শিরোনাম
প্রকাশ: ০০:০০, রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৪

সর্প হইয়া দংশন করে ওঝা হইয়া ঝাড়ে

কাজী সিরাজ
অনলাইন ভার্সন
সর্প হইয়া দংশন করে ওঝা হইয়া ঝাড়ে

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আমার সরাসরি তেমন একটা পরিচয় নেই। সামনাসামনি দেখা হয়েছে মাত্র দুবার। একবার বহু আগে মরহুম কর্নেল আকবর হোসেনের কার্যালয়ে এবং দ্বিতীয়বার তা-ও বেশ কিছুদিন আগে কাদেরিয়া বাহিনীর তার এক শিষ্য মরহুম আশরাফ গিরানীর স্মরণসভায়। সেখানে সামান্য কথাও হয়েছিল। ব্যস, ওই পর্যন্তই। কিন্তু তার প্রতি আমার ভালো লাগার অনুভূতি অনেক আগের। না দেখেই দূর থেকে ভালো লেগে যাওয়া দুই বীর পুরুষের একজন তিনি। অপরজন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যার সেই ঐন্দ্রজালিক কণ্ঠস্বর এখনো আমার কানে বাজে- 'আমি মেজর জিয়া বলছি'...। বঙ্গবীর যে রাজনীতি এক সময় করতেন, কখনো সে রাজনীতির সঙ্গে ছিলাম না; কিন্তু তার সাহস ও বীরত্বে আমি মুগ্ধ ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে তার কাদেরিয়া বাহিনীর বীরত্বগাথা ইতিহাসের অন্তর্গত হয়েছে। দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশমাতৃকার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার তার অসাধারণ গুণ ও হৃদয়ের বিশালতার নানা কাহিনী এক সময় শুনেছি ভিন্নমতাবলম্বী বাম রাজনীতির অনুসারী কবি বুলবুল খান মাহবুব ও আশরাফ গিরানীর কাছে। তারা দুজনই ছিলেন কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ববাংলা সমন্বয় কমিটির সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের রাজনৈতিক গুরু ছিলেন কাজী জাফর আহমেদ। আমাদের এলাকা কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নন-আওয়ামী লীগার মুক্তিযোদ্ধাদের আওয়ামী লীগ যেভাবে জ্বালিয়েছে কাদের সিদ্দিকী তা করেননি। তার কাছে 'কজ' (cause) এবং 'কজ'-এর প্রতি আনুগত্যটাই ছিল বড়। তাই তিনি তার বাহিনীতে সব মতের যোদ্ধাদের একোমোডেট করতে পেরেছিলেন। এটা দুর্লভ এক রাজনৈতিক এবং নেতৃত্ব গুণ। দ্বিতীয়ত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের জাঁদরেল জাঁদরেল নেতারা যখন নীতি-আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা ভুলে মুজিবকোট বাদ দিলেন এবং আসকান-শেরওয়ানি গায়ে চাপিয়ে মোশতাক মন্ত্রিসভাকে 'আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভা' হিসেবে আলোকিত করলেন; কেউবা জান বাঁচানোর জন্য 'ইঁদুরের গর্তে' ঢুকলেন, তখন এক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীই সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সহযোদ্ধাদের নিয়ে দ্রোহের পতাকা উড়িয়ে দিলেন। তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী তা বিবেচনা না করেই তার পিতৃতুল্য নেতার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা ও আনুগত্য দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। আমার ধারণা ছিল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুনর্গঠিত আওয়ামী লীগে তিনি বীরের মর্যাদাই পাবেন। শেখ হাসিনা তার মূল্য দেবেন। কিন্তু তিনি সেই মূল্য পাননি। গত ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ প্রতিদিনে তার এক লেখায় সেই অন্তজ্বালার প্রকাশ দেখেছি। কিন্তু তাতে ক্ষুব্ধ কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল না। তবে একাত্তর টিভি চ্যানেলে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে জাসদ গণবাহিনীর নেতা মইনুদ্দিন খান বাদলের ভূমিকার প্রশংসা করে অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকার সমালোচনা করে যে প্রকৃত সত্য তিনি তুলে ধরেছেন তা যথার্থ বলেই মনে করি। প্রসঙ্গক্রমে তাকে ধন্যবাদ জানাই, সেদিনের প্রকৃত প্রতিবাদী আরেক পুরুষ আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুব নেতা এস এম ইউসুফের প্রশংসিত ভূমিকা উল্লেখ করায়। এর একটা কারণ আছে। ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের সময় ইউসুফ ভাই ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আর আমি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটির নেতৃত্বে আন্দোলন পরিচালনা করতে গিয়ে (আমাদের সংগঠনের সভাপতি আবদুল্লাহ-আল নোমান তখন কারারুদ্ধ) তার সঙ্গে আমার একটা আবেগের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুজনের কেউ-ই এখন সক্রিয় রাজনীতিতে নেই (দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারিনি বলে হয়তো), তবে আমাদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগে এখনো ভাটা পড়েনি। বঙ্গবীরের মুখে-কলমে তার স্বীকৃতিটা ভালো লাগল। মইনুদ্দিন খান বাদলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য(!) খুবই প্রয়োজনীয় শুধু নয়, 'অপরিহার্য' মিত্রশক্তি ইনু জাসদের হাসানুল হক ইনুর কথা এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জাসদ গণবাহিনীর সামরিক কমান্ডার কর্নেল (অব.) তাহেরের কথাও যৎকিঞ্চিৎ উল্লেখ করেছেন তিনি। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত তার ক্রন্দসী 'দীর্ঘশ্বাসনামায়' উল্লেখ করেছেন- এই কর্নেল (অব.) তাহের বঙ্গবন্ধুর লাশ দাফনের সমালোচনা করে বলেছিলেন, তার লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া উচিত ছিল। ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যে অভ্যুত্থানের গর্ভে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের দর্শনের বিপরীতে প্রবল স্রোতের আরেক রাজনৈতিক ধারা ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকল্প দর্শনের আকর্ষণীয় উন্মেষ ঘটেছিল, সেদিন সামরিক বাহিনীর ট্যাঙ্কের ওপর লীগ সরকারের বর্তমান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর একটি ছবিও লেখার সঙ্গে ছাপানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মইনুদ্দিন খান বাদল বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছেন এ কথা শোনার পর যারা তাদের তখনকার ভূমিকার কথা জানেন তারা হেসেছেন; কিন্তু কাদের সিদ্দিকীর তো তাতে কষ্ট লাগারই কথা। তাই তার কিছু কথা এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। মইনুদ্দিন খান বাদল নিজেই অনুষ্ঠানে বলেছেন, 'আমরা সরকারের বিরুদ্ধে একটা সময় সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলাম।' বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, 'উপস্থাপিকা হয়তো বুঝতে পারেননি যে, তারা যে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন সে সরকার ছিল বঙ্গবন্ধুর সরকার। তারা বঙ্গবন্ধু সরকারের উৎখাত চেয়েছেন, নেতা-এমপিদের হত্যা করেছেন। সেই বঙ্গবন্ধুর সরকার উৎখাত হলে তারা তার প্রতিবাদ করেন কী করে? তাদের তো খুশি হওয়ার কথা। ... তখন খুনি ফারুক, রশীদ, ডালিমের চেয়ে বরং জাসদের গণবাহিনীকে আওয়ামী লীগের লোকেরা বেশি ভয় করত। বগুড়ার খসরু সরাসরি খুনিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিয়ে প্রতিবাদী হলো না, চট্টগ্রামের মৌলভী সৈয়দ হলো না, প্রতিবাদী হলো হত্যাকারীরা- ভাবতেই যেন কেমন লাগে। মেয়র মহিউদ্দিনের কী হবে, কী হবে যুবলীগ নেতা এস এম ইউসুফ, এনামুল হক দানুসহ অন্যদের? এমন ইতিহাস বিকৃতি আর দেখিনি বা শুনিনি।' বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর এ এক নিঃশব্দ কান্না। বঙ্গবীর সিদ্দিকী তার বুকের ভিতর থেকে গুমরে ওঠা এই বোবা কান্নার শব্দ কাকে শোনাতে চান তার বিনীত প্রার্থনায় তা অনুমান করা যায়। তার লেখাটা একাধিকবার পড়ে মনে হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভাইবোনের সম্পর্কের তারটা তিনি এখনো রক্ষা করে চলেছেন নিজের দিক থেকে। বোনের বিপদ দেখলে কোনো ভাইয়ের অন্তরাত্দা কেঁদে না ওঠে! তাই হয়তো কাদের সিদ্দিকীর মুখে এমন সত্য পাঠ।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতার বাইরে থাকলে দলীয়ভাবে, ক্ষমতায় থাকলে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন করে আওয়ামী লীগ। এবারই প্রথম স্পষ্ট ও সরাসরিভাবে দুটি বিষয় সামনে চলে এসেছে। ১. অন্য সময় অন্যরা বললেও এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জিয়া জড়িত। এমনও প্রচার করা হয়েছে যে, মামলা হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হওয়ায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি। ২. বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে ক্ষমতাসীন সরকারের অন্যতম পার্টনার জাসদ, গণবাহিনী ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা, একই সঙ্গে কর্নেল (অব.) তাহের ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ভূমিকা।

জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। শোনা যায়, 'উনি বলেছেন, তিনি তার কাছে বলেছেন, অমুক তমুকের কাছ থেকে শুনেছেন' ইত্যাকার কথাবার্তা। এবার নতুন করে বলা হয়েছে, প্রমাণ নাকি আছে। কিন্তু প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না- না দল থেকে, না সরকার থেকে। অনেকে মনে করেন, এই অভিযোগের পেছনে আছে স্রেফ হিংসাশ্রয়ী রাজনীতি। জিয়াউর রহমানকে ডিফেইম করে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করাই এর উদ্দেশ্য। লীগ সরকার বা শাসকলীগের লোকজন কী কখনো ভেবে দেখেছেন এতে তারা কী লাভবান হচ্ছে? জনগণ কী প্রমাণহীন কোনো 'মিথ' বিশ্বাস করছে? বরং এই মর্মর্ন্তুদ ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে সরকারের ক্ষমতার অংশীদার সরকারি জাসদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নতুন প্রজন্ম পরখ করছে এবং এ ব্যাপারে সরকারের রহস্যময় নীরবতায় বিস্ময় প্রকাশ করছে। জাসদের ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে প্রথম প্রশ্ন উত্থাপন করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে এরশাদ জাপার এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ। তিনিও জাসদ গণবাহিনী কর্তৃক লীগ নেতাদের হত্যার অভিযোগ করে বলেছেন, তারা সেদিন ওই ভূমিকা পালন না করলে খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাহস পেত না। সেদিন সরকারি জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু সংসদে ছিলেন। কিন্তু কোনো কথা বলেননি। বলেছিলেন তাদের কার্যকরী সভাপতি মইনুদ্দিন খান বাদল। অভিযোগ খণ্ডন করতে পারেননি তিনি। বলেছেন, 'সরকারের একটি শরিক দলকে মহানন্দে জবাই করা হচ্ছে'। তাই বলে কী সত্য গোপন রাখতে হবে? এ ব্যাপারে বড় বোমাটি ফাটিয়েছেন লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যায়। তার '৭ নভেম্বরের সাত-সতেরো' শিরোনামে প্রকাশিত লেখা দেশ-বিদেশে ঝড় তুলেছে। তাতে বেরিয়ে এসেছে অনেক অজানা কাহিনী। সরকারি জাসদের নেতা-নেত্রীদের কথা-বার্তায় কারও কারও কাছে মনে হয়েছে বঙ্গবন্ধুর শোকে তারা আওয়ামী লীগারদের চেয়েও বেশি কাতর। প্রধানমন্ত্রী কত পুরস্কার দিলেন তাদের। কর্নেল তাহেরের এক ভাইকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বানানো হয়েছে। আরেক ভাই অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে পুরস্কৃত করেছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বানিয়ে। মহিউদ্দিন আহমেদের লেখায় বেরিয়ে এসেছে তিনি 'বোমারু আনোয়ার'। ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি 'নিখিল' বোমা ফাটানোর ব্যবস্থা করেছিলেন পরদিন ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়ার জন্য। আনোয়ার হোসেন ছিলেন ঢাকা নগর গণবাহিনীর ফিল্ড কমান্ডার। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জাসদের এই অংশটির জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে চলে আসায় এখন পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে, 'উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে' চাপানোর সুযোগ থাকছে না।

লেখক-গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, "১৫ আগস্ট সকালে মুহসীন হলের ছাত্র নূর মোহাম্মদ ঢাকা নগর গণবাহিনীর উপপ্রধান আবুল হাসিব খানের কাছে ঢাকা নগর গণবাহিনীর কমান্ডার আনোয়ার হোসেনের একটা চিরকুট নিয়ে আসেন। চিরকুটে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের অফিসে ঢাকা নগর গণবাহিনীর জরুরি সভা হবে বলে উল্লেখ ছিল। সভা শুরু হলে আনোয়ার হোসেন উপস্থিত সবাইকে বলেন, 'ভাইজান (লে. কর্নেল আবু তাহের) সকালে রেডিও স্টেশনে গিয়েছিলেন। তিনি মেজর ডালিমকে বকাঝকা করে বলেছেন, '... এর মেজর হয়েছ, এখন পর্যর্ন্ত একটা মার্শাল ল' প্রক্লেমেশন ড্রাফট করতে পারলে না। জানো কাল ইউনিভার্সিটিতে কারা বোমা ফাটিয়েছিল? দে আর মাই বয়েজ।'

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু তাহের মেজর রশীদের অনুরোধে সকাল ৯টায় ঢাকা বেতারকেন্দ্রে যান। সেখানে তিনি খোন্দকার মোশতাক আহমদ, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, মেজর ডালিম ও মেজর জেনারেল খলিলুর রহমানকে দেখতে পান। তার পরামর্শে ডালিমরা সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধানকে বেতার ভবনে নিয়ে আসেন অভ্যুত্থানকারীদের পক্ষে বিবৃতি দেওয়ার জন্য। তিনি খোন্দকার মোশতাককে পাঁচটি প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবগুলো ছিল- ১. অবিলম্বে সংবিধান বাতিল করতে হবে; ২. সারা দেশে সামরিক আইন জারি এবং এর প্রয়োগ করতে হবে; ৩. দল-নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিতে হবে; ৪. বাকশালকে বাদ দিয়ে একটি সর্বদলীয় জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে; ৫. অবিলম্বে একটি গণপরিষদ তথা পার্লামেন্টের জন্য সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

সামরিক শাসন জারির দাবি ছিল তাহেরের একান্ত নিজস্ব। এ বিষয়ে তিনি গণবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড কিংবা জাসদের পার্টি ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করেননি এবং এসব প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য পার্টি তাকে কোনো ম্যান্ডেট দেয়নি।"

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কর্নেল তাহেরের ঘৃণার মনোভাব প্রকাশ করে নিবন্ধের লেখক উল্লেখ করেছেন, '... দুই দিন পর ১৭ আগস্ট সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নঈম জাহাঙ্গীর নারায়ণগঞ্জে তাহেরের বাসায় যান পরিস্থিতি সম্পর্কে অাঁচ করতে। ১৯৭১ সালে নঈম ১১ নম্বর সেক্টরে তাহেরের সহযোদ্ধা ছিলেন এবং প্রায়ই তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতেন। তাহের আক্ষেপ করে নঈমকে বললেন, 'ওরা বড় রকমের একটা ভুল করেছে। শেখ মুজিবকে কবর দিতে অ্যালাও করা ঠিক হয়নি। এখন তো সেখানে মাজার হবে। উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া। কর্নেল তাহেরের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেনের (অধ্যাপক) তৎকালীন ভূমিকা সম্পর্কেও লেখায় উল্লেখ আছে। তাতে বলা হয়, 'পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন- এ রকম একটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। ... বিপ্লবী গণবাহিনী ঢাকা নগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা তৎপর হয়ে ওঠে। শেখ মুজিবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগমন উপলক্ষে একটি শক্তির মহড়া দেওয়ার চিন্তা করা হয়। ... চুয়াত্তরের নভেম্বরে বোমা বানাতে গিয়ে তরুণ জাসদ নেতা ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের লেকচারার নিখিল রঞ্জন সাহা নিহত হন। তার নামে এই বোমার নামকরণ হয় 'নিখিল'। নিখিলের প্রস্তুত প্রণালী ছিল স্থূল। ঢাকা নগর গণবাহিনীর কমান্ডার আনোয়ার হোসেন 'নিখিল' ইমপ্রুভাইজ করেন। আনোয়ার হলেন গণবাহিনীর ফিল্ড কমান্ডার লে. কর্নেল (অব.) তাহেরের ছোট ভাই। তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের লেকচারার হিসেবে কর্মরত। রসায়ন তিনি ভালো বোঝেন। তার বিশ্ববিদ্যালয়ে চ্যান্সেলরের আগমন যাতে নির্বিঘ্ন না হয় সে জন্য তার নির্দেশে গণবাহিনীর সদস্যরা ১৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তিনটি 'নিখিল' ফোটায় (মহিউদ্দিন আহমেদের 'তাজউদ্দীন খুনিদের প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন', প্রথম আলো, ১২ আগস্ট ২০১৪)।

