মোবিন

ইউরিক এসিড কমায় তরমুজ

তরমুজ আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু পৃথিবীর কিছু দেশে সারা বছর বিভিন্ন প্রজাতির তরমুজ পাওয়া যায়। আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির তরমুজ দেখা যায়। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে তরমুজ এই সময়ের জন্য উপযুক্ত ফল। এতে প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি। তাই ডায়রিয়ার পরে, বমি করার পরে, যারা অতিরিক্ত রোদে থাকেন, তাদের জন্য তরমুজ জরুরি ফল। এতে নিম্নমাত্রার ক্যালরি, অতি উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রয়েছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রচুর পরিমাণে রসালো ফল হওয়ায় কিডনির জন্য বয়ে আনে সুফল। তরমুজ রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে কিডনিতে পাথর, ইনফেকশনসহ যাবতীয় অসুখগুলো তুলনামূলক কম হয়। তবে কিছু কিডনির সমস্যাজনিত রোগী রয়েছেন যাদের রক্তে ক্রিয়েটিনিন (রক্তের একটি উপাদান) এর পরিমাণ অনেক বেশি। এ ধরনের সমস্যা থাকলে অনেক ফল খাওয়া যায় না। এজন্য অবশ্যই কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। যাদের কিডনির সমস্যা নেই তাদের জন্য কিডনিকে ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে তরমুজ। তরমুজে পানির পরিমাণ বেশি, তাই দেহের বর্জ্যগুলো দেহ থেকে বের হয়ে যেতে ভূমিকা রাখে। ভীষণ উপকারী ভিটামিন ‘সি’র বসতি এই ফলে। ভিটামিন ‘সি’ প্রতিরোধ করে অ্যাজমা বা হাঁপানি, ঋতুজনিত সর্দি, টনসিল, গরম-ঠান্ডার জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, অস্টিওআর্থ্রাইটিস (অর্থাৎ শরীরের প্রতিটি জয়েন্টে ব্যথা)।  গরমজনিত ঘা, ফোড়া দূর করে তরমুজ। অনেকের ধারণা, তরমুজ মিষ্টি, তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা খেতে পারবেন না। কিন্তু ধারণাটি পুরোপুরি সত্য নয়। তরমুজের পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম রক্তের ইনসুলিনকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করার শক্তি জোগায়। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরাও এ ফল খেতে পারবেন। তবে পরিমিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। রসালো ফল হওয়ার জন্য তরমুজ ত্বককে করে উজ্জ্বল, মসৃণ। ত্বকে সঠিকভাবে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে ত্বককে করে শক্তিশালী। ওজন কমানোর জন্য এ ফল খাওয়া উচিত। এই ফলে তরলের পরিমাণ বেশি থাকে, তাই দীর্ঘ সময় পেট ভরে থাকে। তবে কিছু তরমুজ অতিরিক্ত মিষ্টি হয়। এ ধরনের তরমুজ পরিমাণে কম খাওয়া উচিত। ফ্রিজে সংরক্ষণ না করে, যতটা টাটকা খাওয়া যায়, ততই ভালো।


আপনার মন্তব্য