প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ আগস্ট, ২০২১ ২৩:৩৬

নতুন বাণিজ্য সংগঠনের অনুমোদন চায় না এফবিসিসিআই

পরিচালনা পর্ষদ ৮০ থেকে ৩০ সদস্যে নামিয়ে আনা হতে পারে

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

Google News

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) নিজেদের পরিসর আরও ছোট করতে চাইছে। তারা সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের আকার ২৫ বা ৩০-এ কমিয়ে আনতে চাইছে। শুধু তা-ই নয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন কোনো চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনকে যাতে আর অনুমোদন না দেওয়া হয় সে বিষয়েও সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে চিঠি লিখে এ ধরনের অনুরোধ জানান এফবিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন।

বর্তমানে এফবিসিসিআইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সংখ্যা ৮০ জন উল্লেখ করে ওই চিঠিতে জসিম উদ্দিন বলেন, এ বিশাল পরিষদের কার্যক্রম সমন্বিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা দিন দিন দুরূহ হয়ে পড়ছে। উপরন্তু সংস্কারের মাধ্যমে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদ যাতে ছোট করা হয় এ ধরনের সুপারিশও পেয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে আর কোনো মনোনীত পরিচালক যাতে পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত না করা হয় সে বিষয়ে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে জানতে এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিনকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডিটিও) সোলেমান খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাণিজ্য সংগঠনের (টিও) অনুমোদন দেওয়া হয় সরকারের আইন ও বিধি অনুসরণ করে। কোনো সংগঠনের অনুরোধে এটি বন্ধ করা যায় না। তিনি বলেন, ‘এফবিসিসিআই আমাদের একটা অনুরোধ জানিয়েছে, এখন এটা রাখব কি রাখব না এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে ঢাকায় ফিরলে বিষয়টি অবহিত করা হবে।’ এফবিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদ ছোট করার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য সংগঠনের অনুমোদন না দেওয়ার পেছনে কী যুক্তি আছে এটি বুঝতে পারেননি একটি বাণিজ্য সংগঠনের সাবেক সভাপতি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এমন হতে পারে নতুন সংগঠন হলে ভোটের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। এফবিসিসিআইর নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছোট সংগঠনগুলো বড় ধরনের প্রভাব তৈরি করে। নতুন কমিটি হয়তো সেটি চায় না। বেসরকারি খাত-সংশ্লিষ্টরা অবশ্য বলছেন, সময়ের প্রয়োজনে বাড়ছে শিল্প-বাণিজ্যের খাত। নতুন নতুন পণ্যে বিনিয়োগ করছেন উদ্যোক্তারা। ফলে নিজেদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে বাণিজ্য সংগঠন বা অ্যাসোসিয়েশন গঠন করছেন নতুন উদ্যোক্তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এমন কিছু বাণিজ্যিক খাত তৈরি হয়েছে, যার অস্তিত্ব এক দশক আগেও ছিল না। এখন এসব শিল্পে বিনিয়োগ শত শত কোটি টাকা। এভাবে শিল্পভিত্তিক সংগঠন সময়ের প্রয়োজনেই তৈরি হবে। আবার ছোট খাতগুলো তাদের নিজেদের কথা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরার জন্যও এফবিসিসিআইর মতো বড় সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব চায়। এটিকে থামিয়ে দেওয়ার বিষয়টি দেশের বেসরকারি খাতের বিকাশে বাধা তৈরি করবে।