Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মে, ২০১৯ ২৩:৩৭

ট্রেনের অপেক্ষা, সদরঘাটে যেতেই নাকাল

ঢাকা ছাড়ছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রেনের অপেক্ষা, সদরঘাটে যেতেই নাকাল
নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৭ ঘণ্টা পরও স্টেশনে আসেনি ট্রেন। দীর্ঘ অপেক্ষায় কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীরা -জয়ীতা রায়

ঈদযাত্রার প্রথম দিন গতকাল চরম শিডিউল বিপর্যয়ের ফাঁদে পড়েন রেলের যাত্রীরা। প্রায় সব ট্রেন ২ থেকে ৫ ঘণ্টা দেরিতে স্টেশন ছাড়ে। শত ভোগান্তির পরও ঈদযাত্রায় ঘরে ফেরা মানুষের চোখে-মুখে ছিল প্রশান্তির ছাপ। ট্রেনের হুইসেল নয়, যেন বাড়ির পথে প্রাণের বাঁশি। সেই বাঁশি শোনার জন্য দীর্ঘ ক্লান্তির অপেক্ষা। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় চরমে    ওঠায় ফিকে হয়ে যায় ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার আনন্দ। যানজট ঠেলে সদরঘাট টার্মিনালে যেতেই নাকাল দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চযাত্রীরা। তবে ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয়ের জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যায়নি লঞ্চও। ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই উপচে পড়া ভিড় ছিল সড়কপথে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শৃঙ্খলা মেনে সড়কে গাড়ি চললে যানজট ও দুর্ঘটনা কমে আসবে।

কমলাপুরে ভোগান্তির মধ্যে বাড়ি ফেরা এক যাত্রী বলেন, ‘বাড়িতে মা-বাবা, ভাই-বোন আছেন। তাদের সঙ্গে ঈদ করব। এজন্যই বাড়ি যাওয়া।’

গতকাল প্রথম দিনে শিডিউলের এমন বিপর্যয়ে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে যান রেলমন্ত্রী। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঈদযাত্রার প্রথম দিন কমলাপুর স্টেশন থেকে ৫২টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। তবে বেলা ১১টা পর্যন্ত মোট ১৮টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে দেরি হয়েছে ৪টির, সবচেয়ে বেশি দেরি হয়েছে রংপুর এক্সপ্রেসের। রংপুর থেকে রংপুর এক্সপ্রেস নামে অন্য একটি ট্রেন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসবে। ফলে আজকের এ বিলম্ব আগামীকাল (শনিবার) থেকে হবে না।’

এ ছাড়া গাবতলীসহ রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোয় ছিল যাত্রীর উপচে পড়া ভিড়। যারা আগাম টিকিট কেটে রেখেছিলেন তারাই গতকাল ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন। যদিও নগরবাসীর রাজধানী ছাড়া শুরু হয় বৃহস্পতিবার রাতে।

গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া যাত্রীর ভিড়। এখানে কাউন্টারের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবারই মূলত যাত্রীর চাপ শুরু হয়েছে। কিছু যাত্রী গতকালও টিকিটের জন্য এসেছিলেন, না পেয়ে তারা ভেঙে ভেঙে যাচ্ছেন। অনেকে আবার দ্বিগুণ দামেও টিকিট কেনার জন্য ঘোরাঘুরি করেন, কিন্তু পাননি। গতকাল গাবতলী বাস টার্মিনালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোথাও কোনো যানজট তৈরি হয়নি, হওয়ার আশঙ্কাও নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারের মতো ভালো রাস্তা আর কখনো ছিল না। খুবই প্রশস্ত ও মসৃণ একেকটি সড়ক। ফেরিতে যেন যানবাহনের পারাপারে সমস্যা না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখছি আমরা। এবার ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা হবে।’ ৫ জুন ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিন ধরে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রি আগেই শেষ হয়েছে। ৩ জুন ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। তার আগে গতকাল ও আজ সাপ্তাহিক ছুটি। আগামীকাল (রবিবার) শবেকদরের ছুটি। ৪ থেকে ৬ জুন বা মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটি। এরপর ৭ ও ৮ জুন শুক্র ও শনিবার। লম্বা ছুটির ফাঁদ। অনেকে ৩ জুন ছুটি নিয়ে বৃহস্পতিবারই বাড়ির পথে রওনা হন। ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে গাড়ির প্রচ  চাপ ছিল। তবে মহাসড়কে যানজট ছিল না। এদিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ৭৮টি নিয়মিত ও ৩টি বিশেষ লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায় বলে জানা গেছে। আর সব কটি লঞ্চেই ভিড় ছিল। গতকাল সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে জনস্রোতে পরিণত হয়। ২২ মে আগাম বিক্রির প্রথম দিনে যারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটেছিলেন তারাই এদিন ঢাকা রেলপথে ঢাকা ছাড়া শুরু করেন। কমলাপুর স্টেশন থেকে গতকাল সকাল ৯টায় রংপুর এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্টেশনে এসে পৌঁছায়নি। পরে স্টেশনে ট্রেনের তথ্যের ডিসপ্লেতে ছাড়ার সম্ভব্য সময় দেওয়া হয় বেলা ২টা ১০ মিনিট। এ ছাড়া কমলাপুর থেকে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস গতকাল ভোর ৬টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা ২ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস গতকাল সকাল পৌনে ৮টায় ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও তা ছেড়েছে সোয়া ৮টায়। সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে না ছেড়ে ছেড়েছে সাড়ে ৭টায়। সকাল ৮টার চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস আড়াই ঘণ্টা দেরি করে সকাল সাড়ে ১০টায় ছেড়ে যায়।

নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন ছাড়তে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। জহুরুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, ‘৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট কেটেছি। কিন্তু আজ এসে দেখলাম ট্রেন ৫ ঘণ্টা বা তার চেয়েও বেশি বিলম্বে ছাড়বে। রোজা রেখে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, ছোট ছোট সন্তান নিয়ে এত দীর্ঘ সময় কীভাবে অপেক্ষা করব? আমাদের মতো হাজার হাজার মানুষ স্টেশনে এমন ভোগান্তি পোহাচ্ছে!’

এদিকে যানজট ঠেলে সদরঘাট টার্মিনালে পৌঁছাতেই নাকাল দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। পুরান ঢাকার ইংলিশ রোড থেকে রায়সাহেব বাজার মোড় হয়ে টার্মিনাল পর্যন্ত ছিল যানবাহনের প্রচ  চাপ। যাত্রীদের গুলিস্তান থেকে রিকশায় পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক পর্যন্ত যেতে প্রায় ২ ঘণ্টা লেগেছে।


আপনার মন্তব্য