উল্লিখিত দৈনিকের ঈদ সংখ্যা বেরিয়েছে জুলাইর প্রথমে- প্রায় দেড় মাস আগে। দ্বিতীয় লেখাটিও ছাপা হয়েছে নয় দিন আগে। লেখার বিষয় মিথ্যা হলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা। জাসদ (ইনু) দলীয়ভাবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ২১ আগস্ট মো. আনোয়ার হোসেন (অধ্যাপক) 'তাহেরকে নিয়ে কেন মিথ্যাচার' নামে একটি লেখা প্রকাশ করেছেন। তাতে তিনি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী যা বলেছেন এবং মহিউদ্দিন আহমেদ যা লিখেছেন সে সব বক্তব্য খণ্ডন করার প্রয়াস পেয়েছেন। কিন্তু তার যুক্তি এত দুর্বল যে, বক্তব্য খণ্ডন তো হয়ইনি বরং তাদের প্রতি অবিশ্বাস সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের আতঙ্কটা ফুটে উঠেছে তার লেখার শেষ বাক্যে। তাতে তিনি লিখেছেন, 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এমন শক্তি, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও জাসদ যে আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তাকে ভেঙে ফেলা এবং জিয়াউর রহমানকে মহিমান্বিত করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মহিউদ্দিনের এই প্রকল্প ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সময়ই তা বলে দেবে।' কিন্তু কোথায়? মহিউদ্দিন আহমেদের প্রকাশিত লেখায় কোথাও তো জিয়ার প্রশস্তি নেই। এমন কি তিনি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তেমন কোনো কথাও তো নেই। এমন কি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তার লেখায় যে সত্যের ছবি অাঁকলেন তাতেও তো জিয়া বন্দনা নেই। তাহলে এসব জিয়াউর রহমানকে মহিমান্বিত করার প্রকল্প হয় কী করে? জিয়া তো স্বমহিমায় এতটাই উজ্জ্বল যে, ফরমায়েশ দিয়ে নতুন কোনো ইতিহাস প্রকল্প তৈরির প্রয়োজন নেই। মুক্তিযোদ্ধা ও একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে কর্নেল (অব.) তাহেরকে জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে। কিন্তু বাংলাদেশের দ্বিধাবিভক্ত রাজনীতির পরিমণ্ডলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি টিকে আছে এবং চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি ও মহিমাকে পুঁজি করে। এখানে কর্নেল তাহেরের নামগন্ধও নেই।

শেষে একটা কথা উল্লেখ করার তাগিদ অনুভব করছি। মহিউদ্দিন আহমেদের লেখায় একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, কর্নেল (অব.) তাহের এবং তার লোকজনের চিন্তাভাবনা ও অ্যাকশনের সঙ্গে জাসদের পার্টি ফোরাম ও গণবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সব সময় একমত ছিল না। যেমন মোশতাকের কাছে সামরিক শাসন জারির দাবি ছিল তাহেরের নিজস্ব। জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে অভ্যুত্থান ঘটানোর প্রস্তাবেও সায় ছিল না আখলাকুর রহমানসহ কারও কারও। লেখায় তাহের-ইনু একপক্ষে ছিলেন বলে ধারণা করার সুযোগ আছে। অনেকের মতে, জাসদের এই গ্রুপটি পঁচাত্তরে সাপ হয়ে দংশন করে এখন ওঝা হয়ে ঝাড়ছে।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট

ই-মেইল : [email protected]

 

 

এই বিভাগের আরও খবর
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
নির্বাচন হবে কী হবে না
নির্বাচন হবে কী হবে না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
সর্বশেষ খবর
ঢাকার বাতাসে মাঝারি দূষণ, শীর্ষে কামপালা
ঢাকার বাতাসে মাঝারি দূষণ, শীর্ষে কামপালা

এই মাত্র | নগর জীবন

ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক
ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক

৮ মিনিট আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার

১০ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০

২৬ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট
মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট

২৬ মিনিট আগে | পূর্ব-পশ্চিম

রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত কঙ্গনার
রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত কঙ্গনার

৪৫ মিনিট আগে | শোবিজ

খাদ্য সামগ্রীসহ ৭ পাচারকারী গ্রেফতার
খাদ্য সামগ্রীসহ ৭ পাচারকারী গ্রেফতার

৪৯ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো
আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো

১ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু
শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই
কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই

১ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২
পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি
টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি

২ ঘণ্টা আগে | অর্থনীতি

নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

২ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা
জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা

২ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা
ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা

২ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি
বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি

২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স
খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স

২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের
আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের

২ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি
মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি

৩ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন

গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের
গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইসলামী বিধানে সহজীকরণ নীতি ও নজির
ইসলামী বিধানে সহজীকরণ নীতি ও নজির

৩ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন

একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৩০ আগস্ট)
একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৩০ আগস্ট)

৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প
কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

পাঁচ বছরে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে: রেড ক্রস
পাঁচ বছরে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে: রেড ক্রস

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটুন
সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটুন

৫ ঘণ্টা আগে | জীবন ধারা

শেষ ওভারে মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কার নাটকীয় জয়
শেষ ওভারে মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কার নাটকীয় জয়

৫ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ফেসবুকে বিরক্তিকর ফ্রেন্ড সাজেশন বন্ধ করবেন যেভাবে
ফেসবুকে বিরক্তিকর ফ্রেন্ড সাজেশন বন্ধ করবেন যেভাবে

৬ ঘণ্টা আগে | টেক ওয়ার্ল্ড

সিরাজগঞ্জে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫
সিরাজগঞ্জে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

৭ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য
দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

সর্বাধিক পঠিত
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান

১২ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

১৩ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’
‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’

১৭ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

‘দুই বাচ্চার মা’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শুভশ্রী, পাল্টা জবাব দেবকে
‘দুই বাচ্চার মা’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শুভশ্রী, পাল্টা জবাব দেবকে

২২ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব
নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি
নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা
নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা

১৫ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ
মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ

১৭ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক
আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক

১৪ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি
ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি

২০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

২৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে
ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে

২০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও
শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও

২২ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য
দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইরানের পাল হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি
ইরানের পাল হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি

১৬ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

১৭ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

অবসরে যাচ্ছেন মেসি?
অবসরে যাচ্ছেন মেসি?

১৯ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন
হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন

১৬ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ
শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ

৯ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ
ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ

১৮ ঘণ্টা আগে | পাঁচফোড়ন

নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি
নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো
‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো

১৮ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার
বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

২৩ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ইসলাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ: আরএসএস প্রধান
ইসলাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ: আরএসএস প্রধান

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত

২১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক
ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক

১৯ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক, পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্রাজিল
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক, পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্রাজিল

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

১৪ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা

১৫ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে : মির্জা ফখরুল
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে : মির্জা ফখরুল

২১ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

প্রিন্ট সর্বাধিক
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

প্রথম পৃষ্ঠা

কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল
কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল

প্রথম পৃষ্ঠা

শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ
শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ

পেছনের পৃষ্ঠা

দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা
দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা

পেছনের পৃষ্ঠা

আজকের ভাগ্যচক্র
আজকের ভাগ্যচক্র

আজকের রাশি

রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে
রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে

পেছনের পৃষ্ঠা

বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই
বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই

প্রথম পৃষ্ঠা

মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন
মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন

শনিবারের সকাল

বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত
বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত

নগর জীবন

বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির
বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির

নগর জীবন

পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ
পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ

নগর জীবন

সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে
সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে

নগর জীবন

চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি
চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি

শোবিজ

মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

প্রথম পৃষ্ঠা

অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের
অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের

প্রথম পৃষ্ঠা

ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ
ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!
জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!

পেছনের পৃষ্ঠা

শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য
শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য

পেছনের পৃষ্ঠা

নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স
নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স

মাঠে ময়দানে

থামছেই না নারী পাচার
থামছেই না নারী পাচার

পেছনের পৃষ্ঠা

হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭
হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

পেছনের পৃষ্ঠা

১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য
১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য

প্রথম পৃষ্ঠা

বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রথম পৃষ্ঠা

আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন
আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন

পেছনের পৃষ্ঠা

ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক
ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক

পেছনের পৃষ্ঠা

ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস
ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস

পেছনের পৃষ্ঠা

প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি
প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি

প্রথম পৃষ্ঠা

কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ
কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না
খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না

প্রথম পৃষ্ঠা

নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ

সম্পাদকীয়