শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জুন, ২০২১ ২৩:২৫

ভরা মৌসুমেও বাড়ছে চালের দাম

খতিয়ে দেখতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

ভরা মৌসুমেও বাড়ছে চালের দাম
Google News

আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কমলেও দেশের বাজারে ঘটছে উল্টো ঘটনা। ভরা মৌসুমে, বোরোর বাম্পার ফলনও রুখে দিতে পারছে না চালের দাম। গত দুই সপ্তাহ ধরে মোটা ও চিকন উভয় জাতের চালের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত এক মাসের ব্যবধানে মোটা ও চিকন চালের দাম কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিকন চালের দাম।

চালের দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। গতকাল খাদ্যমন্ত্রী সারা দেশের খাদ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন চালের দাম বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে। বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার অনুরোধ জানিয়ে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম ফোনে কথা বলেছেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের সঙ্গে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, চালের দাম বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে ২৬টি মনিটরিং টিমের প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি গতকাল ফোনে কথা বলেছেন। রাজধানীর পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এ মাসের শুরুর দিকেও বিআর-২৮ জাতের মোটা চালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৪২ থেকে ৪৪ টাকা। এখন এই জাতের চাল প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা দরে। চিকন জাতের নাজিরশাইল চালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫৮ টাকা। গতকালের দর ছিল ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। চালের দামের এই তথ্য গতকাল সংগ্রহ করা হয়েছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় মোকাম বাবুবাজার থেকে। খুচরা বাজারে এলাকাভেদে এই চালের দামে হেরফের রয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী গতকাল মোটা চালের পাইকারি দাম ৪৩ দশমিক ৫০ টাকা থেকে ৪৫ দশমিক ৫০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বাবুবাজারের সমতা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী কাওসার আলম বাবুল জানান, গত কয়েক দিনে মোটা চাল কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বাড়লেও সবচেয়ে বেশি    বেড়েছে চিকন জাতের চালের দাম। শুধু নাজিরশাইল জাতের চাল প্রতি কেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা দাম বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে চালের দাম : দেশের বাজারে চালের দাম বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে কিন্তু দাম কমছে। ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন থেকে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চালের আন্তর্জাতিক বাজারের যে (এফওবি) মূল্য পাঠানো হয়েছে, তাতে বাংলাদেশি টাকায় প্রতি কেজির দাম ছিল ৪০ থেকে ৪১ টাকা। গতকালের চালের এই দাম এক মাস আগের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কম। ট্যারিফ কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে এক মাস আগে প্রতি কেজি চালের দাম ছিল ৪৩ টাকার কাছাকাছি। বিদেশে কমলেও কেন বোরোর বাম্পার ফলনের পরও দেশে বাড়ছে চালের দাম- এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক লায়েক আলী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে ধান শুকানোর সুযোগ কম থাকায় অনেক মিল বন্ধ থাকে। এ কারণে প্রতিবছর এ সময় চালের দাম কিছুটা বাড়ে। তবে এবার করোনার প্রকোপ বাড়ায় রাজশাহীসহ সীমান্ত এলাকাগুলোতে লকডাউন কঠোর হওয়ায় অনেক মিল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া কেউ কেউ বেশি দাম পাওয়ার আশায় ধান কিনে মজুদ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় খাদ্যশস্যের দাম কমাতে চাল আমদানিতে ট্যাক্স কমানোসহ সরকারের আমদানি বাড়িয়ে বাজারে হস্তক্ষেপের পরামর্শ দেন অটো মেজর ও হাসকিং মিল অ্যাসোসিয়েশনের এই নেতা।

দাম বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ : এদিকে ভরা মৌসুমেও চালের বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ?খাদ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, এ বছর ধান ও চালের দাম যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মিল মালিকরা ইচ্ছা মতো চালের দাম বাড়াবেন তা মোটেই কাম্য নয়। মিল মালিকদের কাছ থেকে চুক্তি মোতাবেক নির্ধারিত সময়ে বোরো সংগ্রহ করতে খাদ্য বিভাগের মাঠ কর্মকর্তাগণকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় মিল মালিকদের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর