শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৬

চট্টগ্রাম সিটি ও ৪ উপনির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি

মাহমুদ আজহার

চট্টগ্রাম সিটি ও ৪ উপনির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনসহ আসন্ন সংসদের চারটি উপনির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি। বিএনপির লক্ষ্য, হয় বিজয়, নতুবা ভোটের অনিয়মকে জনগণের সামনে তুলে ধরা। এর আগে ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের কাছেও ভোটের নানা অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে দলটি। অবশ্য ঢাকার দুই সিটি ভোটে পরাজয়ের পর বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখন আর আগের মতো উচ্ছ্বাস নেই। তবে বিএনপির হাইকমান্ড তৃণমূলকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিচ্ছে। যেসব এলাকায় ভোট হবে এলাকাগুলোতে কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। আগামী ২১ মার্চ ঢাকা-১০, বাগেরহাট-৪ ও গাইবান্ধা-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোট হবে। ওই তিন আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। ঢাকা-১০ আসনে বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবি, বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপন ও গাইবান্ধা-৩ আসনে অধ্যাপক ডা. মাইনুল হাসান সাদিককে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়। তবে এরই মধ্যে বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তাকে নিয়ে দলের ভিতরে বাইরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাকে যারা মনোনয়ন দিতে সমর্থন দিয়েছেন তাদের ভূমিকা নিয়েও বিএনপির ভিতরে-বাইরে সমালোচনার ঝড় বইছে।

এদিকে ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া প্রার্থীরা ঘরোয়াভাবে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। নির্বাচনের পরিকল্পনা তৈরি করছেন। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়া মাত্রই মাঠে নেমে পড়বেন তারা। অন্যদিকে গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক হয়। বৈঠকে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সিটি ও উপনির্বাচনে ফলাফল কী হবে তা সবাই জানে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন ভোটমুখী হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারবে কি না তা নিয়ে সবার সংশয় রয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে ভোটের ব্যবস্থাকেই ভেঙে ফেলেছে। ভোট নিয়ে শুধু বিএনপির নেতা-কর্মী নয়, সাধারণ  ভোটারদের মধ্যেও কোনো উচ্ছ্বাস নেই। বিশেষ করে ঢাকা দুই সিটির নির্বাচনের পর ভোট নিয়ে তারা আরও হতাশ হয়ে পড়েছেন। এর পরও একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমরা ভোটে যাচ্ছি।’

বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোট মানেই বিএনপির প্রার্থীদের নিশ্চিত হার। তবু ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকায় এ নিয়ে আগ্রহও নেই সাধারণ মানুষের। বিএনপি নেতারা মনে করেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে যত বেশি ভোটারকে কেন্দ্রে নিয়ে আসা যাবে, বিএনপির প্রার্থীদের পাল্লা ততই ভারী হবে।

এদিকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তরুণ নেতা শেখ রবিউল আলম রবিকে মনোনয়ন দেওয়ায় ঢাকা-১০ আসনে (ধানমন্ডি) দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস  দেখা  গেছে। কয়েক দিন ধরেই ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবির কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।  নেতা-কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট আর হাজারীবাগ নিয়ে গঠিত এ আসনের নেতা-কর্মীরা জানান, নব্বই-পরবর্তী কোনো নির্বাচনেই স্থানীয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। অন্য জায়গা থেকে বড় নেতাদের এনে এখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে সব সময়ই নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা-১০ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিএনপি আমার ওপর আস্থা রেখেছে। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব এ আস্থার প্রতিদান দিতে। আমরা বিনা চ্যালেঞ্জে কাউকে জিততে দেব না। সুষ্ঠু ভোট হলে, জনগণ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারলে ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। কিন্তু ভোটের পরিবেশ না থাকলে এই নির্বাচনের নানা অনিয়ম আমি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরব।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর