শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:১৬

ভাইরাল ভিডিওতে আহাজারি-বর্বরতা

দূতাবাসে আকুতি জানানোর পরও বাঁচতে পারেননি নাজমা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

দূতাবাসে আকুতি জানানোর পরও বাঁচতে পারেননি নাজমা

নির্যাতন থেকে বাঁচতে সৌদি আরব বাংলাদেশ দূতাবাসে আকুতি জানিয়েও কোনো সাহায্য পাননি মানিকগঞ্জের নাজমা বেগম। নিয়োগকারী গৃহকর্তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে  যোগাযোগ করলেও দূতাবাসের দুই ব্যক্তি তার সঙ্গে করেছেন কুরুচিপূর্ণ আচরণ। দূতাবাসের নির্লিপ্ততা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় নাজমাকে। সৌদি আরবের মর্গে দেড় মাস পড়ে থাকার পর নাজমার লাশ শুক্রবার দাফন করা হয়েছে মানিকগঞ্জে। লাশ দাফনের পর ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার এক ভিডিওতে বেরিয়ে এসেছে দূতাবাসের কাছে প্রবাসী নারীর এই বঞ্চনার তথ্য।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ‘আমি বাংলাদেশের অফিসে আক্তারের কাছে ফোন দিয়েছিলাম। সে আমার সঙ্গে উল্টাপাল্টা খারাপ কথা কয়।  আমি হাবিবের কাছে ফোন দিয়েছিলাম, সেও উল্টাপাল্টা খারাপ কথা কয়। আমি তাদের কাছে সাহায্য চাইছি। কিন্তু তারা আমাকে সাহায্য করছে না। আমি চুরি করে টয়লেট থেকে কথা বলছি। আমাকে নিয়ে যাও, আমাকে বাঁচাও নয়তো আমি মরে যাব।’ নাজমা বলেন, ‘আমি মনে হয় আর বাঁচব না, আমি মনে হয় মরেই যাব। আমি এখানে খুবই কষ্টে আছি। আমি চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আমি জানি না এখান থেকে কী করে রক্ষা পাব। আমার আগের বাসায় অনেক নির্যাতন করেছে। ১৫ দিন একঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে, কিছু খেতে দেয়নি। ওখান থেকে আরেক জায়গায় পাঠিয়েছে সেখানেও নির্যাতন করা হচ্ছে। আমাকে গরম তেল দিয়ে হাত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাকে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। আমাকে বাঁচাও। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। না হলে আমি মরেই যাব।’ স্বজনরা জানান, স্বামী দিনমজুর দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর দুই সন্তান নিয়ে নাজমা বেগম অনেক কষ্টে জীবনযাপন করতেন। এমন সময় পার্শ্ববর্তী রাজেন্দ্রপুর গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে দালাল ছিদ্দিক বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন দেখায়। সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে হাসপাতালে কাজের ভিসায় সৌদি আরব যান। হাসপাতালে ক্লিনারের চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে পাঠানো হলেও কাজ দেওয়া হয় বাসাবাড়িতে। সেখানে কফিল (গৃহকর্তা) ও তার ছেলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর মারা যান। জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত নাজমার ছিল আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার আকুতি। ছিল দেশে  ফেরার শতচেষ্টা। কিন্তু কিছুইতে শেষ রক্ষা হয়নি। নানা প্রক্রিয়া  শেষে প্রায় ৫৩ দিন মর্গে থাকার পর গত ২৪ অক্টোবর নাজমার মৃতদেহ আসে দেশে। পরদিন বাদ জুমা তার লাশ দাফন করা হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর