শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪০

জামিনে বেরিয়ে পাল্টে যায় নাম-ঠিকানা

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

জামিনে বেরিয়ে পাল্টে যায় নাম-ঠিকানা

হদিস নেই জামিনে বের হওয়া সিংহভাগ খুচরা মাদক ব্যবসায়ীর। মাদক মামলার গ্রেফতার হওয়া খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা জামিনে বের হওয়ার পর পাল্টে ফেলে নাম। পরিবর্তন করে মাদক ব্যবসার এলাকা। ফলে জামিনের পর প্রশাসন টিকিটির নাগাল পায় না এসব মাদক ব্যবসায়ীর। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে আসামিদের নির্ভুল নাম-ঠিকানা চিহ্নিত করতে বায়োমেট্রিক ডিভাইস ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও অপরাধবিজ্ঞানী ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বায়োমেট্রিক ডিভাইস দিয়ে চাইলে কয়েক মিনিটের মধ্যে যে-কারও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। বায়োমেট্রিক মেশিনের সাহায্যে জাতীয় পরিচয়পত্রে আঙুলের ছাপ মেলানো যায় সহজে। এ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীর কূটকৌশল ঠেকানো যাবে সহজে।’ চট্টগ্রাম মহানগর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা জামিনে বের হওয়ার পর আর তাদের খোঁজ পাওয়া যায় না। তারা বাসা পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় চলে যায়। ফলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটে। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে এখন আসামি চালানের সঙ্গে ‘ইয়েস’ প্রতিবেদন দেওয়া হয়। যাদের ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায় না, তাদের জামিন না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয় আদালতের কাছে।

অনুসন্ধানে যানা যায়, চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় গ্রেফতার খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা জামিনে বের হওয়ার পর তাদের হদিস পায় না পুলিশ। অল্প মাদকসহ গ্রেফতার হওয়া মাদক ব্যবসায়ীরা জামিনে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে ফেলে নাম। পরিবর্তন করে বাসা। এমনকি মোবাইল সিমের ব্যবহার  বন্ধ করে দেয় তারা। ফলে জামিনে বের হওয়ার পর খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের হদিস পায় না প্রশাসন। বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় তালিকাভুক্ত খুচরা মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে কমপক্ষে এক হাজার জন। এর মধ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহানগর অঞ্চলের তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩০০ জন। এসব খুচরা মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে অধিকাংশের বিরুদ্ধেই একটি কিংবা দুটি মামলা রয়েছে, যারা জামিনে বের হওয়ার পর হয়ে যায় লাপাত্তা। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সিংহভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা জামিনে বের হওয়ার পর পুরনো ঠিকানায় থাকে না। তারা ছদ্মনাম ব্যবহার করে নতুন জায়গায় গিয়ে মাদক ব্যবসা শুরু করে। এতে মামলার তদন্ত বিলম্ব হওয়ার পাশাপাশি বিচার বিলম্বিত হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর