শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবা–মায়ের দুশ্চিন্তাও বাড়ে শিশুদের নিয়ে। বিশেষ করে ঘুমানোর সময় ছোট শিশুকে কীভাবে ঠান্ডা থেকে সুরক্ষিত রাখা যায়—এ নিয়ে নানা পরামর্শ শোনা যায়। অনেক বয়স্ক মানুষ শিশুদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে ঘুম পাড়ানোর কথা বলেন। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, সব ক্ষেত্রে এই অভ্যাস নিরাপদ নয়।
ঘুমের সময় শিশুকে টুপি পরানো কি ঠিক?
শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় শিশুকে টুপি পরিয়ে রাখা সাধারণত সুপারিশ করা হয় না। এর পেছনে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কারণ।
অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি
নবজাতক ও ছোট শিশুদের শরীর প্রাপ্তবয়স্কদের মতো তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাদের শরীরে ‘ব্রাউন ফ্যাট’ নামে এক ধরনের চর্বি থাকে, যা ঠান্ডায় শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। এই চর্বি মূলত ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের ওপরের অংশে থাকে।
শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয় মাথার মাধ্যমে। ঘুমের সময় মাথা ঢেকে রাখলে শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের হতে পারে না। ফলে শিশুর শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এসআইডিএসের আশঙ্কা
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরম হওয়া শিশুদের আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি (Sudden Infant Death Syndrome বা SIDS) বাড়াতে পারে। ঘুমের সময় মাথা ঢেকে রাখা এই ঝুঁকির একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত।
শ্বাসরোধের ভয়
ঘুমের মধ্যে শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই হাত-পা নড়াচড়া করে। এতে টুপিটি পিছলে মুখ বা নাক ঢেকে ফেলতে পারে, যা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।
তাহলে কি মোজা পরানো নিরাপদ?
টুপি পরানোর তুলনায় মোজা পরানো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা। তবে এক্ষেত্রেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখা
ঘর যদি খুব ঠান্ডা হয়, তাহলে শিশুকে মোজা পরানো যেতে পারে। উষ্ণ পা শিশুর ভালো ঘুমে সহায়ক। তবে মোজা যেন খুব বেশি টাইট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত আঁটসাঁট মোজা রক্তসঞ্চালনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
সঠিক পোশাক নির্বাচন
শিশুর জন্য সব সময় সুতি বা হালকা কাপড়ের মোজা ব্যবহার করা ভালো। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হয় না। ঘরের তাপমাত্রা যদি স্বাভাবিক বা উষ্ণ থাকে, তাহলে মোজা পরানোর প্রয়োজন নেই।
কী বলছেন চিকিৎসকেরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুকে উষ্ণ রাখতে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো হালকা কিন্তু স্তরযুক্ত পোশাক পরানো এবং ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখা। ঘুমের সময় মাথা খোলা রাখাই শিশুর জন্য বেশি নিরাপদ।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন