শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:১১

করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

ডা. সজল আশফাক

করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট
Google News

করোনাভাইরাস নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে, যদিও বিশ্বের কোথাও কোথাও কমেছে সংক্রমণ, এসেছে ভ্যাকসিন। কিন্তু একইসাথে আসছে নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট। আলফা (যুক্তরাজ্য), বেটা (সাউথ আফ্রিকা), গামা (ব্রাজিল), ডেল্টা (ভারত) নামের বিভিন্ন ভেরিয়েন্ট একের পর এক এসে নতুন করে সমস্যা তৈরি করছে। ভাইরাসের রূপান্তর কোন নতুন বিষয় নয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের রূপান্তর ভাইরাসের বিস্তার অব্যাহত রাখছে এবং কখনো কখনো অবস্থাকে আরও খারাপ করছে। করোনাভাইরাস এর একটি রূপান্তরিত রূপ হচ্ছে ডেল্টা। আমরা সবাই জানি যে করোনাভাইরাসের রূপান্তরটা ঘটে তার বাইরের সুচালো স্পাইক প্রোটিনে, এক্ষেত্রেও তেমনটি হচ্ছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নোভেল করোনা ভাইরাসের তুলনায় খুবই ছোঁয়াচে, তাই খুব দ্রুত এটি একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। এটি প্রথম ধরা পড়ে ভারতে, তারপর তা খুব দ্রুতই বিশ্বের প্রায় ৭৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সিডিসি’র এক বংশগতির গবেষণায় বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের অন্তত শতকরা ২০ ভাগ হচ্ছে ডেল্টা ভাইরাসজনিত, যার মধ্যে কমপক্ষে ৯ শতাংশের সংক্রমণ ঘটেছে গত ২ সপ্তাহে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট কেন এত দ্রুত ছড়াচ্ছে এ প্রসঙ্গে একজন গবেষকের বিশ্লেষণ হচ্ছে- ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট যখন কাউকে আক্রান্ত করে তখন তার শরীরে সেই ভাইরাসটি সংখ্যায় অনেক বেশি থাকে, তার মানে হচ্ছে ভাইরাসটি হয়তো খুব দ্রুত তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কাশি থেকে অধিক সংখ্যক ভাইরাস বেরিয়ে আসে, যা সহজেই অন্যকে আক্রান্ত করতে পারে।

ঝুঁকির বিবেচনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি আলফা ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় দ্বিগুণ। সিডিসি এই মাসে জানিয়েছে যে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট অত্যন্ত সংক্রামক; এটি এখন দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রভাবশালী স্ট্রেইন; যা, অল্পবয়স্ক এবং ভ্যাকসিন নেয়নি এমন ব্যক্তিদের জন্য উদ্বেগের কারণ। তিন সপ্তাহ ধরে এই দুই গ্রুপের মানুষ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়ে আশঙ্কাজনক হারে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সর্বশেষ রূপান্তরিত রূপ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সবাই কেন চিন্তিত? তার সবচেয়ে যুক্তিগ্রাহ্য কারণ হচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে এখনো করোনাভাইরাসের সর্বাধিক সংক্রমণযোগ্য রূপ বলে মনে করা হয়। তাছাড়া এটি একবার করোনভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বা টিকা দেওয়ার পর, শরীরে যে প্রতিরক্ষা সৈন্য অর্থাৎ এন্টিবডি তৈরি হয়, তাকে আংশিকভাবে এড়াতে সক্ষম হতে পারে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আরও গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে, যদিও সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কভিড-১৯ এর ভ্যাকসিনগুলো করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর কি না, সে নিয়ে গবেষণা চলছে। যুক্তরাজ্যে দুটি সাম্প্রতিক গবেষণা নির্ধারণ করেছে যে, ফাইজার এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা দ্বারা তৈরি ভ্যাকসিনগুলো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টজনিত সংক্রমণে সৃষ্ট গুরুতর অসুস্থতা রোধে অত্যন্ত কার্যকর। তাছাড়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে সামগ্রিক সুরক্ষা সৃষ্টিতেও এটি সহায়ক।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত এক প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইজার-বায়োএনটেক ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণ কোর্স নেওয়ার পর এটি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে শতকরা ৬৪ ভাগ প্রতিরোধ করতে পারে এবং শতকরা ৬৪ ভাগ ক্ষেত্রে এটি কভিড-১৯ এর উপসর্গ প্রতিরোধী। অন্যদিকে ফাইজার-বায়োএনটেক ভ্যাকসিনটি করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টজনিত উপসর্গ-লক্ষণ রোধে শতকরা ৮৮ ভাগ কার্যকর এবং হাসপাতালে ভর্তির মতো অবস্থা রোধের বিরুদ্ধে শতকরা ৯৬ ভাগ কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা (যেটি এমআরএনএ ভ্যাকসিন নয়) ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট কোভিড-১৯ এর উপসর্গ-লক্ষণারোগের বিরুদ্ধে শতকরা ৬০ ভাগ কার্যকর এবং হাসপাতালে ভর্তি রোধে শতকরা ৯৩ ভাগ কার্যকর ছিল।

লেখক : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চিকিৎসক।