শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৪৪

শ্রমিকদের কল্যাণের কোটি কোটি টাকা গিলে খায় চাঁদাবাজরাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রমিকদের কল্যাণের কোটি কোটি টাকা গিলে খায় চাঁদাবাজরাই

পরিবহন শ্রমিকদের কল্যাণের নামে প্রতিদিন সারা দেশে কমবেশি ১৫টি খাতে অন্তত দুই কোটি টাকা চাঁদা তোলা হলেও তার ছিটেফোঁটাও শ্রমিকদের ভাগ্যে জোটে না। সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজরাই গিলে খায় সবকিছু। অসুখে বিসুখে চালক, কন্ডাক্টর, হেলপারদের ভাগ্যে হাসপাতাল, ডাক্তার, ওষুধপথ্য মেলে না বললেই চলে। বরং অসুস্থতাজনিত কারণে ডিউটিতে না যাওয়ায় বেতন, ভাতা থেকেও বঞ্চিত পরিবহন শ্রমিকের পোষ্যদের কাটাতে হয় অর্ধাহারে অনাহারে। দুর্ঘটনাজনিত আহত কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করলেও এসব পরিবহন শ্রমিকের কপালে পরিবহন মালিকের দান-অনুদানের ৫/১০ হাজার টাকার বেশি জুটে না। কোনো শ্রমিক সংগঠন, ফেডারেশন, কল্যাণ সমিতি কেউ দাঁড়ায় না তাদের পাশে।

রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সারা বছর ছুটিহীন সময় কাটানো নিরীহ শ্রমিকরা রাস্তায় গাড়ি চালিয়েই মালিককে লাভের টাকা বুঝিয়ে দেন, পরিশোধ করেন নেতাদের আরোপিত শত রকমের চাঁদা-পুলিশের মাসোহারা। অথচ গভীর রাতে নিজ ঘরে ফেরার সময় চাহিদামাফিক বাজার সওদা করারও সাধ্য থাকে না তাদের। পথ চলতে ত্রুটি-বিচ্যুতিতে যাত্রীদের গণপিটুনি খাওয়া তাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাড়ি মালিকের গাফিলতির কারণে গাড়ির কাগজপত্রের ভুল-ত্রুটির দায়ভারও  নিতে হয় নিরীহ শ্রমিকদের। এ জন্য ট্রাফিক সদস্যদের হাতে চর থাপ্পড় খায়, গালিগালাজ শোনাসহ মাঝে মধ্যে হাজতবন্দীও হতে হয় তাদের। এতসব দায়িত্ব পালনের পরও গাড়ির মালিককে হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার সময় উল্টো চোর সাব্যস্ত হয়, কোনো কোনো দিন জরিমানা গুনে তবেই খালি হাতে ফিরতে হয় ঘরে। এমন হাজারো বঞ্চনার শিকার পরিবহন শ্রমিকরা নিজ নিজ সংগঠনের কাছেও চরম অবজ্ঞা অবহেলার শিকার হন। প্রতিদিন টার্মিনাল থেকে গাড়ি বের করতেই মালিক সমিতি, রুট কমিটি, টার্মিনাল কমিটি, পুলিশ বিটের শত শত টাকা চাঁদা পরিশোধের পরও শ্রমিকদের কল্যাণের নামে ৮/১০ খাতে চাঁদা দিতে হয়। পরিবহন শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় ফেডারেশনের নামে ৫০ টাকা, শ্রমিক ইউনিয়ন ৪০ টাকা, টার্মিনাল কমিটি ২০ টাকা, কলার বয় বাবদ ২০ টাকা, হরতালে ভাঙচুরের ভর্তুকির নামে ২০ টাকা, ইফতারের নামে ২০ টাকা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের নামে ৫০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এ হিসাবে রাজধানী ও আশপাশ এলাকায় চলাচলকারী প্রায় ১৫ হাজার বাস মিনিবাস থেকেই শ্রমিকদের নামে চাঁদা আদায় করা হয় দৈনিক ৪০ লক্ষাধিক টাকা। সারা দেশের প্রায় ৯০০ চাঁদার পয়েন্ট থেকে শ্রমিক কল্যাণের খাতে আদায় করা চাঁদার পরিমাণ দৈনিক দুই কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু গত এক বছরে একটি শ্রমিক ফেডারেশন থেকে দুর্ঘটনায় আহত চারজন শ্রমিকের চিকিৎসা বাবদ ২৬ হাজার টাকা খরচের বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। অন্য দুটি শ্রমিক সংগঠন প্রতিদিন সারা দেশ থেকে চাঁদা আদায় করলেও এখন পর্যন্ত শ্রমিক কল্যাণের ব্যাপারে কোনো পাকাপোক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানাতে পারেননি। অপর একটি শ্রমিক ফেডারেশন শ্রমিকদের কল্যাণে দুটি সচেতনতার সভা ও চালক-শ্রমিকদের মাঝে সংগঠনের আইডি কার্ড বিতরণে সফল হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব শ্রমিক সংগঠনের কাছে সারা বছরের দুর্ঘটনায় হতাহত চালক-শ্রমিকদের সংখ্যার তালিকা পর্যন্ত রাখার প্রয়োজনবোধ করেনি। কতজন শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় আছে সে খবরও জানার কোনো উপায় জানেন না তারা। তাহলে বৃহত্তম চাঁদাবাজির মোটা অঙ্কের টাকা কোথায় যায়? কারা তা বছরের পর বছর ধরে নিজেদের পকেটস্থ করছে সে খবর নেওয়ার সাহসও পায় না নিরীহ পরিবহন শ্রমিকরা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর