শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৩ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০১৩ ০০:০০

বিবিসি সংলাপে বক্তারা

চাকরিতে কোটা পদ্ধতির পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন

চাকরিতে কোটা পদ্ধতির পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন

চাকরিতে কোটা পদ্ধতির পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসি বাংলার সংলাপে অংশ নেওয়া আলোচক ও দর্শকরা। 'বিসিএস-সহ সব চাকরিতে কোটা ব্যবস্থায় পুনর্বিন্যাস বা সংস্কারের সময় এসেছে কি না' দর্শকের করা এমন প্রশ্নের জবাবে আলোচকেরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। গতকাল বিকালে বাংলা একাডেমী মিলনায়তনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক আকবর হোসেনের সঞ্চালনায় এতে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উবিনিগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার।

সংলাপে আবদুর রাজ্জাক বলেন, কোটা পদ্ধতি দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য। বর্তমানে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সহিংস আন্দোলন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একই প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিরি সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে কোটার পুনর্বিন্যাস করা হবে। ক্ষমতায় থাকতে কেন পুনর্বিন্যাস করলেন না এমন প্রশ্নের উত্তরে মোশাররফ বলেন, অতীতে এভাবে আন্দোলন হয়নি। তাছাড়া তখন কোটায় পদ পূরণ না হলে মেধাবীদের দিয়ে তা পূরণ করা হতো। তিনি আরও বলেন, এখন সব জেলা প্রায় সমান সুযোগ-সুবিধা পায়। তাই জেলা কোটা কমানো যেতে পারে। নারীরাই পুরুষের সমান সুযোগ চান। তাছাড়া এখন সব ক্ষেত্রে নারীরা সমান সুযোগ পায়। তাই এক্ষেত্রেও পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪২ বছর পর কী পরিমাণ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আছে তা বিবেচনা করে কোটা নির্ধারণ করা দরকার।

ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এখনো অনেক জেলা সুবিধা বঞ্চিত। নারীদের কোটাও সরিয়ে দেওয়ার সময় হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেখায় সব জাতি। সে কারণেই চাকরিতে কোটা রাখা হয়েছে। তবে এখন এই কোটা পদ্ধতিতে সংস্কারের সময় হয়েছে।

টিআইবির সর্বশেষ রিপোর্টে রাজনৈতিক দলকে সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে আখ্যায়িত করা উদ্দেশ্যমূলক কি-না এমন প্রশ্ন উঠলে অনেকটা একইরকম বক্তব্য দেন দুই রাজনীতিবিদ। ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থ ব্যবস্থাপনার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরণের প্রতিষ্ঠান নেই। তার প্রশ্ন, তাহলে কিসের ভিত্তিতে কোন জরিপে টিআইবি এ ধরনের তথ্য পেল। নির্বাচনের আগে এই রিপোর্ট উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে করেন তিনি। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও বলেন, নির্বাচনের আগে টিআইবির এই রিপোর্ট উদ্দেশ্যমূলক কি-না তা সবার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করছে। এক-এগারোর আগেও এ ধরনের রিপোর্ট আলোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল কখনই দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। এটা হতে পারে না। তবে রাজনীতিবিদ দুর্নীতিতে জড়াতে পারেন। তিনি আরও বলেন, গত দু-এক বছরে বিরোধী দলের দুর্নীতিতে জড়ানোর সুযোগ ছিল না। দল হিসেবে বিবেচনা করলে এটা সরকারি দলকেই দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে ইঙ্গিত দেয়।

এ ব্যাপারে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের আগের সময় বিবেচনা করে এ রিপোর্ট করা হয়নি। কারণ ১০৭ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও জরিপ হয়েছে। নিশ্চয় অন্য দেশেও এখন নির্বাচন নয়। তাছাড়া ২০১০ সালে রিপোর্টের দুর্নীতির তালিকায় ৫ নম্বরে ছিল রাজনৈতিক দল। তিনি আরও বলেন, টিআই এর জরিপের সঙ্গে তাদের তথ্যগত বিভ্রাট নেই। কিন্তু উপস্থাপনায় পার্থক্য রয়েছে।


আপনার মন্তব্য