শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ মে, ২০২১ ২৩:৪১

প্রণোদনা দিন, শিল্প ঘোষণা করুন

মনোয়ারা হাকীম আলী

প্রণোদনা দিন, শিল্প ঘোষণা করুন
Google News

দেশের পর্যটনশিল্প বাঁচাতে এ খাতে প্রণোদনা চান ব্যবসায়ী- শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক প্রথম সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী। তিনি পর্যটন খাতকে শিল্প ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেছেন, দেশের বিশাল পর্যটন খাতকে এখনো শিল্প হিসেবে ঘোষণা না করায় এ খাত সরকারের বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। পর্যটন খাতের খ্যাতনামা উদ্যোক্তা চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ হোটেলের এই কর্ণধার মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, হোটেল একটা দেশের অতিথিশালা। হোটেলের ওপর দেশের ভাবমূর্তি অনেকাংশে নির্ভর করে। মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দেশের হোটেলশিল্পের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দেশের হোটেলগুলোয় এখন মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ অতিথি রয়েছেন। এত স্বল্প অতিথি দিয়ে হোটেলের পরিচালন ব্যয়ও উঠে আসবে না। মালিকরা ভর্তুকি দিয়ে হোটেল চালু রেখেছেন। প্রণোদনা না পেলে এ শিল্প ধ্বংসের পথে চলে যাবে। ইন্ট্রাকো গ্রুপের এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, পর্যটন খাত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্প। এর সঙ্গে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, স্পা, বার, সেলন, বিনোদন কেন্দ্র, শপিং মল, দর্শনীয় স্থান, কালচারাল কমিউনিটি, স্থানীয় বাসিন্দাসহ অনেক কিছু জড়িত। এ বিশাল খাতকে এখনো শিল্প হিসেবে ঘোষণা না করায় পর্যটন খাত সরকারের বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই এ পর্যটনশিল্পকে অনতিবিলম্বে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হোক। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক এই নেতা বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে সরকার যদি পর্যটন এলাকাগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে তাহলে হোটেলগুলো কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরে পাবে। বর্তমানে হোটেল খোলা থাকলেও পর্যটন এলাকা বা দর্শনীয় স্থানগুলো বন্ধ থাকার কারণে কোনো অতিথি আসছেন না। হোটেলের শ্রমিকরা ডাক্তার ও বিদেশফেরত যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সেবা দিয়ে আসছেন।

তাই এই শ্রমিকদের সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কভিড টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক।

মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, ‘পর্যটনশিল্প খাতে ব্যবসা মন্দার কারণে শ্রমিকদের একেবারে চাকরিচ্যুত না করে ন্যূনতম বেতন দিয়ে হলেও তাদের টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হোক। কারণ শ্রমিকরা চাকরি হারিয়ে পেশা পরিবর্তন করলে পরবর্তী সময়ে আর অভিজ্ঞ শ্রমিক পাওয়া যাবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, পর্যটন একটা দেশের প্রাণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পর্যটন দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। পর্যটনের যেসব অনুষঙ্গ প্রয়োজন এর সবই আছে এ দেশে। সরকারও পর্যটনের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প ইতিমধ্যে হাতে নিয়েছে এবং এর অনেক কিছুই এখন চলমান আছে। সেই প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং এ ইন্ডাস্ট্রির বিকাশের পথে যেসব বাধা আছে সেসব দূর করতে হবে।’

তিনি বলেন, কভিডের কারণে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের পর্যটনশিল্পের বেশির ভাগ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই পেশা পরিবর্তন করছেন। এই দক্ষ শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ থাকলেও এ শিল্পের কোনো শ্রমিক প্রণোদনা পাননি। শ্রমিকদের জন্য সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর