শিরোনাম
প্রকাশ: ১১:০৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৬

গ্যালিলিও এবং তার 'জারজ মেয়ে'

তসলিমা নাসরিন
অনলাইন ভার্সন
গ্যালিলিও এবং তার 'জারজ মেয়ে'

ফ্লোরেন্সের জাদুঘর থেকে গ্যালিলিওর কন্যা ভার্জিনিয়ার শতাধিক চিঠি পাওয়া গেছে, কিন্তু কন্যাকে লেখা গ্যালিলিওর কোনও চিঠিই কিন্তু পাওয়া যায়নি। ও-সব কবেই আগুনে পোড়ানো হয়েছে। ওই কনভেন্টেই পোড়ানো হয়েছে, যেখানের নান ছিলেন ভার্জিনিয়া। জন্ম ওঁর ১৬০০ সালে, যে বছর জিয়োর্দানো ব্রুনোকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, সে বছরই। মেয়ের যখন মাত্র বারো বছর বয়স, দক্ষিণ ফ্লোরেন্সের এক কনভেন্টে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন গ্যালিলিও, সেখানেই ভার্জিনিয়া নাম পাল্টে মারিয়া সেলেস্ত হয়েছিলেন, থেকেছেন সারা জীবন, আর সারা জীবনই গ্যালিলিও চিঠি লিখেছেন ওঁকে, আর মারিয়াও লিখেছেন ডিয়ার লর্ড ফাদারকে। গ্যালিলিও সম্পর্কে সবাই জানে, গ্যালিলিও পিসার হেলে যাওয়া টাওয়ার থেকে কামানের বল ফেলেছিলেন নিচে, জানে গ্যালিলিও পুরো জগতের বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে যে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, যখন পৃথিবীকে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্র বলে জানত সবাই, জানে যে, এ-কারণে তাঁকে শাস্তি পেতে হয়েছিল, কিন্তু কেউ কি জানত গ্যালিলিওর এক ‘জারজ কন্যা’ ছিল যাকে বিষম ভালবাসতেন তিনি এবং যাঁকে চিঠি লিখে গেছেন পাতার পর পাতা এমনকী যখন তিনি ঘরবন্দি! কীরকম হতে পারে সে-সব চিঠি, একজন ঈশ্বরে বিশ্বাসী, আরেকজন ঈশ্বরের তথ্য উড়িয়ে দেওয়া বিজ্ঞানী! তখন ইটালিতে, সেই সপ্তদশ শতাব্দীতে, গির্জার দাপট ভীষণ রকম, কনভেন্টে থাকা নিজের মেয়ের সঙ্গেও তাঁর দেখা করার সুযোগ হতো না, অথচ মেয়েকে ভালবেসে তিনি যতদিন বেঁচেছিলেন, লিখেছেন। বিজ্ঞান, বিশ্বাস এবং ভালবাসার গল্প সে-সবে।

গ্যালিলিওর নিজের জন্ম পিসায়, ফেব্রুয়ারির পনেরো তারিখে, ১৫৬৪-তে। তাঁর বাবা ভিনসেনজিও ছিলেন সংগীত শিক্ষক, ছেলেকে অর্গান বাজাতে আর গান গাইতে শিখিয়েছিলেন। দশ বছর বয়সে গ্যালিলিও পিসা থেকে ফ্লোরেন্স এলেন, ওখানে তিন বছর ইস্কুলে পড়লেন, এর পর চলে গেলেন এক মঠে গ্রিক আর লাতিন ভাষা শিখতে, গ্যালিলিওর ইচ্ছে সন্ন্যাসী হবেন। কিন্তু হিসেবি বাবা দেখলেন, মেয়েদের বিয়ে দিতে গিয়ে যৌতুকে যাবে প্রচুর টাকা, মেয়ে হল খরচার জিনিস, আর ছেলে যদি সন্ন্যাসী হয়ে বসে থাকে, সংসার চলবে কী করে! ভিনসেনজিও ছেলেকে ধরে এনে ভর্তি করে দিলেন পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে, গ্যালিলিও ওখান থেকে মেট্রিক পাস করলেন, তারপর দু’বছর ডাক্তারিতে মন বসেনি গ্যালিলিওর, তাঁর আকর্ষণ অঙ্কে, পদার্থবিজ্ঞানে। সে আমলে ডাক্তারি পড়তে গেলে অঙ্ক কিছু শিখতে হয়। ফ্লোরেন্সে এদিক-ওদিক অঙ্ক বিষয়ে নিজের যা বিদ্যে আছে, ঝেড়ে, এক সময় পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্কের মাস্টার হবার আবেদন করলেন, হয়েও গেল। ওই তখনই, পিসার টাওয়ার থেকে কামানের বল ফেললেন নিচে। অ্যারিস্টটল বলেছেন, একশো হাত ওপর থেকে একশো পাউন্ডের বল যদি নিচে ফেলা হয়, আর একই সময়ে এক হাত ওপর থেকে এক পাউন্ডের বল, তবে একশো হাত ওপর থেকে ফেলা বল আগে মাটি ছোঁবে। গ্যালিলিওর কথা হল, দু’বলই একসঙ্গে মাটি ছোঁবে, আগে পরে নয়। এ-নিয়ে পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যালিলিও নিজের জনপ্রিয়তা কম হারাননি। তিনি দুঃখ করে বলেছেন, আমার ভুল নিয়ে তোমরা এমন খেপে গেছ, আর অ্যারিস্টটলের ভুল নিয়ে তো মোটেই টুঁ শব্দ করছ না।

ভিনসেনজিও, গ্যালিলিওর বাবা, মারা যাবার পর সংসারের দায়িত্ব গ্যালিলিওর কাঁধে এসে পড়ল, খুব একটা যে উপার্জন তখন গ্যালিলিওর তা নয়, বছরে ষাট টাকা, ওই ষাট টাকার মধ্যে বোনের বিয়ে দেয়া, ছোটভাই মিকেলেঞ্জেলোর লেখাপড়ার খরচ, মায়ের মাসোহারা সবই সারতে হতো। ১৫৯২-তে গ্যালিলিও পিসা ছেড়ে পাদোবা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। ওখানে আঠারো বছর অধ্যাপনা করেন। পাদোবাতে তিনি জীবনের সবচেয়ে চমৎকার সময় কাটিয়েছেন, নিজেই পরে বলেছেন। টাকা পেতেন ভাল, তিনশো থেকে চারশো আশি টাকা বছরে। ওই পাদোবাতেই তাঁর পরিচয় মারিনা গামবার সঙ্গে। প্রায়ই রাত কাটাতেন মারিনার বাড়িতে, না, নিজের বাড়িতে মারিনাকে তোলেননি কোনও দিনই, বিয়ে তো করেনইনি, যদিও মারিনাই জন্ম দেন গ্যালিলিওর তিন সন্তান; ভার্জিনিয়া, লিভিয়া আর ছেলে, গ্যালিলিওর বাবার নামে নাম, ভিনসেনজিও। নথিপত্রে সন্তানদের বাবার নাম না থাকলেও গ্যালিলিও স্বীকার করে নেন যে, তিনি বাবা। পাদোবা বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্কের মাস্টার থাকাকালীনই মেদিচি পরিবারে একখানা চাকরি জোটে তাঁর, রাজপুত্র কসিমোকে অঙ্ক শেখানোর চাকরি। অঙ্ক শেখাতে শেখাতে আকাশের গ্রহনক্ষত্রও শেখাতে থাকেন, কসিমোর ওপর কোন গ্রহের কী প্রভাব পড়ছে কখন, এ-নিয়ে তিনি বিস্তর সময় ব্যয় করতে থাকেন, এমন বিদ্যেধরকে কেবল এক রাজপুত্রের ঘরে বসিয়ে রাখবে কেন, চাকরিতে তাঁর পদোন্নতি হয়, পুরো মেদিচি পরিবারের অঙ্কবিদ হয়ে বসেন গ্যালিলিও। সে-সময় তিনি সৈন্যদের জন্য দিগদর্শন যন্ত্র বানালেন, এর পরেই টেলিস্কোপে হাত দিলেন, অনেকে মনে করেন গ্যালিলিও টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেছিলেন, তা নয়, টেলিস্কোপ হল্যান্ডে বানানো হয়েছিল, তিনি ওটিকে আরও উন্নত করেছিলেন এই যা। অ্যারিস্টটল বলেছিলেন গতি সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়া মানে প্রকৃতি সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়া। গ্যালিলিও এই অজ্ঞতা থেকে মুক্ত হতে বিষম ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। শীতের রাতে টেলিস্কোপে চোখ রেখে বসে থাকেন, হাত জমে যায় ঠাণ্ডায়, কাচ ঝাপসা হয়ে যায় কুয়াশায়, তবু সে শীতেই দেখে নিলেন একরাশ স্থির নক্ষত্রকে পেছনে রেখে জুপিটার, ভেনাস, মার্স, মারকারি আর স্যাটার্নের অস্থিরতা, এদের শরীরে স্পষ্ট দেখতে পেলেন গতি। কেবল এটুকুই নয়, গ্যালিলিও আরও বললেন, জুপিটারকে ঘিরে চার-চারটে চাঁদ ঘুরছে। অজ্ঞতা কাটল বটে, গ্যালিলিও কিন্তু পদে পদে অ্যারিস্টটলকে খণ্ডাতে লাগলেন, এমনও হল, রাতারাতি দুটো দল গড়ে উঠল, এক দল গ্যালিলিওর পক্ষে, আরেক দল অ্যারিস্টটলের, সে বছর, ১৬১০ সালে, গ্যালিলিওর প্রথম বই ‘নক্ষত্রবার্তা’ বেরোল, সঙ্গে সঙ্গে বিষম আলোড়ন। এক সপ্তাহের মধ্যে বইয়ের সব কপি বিক্রি হয়ে গেল। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল খবর। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার হেনরি উওটন ভেনিস থেকে ইংল্যান্ডের রাজা জেমসের কাছে জরুরি চিঠি লিখলেন, ‘পাদোবার এক অঙ্কের মাস্টার বলছেন জুপিটারকে ঘিরে নাকি চারটে চাঁদ ঘুরছে, আজ অবধি যে জিনিস কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি, আরও কিছু স্থির তারাও নাকি দেখেছেন, আশ্চর্য, এ-সব আগে তো কেউ দেখেনি! আবার ছায়াপথের আসল কারণও বর্ণনা করেছেন, এ লোক হয় খুব বিখ্যাত, নয়তো জঘন্য কিছু হতে যাচ্ছেন। লোকটি যা বলছেন তা পাগলের প্রলাপ নাকি এতে সত্য কিছু আছে তা যাচাই করে দেখা উচিত। এঁর টেলিস্কোপ যন্ত্রটি এর পরের জাহাজে আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি।

 

গ্যালিলিও সাঁইসাঁই করে উপরে উঠছেন। রাজপুত্র কসিমোকে নিজের তৈরি একটি টেলিস্কোপ আর একখানা নক্ষত্রবার্তা পাঠাবার পর উত্তরে কেবল শুকনো ধন্যবাদ জোটেনি গ্যালিলিওর, জুটেছে পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান অঙ্কবিদদের পদ, আর গ্র্যান্ড ডিউকের ব্যক্তিগত দার্শনিক আর অঙ্কবিদ হওয়ার সুযোগ। গ্যালিলিওর আকাশে আলো করে নক্ষত্র ফুটছে, কিন্তু ওদিকে কেবল মারিয়া সেলেস্তই নয়, গ্যালিলিওর আরেক কন্যা লিভিয়াও কনভেন্টের কর্তা, যেহেতু গ্যালিলিওর এতে সায় ছিল না, চিঠি লিখে, আগেভাগে ঈশ্বরের সেবা করার কাজে নামা যে মন্দ নয়, বরং ভালই তা বোঝাতে চাইলেন, বুঝতে মন সায় দেয় না গ্যালিলিওর।

গ্যালিলিও আরও একটি বই লিখলেন, ‘জলের ভেতর শরীর’। লিখলেন ইটালিয়ান ভাষায়, ইচ্ছে, প্রচুর পাঠক পাওয়া। গ্যালিলিও লিখছেন ঠিকই বই, একটির পর একটি, অ্যারিস্টটলকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছেন, টলেমিকেও, কিন্তু কোনও এক পোলিশ ধর্মগুরু কোপারনিকাসের গুণ গাচ্ছেন। কে এই কোপারনিকাস! নিকোলাস কোপারনিকাস ইটালিতে কিছুকাল ডাক্তারিবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা আর অঙ্কবিদ্যা শিখে তিরিশ বছর বয়সে ফিরে গিয়েছিলেন নিজের দেশ পোল্যান্ডে, ফেরার পর তাঁর এক কাকা, বিশপ, কোপারনিকাসকে ফ্রমবর্ক ক্যাথিড্রালের কর্তা বানিয়ে দিলেন। কোপারনিকাস ওই ফ্রমবর্কে বসে খোলা চোখে আকাশ দেখে, কিছু পড়ে, আর কিছু ভেবে ‘দে রেভুলুশনিবুস’ নামে লাতিন ভাষায় একটি বই লিখে ফেললেন, বইটি ছাপালেন ১৫৪৩ সনে লেখার কয়েক দশক পর, যখন তাঁর সত্তর বছর বয়স, শয্যাশায়ী (বুঝি না এত সময় নেন কেন এঁরা যখন জগত্কাঁপিয়ে দেওয়া কিছু লেখেন, দ্য অরিজিন অব স্পিসিস বাই মিনস অব ন্যাচারাল সিলেকশন বইটি লেখার কুড়ি বছর পর, ছাপাতে দিয়েছিলেন ডারউইন।) দে রেভুলুশনিবুস যেহেতু লাতিনে লেখা গুটিকয় শিক্ষিত লোক জানতেন সে ভাষা, খুব একটা যে হইহই পড়ে গেল বইটি বেরোনোর পর তা নয়। এ বই আবার পোপকে উত্সর্গ করা, পোপ তৃতীয় পল, ধর্মচ্যুতির জন্য যিনি বিচারব্যবস্থা চালু করেছিলেন (যে বিচারব্যবস্থায় গ্যালিলিওকে পরে ফাঁসতে হয়, আর ঠিক এই বইটির পক্ষ নেবার জন্য।) বইয়ের বিষয় টলেমির ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। আলেকজান্দ্রিয়ার বিজ্ঞানী টলেমি বলেছিলেন পৃথিবী মাঝে আর চাঁদ, সূর্য, গ্রহ পৃথিবীকে ঘিরে আছে, কোপারনিকাসের মত হল পৃথিবী কেন্দ্র নয়, কেন্দ্র হল সূর্য। বইটি বেরোনোর পর, গ্যালিলিও টলেমির পৃথিবীকেন্দ্রিক ব্রহ্মাণ্ড উড়িয়ে দিয়ে কোপারনিকাসের মতটিকে মেনে নিলেন। সূর্যের ভেতর কিছু দাগ দেখতে পেয়ে গ্যালিলিও ভাবতে বসলেন, মূল অঙ্ক কষতে বসলেন, কী হতে পারে দাগের কারণ। জার্মান জ্যোতির্বিদ ওয়েলসারের সঙ্গে গ্যালিলিওর চিঠিতে আলোচনা হয় দাগের কারণ নিয়ে। গ্যালিলিও বললেন, হতে পারে গ্রহনক্ষত্রের ছায়া, যে গ্রহগুলো সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, হতে পারে সূর্য নিজের অক্ষপথেই ঘুরছে, বছরে একবার করে, বছর বছর দাগগুলো তাই পাল্টাচ্ছে, আকার বদলাচ্ছে, উবেও যাচ্ছে কিছু দাগ। গ্যালিলিও বছর ধরে সূর্যের দিকে টেলিস্কোপ পেতে বসে রইলেন। আর লিখতে লাগলেন চিঠি ওয়েসলারকে। এই চিঠিগুলোই পরে বই হয়ে বের হয়। এ বই বেরোলে দ্বিগুণ খেপে গেল লোক। গ্যালিলিওকেই, যেহেতু কোপারনিকাস আর বেঁচে বেই, সূর্যকেন্দ্রিক ব্রহ্মাণ্ডের সব দায়ভার একাই বহন করতে হল। ১৬১২ সনে ফ্লোরেন্স গির্জার পাদরি ঘোষণা করে দিলেন, কোপারনিকাসের বক্তব্য পবিত্র গ্রন্থ বাইবেলের বিপক্ষে যায়।

গ্যালিলিওর বিরুদ্ধে তখনকার জ্যোতির্বিদ আর দার্শনিকরা এমনই মুখর হয়েছিলেন যে, তাঁর প্রিয় ছাত্র বেনেদেত্তো কাসতেলি তাঁর পক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, আত্মপক্ষ সমর্থন করে লেখা গ্যালিলিওর চিঠিও তিনি ছেপে বিলি করেছিলেন, কিন্তু পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্কবিদ হিসেবে যোগ দিতে গিয়ে কাসতেলি পড়লেন বিপাকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক বলে দিলেন, পৃথিবী ঘুরছে এমন অদ্ভুত বিষয় যেন কিছুতে ছাত্রদের না শেখানো হয়। কেবল তাই নয়, খুব শীঘ্রই কাসতেলিকে দাঁড়াতে হয় হাজারো প্রশ্নের সামনে, মেদিচি পরিবারে। গ্রহনক্ষত্র বিষয়ে, সব চেয়ে বেশি আগ্রহ রাজপুত্র কসিমোর মা গ্র্যান্ড ডাচেস ক্রিশ্চিনার। কাসতেলি যতই সূর্যকেন্দ্রিক ব্রহ্মাণ্ডের কথা বললেন, ততই বিরক্ত হন ক্রিশ্চিনা। বাইবেল খুলে জসোয়ার বই থেকে পড়ে শোনান, পৃথিবীকে রাখা হয়েছে স্থির, চিরকালের জন্য স্থির, কোনও অবস্থাতেই যেন এটি না নড়ে। তবে? বেকায়দায় পড়ে কাসতেলি গ্যালিলিওকে চিঠি লিখলেন। সে চিঠি পেয়ে কাসতেলিকে দীর্ঘ চিঠি লিখলেন গ্যালিলিও, ক্রিশ্চিনাকেও। গ্যালিলিওর ভাষ্য বাইবেলের সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনও বিরোধ নেই। প্রকৃতির সত্যকে জানা মানে বাইবেলের ভেতরে যে সত্য, তা আবিষ্কার করা। গ্যালিলিও দোষ দিলেন বাইবেলের যাঁরা আক্ষরিক অনুবাদ করে ভুল ব্যাখ্যা করেন তাঁদের। পবিত্র গ্রন্থ এবং প্রকৃতি দুটোই ঈশ্বরের সৃষ্টি, সুতরাং দুটোতে কোনও বিরোধ থাকতে পারে না। জসোয়ার বই থেকে আরও এক উদাহরণ টেনে বললেন গ্যালিলিও, এও তো লেখা আছে, জসোয়া প্রার্থনা শেষে বললেন, হে সূর্য তুমি স্থির থাকো, হে চাঁদ তুমিও স্থির থাকো, যতক্ষণ না জাতি তার শত্রুদের নিশ্চিহ্ন না করে। আকাশের মাঝখানে সূর্য স্থির হয়ে রইল, এমন দিন আর কখনও আসেনি আগে।

জসোয়া ঠিকই বলেছেন, গ্যালিলিও বললেন, আকাশের মাঝখানে সূর্য স্থির হয়ে আছে, ঠিক কোপারনিকাস যা বলেছিলেন, আর স্থির সূর্যকে ঘিরে ঘুরছে পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহ। গ্যালিলিওর যুক্তি কে শোনে! গ্যালিলিও আবার বললেন, ঈশ্বর আমাদের বুদ্ধি দিয়েছেন আর সে বুদ্ধি কাজে না লাগিয়ে কি বসে থাকবো পবিত্র গ্রন্থ ধরে, যেখানে কোনও গ্রহনক্ষত্রের যৎসামান্যও উল্লেখ নেই। বাইবেলের কাজও তো নয় লোককে জ্যোতির্বিদ্যায় পণ্ডিত বানানো। গির্জার লোকেরা যতই তার বক্তব্য ভুল বলে উড়িয়ে দেয়, ততই গ্যালিলিও যুক্তি খোঁজেন। ক্রিশ্চিনাকে লেখা চিঠিতে তিনি জানালেন, ‘কোপারনিকাসের বই নিষিদ্ধ করা মানে বাইবেলের একশ পাতা নিষিদ্ধ করা, যেখানে ঈশ্বরের মহানুভবতার কথা তাঁর অসীম ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। আর ক্যাথলিকের স্বার্থের জন্যই ভাবো না কেন, মহাজাগতিক সত্য অন্যরা, ওই প্রোটেস্টোন্ট ব্যাটারা এক সময় ঠিকই আবিষ্কার করবে, কিন্তু ওদের আগেই যে ক্যাথলিকেরা আবিষ্কার করে গেছে, তা লুকিয়ে না রেখে বরং প্রকাশ করো, ক্যাথলিকদের বাহবা কুড়োতে দাও।’ গ্যালিলিওর মিঠে কথায় চিঁড়ে ভেজেনি। গ্যালিলিও ধর্মবিরোধী, এ-রকম রব উঠল। তিনি প্রমাণ খুঁজছেন তখন, সূর্যকেন্দ্রিক ব্রহ্মাণ্ডের প্রমাণ! টেলিস্কোপটি একা যথেষ্ট নয় প্রমাণ জোগাতে। আকাশ বাদ দিয়ে প্রমাণ খুঁজতে গ্যালিলিও পৃথিবীর দিকে তাকালেন। সমুদ্রের জলের কথা পাড়লেন, জোয়ারভাটার উদাহরণ দেখিয়ে বললেন, পৃথিবী যদি স্থির হতো, জলও স্থির থাকত। গ্যালিলিওর এ-ধারণা ভুল ছিল অবশ্যই, তিনি তখনও জানতেন না জোয়ারভাটার কারণ, কারণ তখনও তিনি চাঁদের সঙ্গে জলের আকর্ষণ মেলাননি। জানেন না পৃথিবী স্থির হলেও চাঁদের কারণে জলে ঢেউ উঠতই, জোয়ারভাটা হতোই।

পরে জার্মান বিজ্ঞানী কেপলার চাঁদের আকর্ষণের ব্যাপারটি খোলসা করেন। গ্যালিলিওকে রক্ষা করা তাঁর সমর্থকদের পক্ষেও অনেকটা অসম্ভব ছিল। পোপ নিজে ব্যাপারটিতে জড়ালেন। গ্যালিলিওর কোনও যুক্তিই ধোপে টেকে না যেখানে বাইবেলে স্পষ্ট লেখা আছে, সূর্য উদয় হয়, সূর্য অস্ত যায়, আর সূর্য সেখানেই ফিরে আসে যেখানে উদয় হয়েছিল। পোপের অনুমতি নিয়ে কার্ডিনাল জানিয়ে দিলেন, ঈশ্বরের সাজানো মহাজগেক শোধরাবার দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। পৃথিবীকে তিনি যেমন স্থির রেখেছেন তেমনই স্থির থাকবে, আর সূর্য-চন্দ্র-গ্রহ-নক্ষত্রকে পৃথিবীর চারদিকে যেমন ঘোরাচ্ছেন, তেমনই ঘুরবে এরা। ১৬৬১ সনে, গ্যালিলিওর তখনও পোপের কাছে জবাবদিহি শেষ হয়নি, নিজের মতবাদের পক্ষে কোনও প্রমাণাদি আর গ্রহণ করা হবে না জানিয়ে দেওয়া হল, আর কোপারনিকাসের মতকে মিথ্যে এবং বাইবেলবিরোধী বলে ঘোষণা করা হয়ে গেল, বলা হল কোপারনিকাসের বইটি ততক্ষণ নিষিদ্ধ থাকবে, যতক্ষণ না এটি সংশোধিত হয়। রোম থেকে ফ্লোরেন্স ফিরে গিয়ে, গ্যালিলিও অসুস্থ শরীর নিয়েই, ম্যালেরিয়া নাকি রিউমেটিক, কী বাঁধিয়েছেন কে জানে, বই লিখতে শুরু করলেন, জোয়ারভাটার ওপর লিখলেন একটি। তারপর তো সেই বিখ্যাত বই, ১৬৩২ সনে বেরোল, ডায়ালগ অন দা টু চিফ ওয়ার্ল্ড সিস্টেম, টলেমিক অ্যান্ড কোপারনিকান। জার্মানি থেকে প্লেগ রোগ তখন ঢুকেছে উত্তর ইটালিতে, ফ্লোরেন্স শ্মশানমতো হয়ে যাচ্ছে, আর এদিকে গ্যালিলিও রোমে দৌড়াচ্ছেন, বই বের হচ্ছে। বেরোনোর পরই ডায়ালগ নিষিদ্ধ হল আর গ্যালিলিওকে দাঁড়াতে হল ধর্মযাজকের বিচারসভায়। সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন মারিয়া সেলেস্ত, বাবার জন্য প্রার্থনা করছেন, চিঠি লিখে যাচ্ছেন, চিঠি পাঠাচ্ছেন গোপনে, চিঠি পাচ্ছেন, নিষিদ্ধ সব চিঠি। বিচারে গ্যালিলিওকে নজরবন্দি করা হল। প্রিয় কন্যাকে একটিবার দেখার উপায় ছিল না তাঁর। কন্যা মারা গেলেন হঠাত্ অসুখে, গ্যালিলিওকে, একা মানুষটিকে, আরও একা করে দিয়ে। কন্যার মৃত্যুর পর প্যারিসে এক বন্ধুর কাছে গ্যালিলিও লিখেছিলেন ‘আমার অনুপস্থিতিই মারিয়াকে অসুস্থ করেছে, নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়নি মোটেই। ওর অভাব আমি সইতে পারছি না। ও ছিল অসাধারণ, এ উওমেন অফ এক্সকুইজিট মাইন্ড, সিংগুলার গুডনেস অ্যান্ড মোস্ট টেনডারলি অ্যাটাচড টু মি।’

একাকিত্বে, অভাবে, অসুখে ভুগতে ভুগতে গ্যালিলিওরও যাবার সময় হল, গালিলিও গেলেন, আইনস্টাইনের মতে, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জন্মদাতা, গেলেন। মারিয়া সেলেস্ত বিশ্বাস করতেন, বাবার সঙ্গে তাঁর মিলন হবে নক্ষত্রের ওপারে। গ্যালিলিওর কি সে বিশ্বাস ছিল! ঈশ্বরে, তিনি কখনও বলেননি যে, তাঁর বিশ্বাস নেই। বিশ্বাস থাকলেও, জেনে বা না জেনে ঈশ্বরকে হত্যা করেছেন গ্যালিলিও, আর দুশো বছর পর চার্লস ডারউইন ঈশ্বরের কফিনে পেরেক লাগিয়ে দিয়েছেন।

 

লেখক : নির্বাসিত লেখিকা

 

বিডি-প্রতিদিন/ ১৪ জানুয়ারি, ২০১৬/ রশিদা

এই বিভাগের আরও খবর
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
নির্বাচন হবে কী হবে না
নির্বাচন হবে কী হবে না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
সর্বশেষ খবর
শহীদ মিনারে চলছে প্রাথমিকের শিক্ষকদের মহাসমাবেশ
শহীদ মিনারে চলছে প্রাথমিকের শিক্ষকদের মহাসমাবেশ

১ সেকেন্ড আগে | জাতীয়

সাগরে ভেসে যাওয়া দুই শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার
সাগরে ভেসে যাওয়া দুই শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

৭ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

নুরের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের

১৪ মিনিট আগে | রাজনীতি

জনজীবনে অশ্লীলতার থাবা
জনজীবনে অশ্লীলতার থাবা

২২ মিনিট আগে | জাতীয়

নুরুল হক নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে, মেডিকেল বোর্ড গঠন
নুরুল হক নুরের নাকের হাড় ভেঙে গেছে, মেডিকেল বোর্ড গঠন

২৮ মিনিট আগে | জাতীয়

সকাল থেকেই কাকরাইলে জাপার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের অবস্থান
সকাল থেকেই কাকরাইলে জাপার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের অবস্থান

৪৪ মিনিট আগে | জাতীয়

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষ, আহত ২৫
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষ, আহত ২৫

৫৩ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

ট্রাম্পের বেশির ভাগ শুল্ক অবৈধ: মার্কিন আদালত
ট্রাম্পের বেশির ভাগ শুল্ক অবৈধ: মার্কিন আদালত

৫৪ মিনিট আগে | পূর্ব-পশ্চিম

খাগড়াছড়িতে সন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে মা আটক
খাগড়াছড়িতে সন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে মা আটক

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ঢাকার বাতাসে মাঝারি দূষণ, শীর্ষে কামপালা
ঢাকার বাতাসে মাঝারি দূষণ, শীর্ষে কামপালা

১ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক
ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক

১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট
মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট

১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত কঙ্গনার
রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত কঙ্গনার

১ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

খাদ্য সামগ্রীসহ ৭ পাচারকারী গ্রেফতার
খাদ্য সামগ্রীসহ ৭ পাচারকারী গ্রেফতার

২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো
আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো

২ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু
শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু

২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই
কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই

২ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২
পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২

৩ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি
টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি

৩ ঘণ্টা আগে | অর্থনীতি

নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

৩ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা
জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা

৩ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা
ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা

৩ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি
বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স
খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স

৪ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের
আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের

৪ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি
মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি

৪ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন

গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের
গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের

৪ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

সর্বাধিক পঠিত
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান

১৪ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

১৪ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’
‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’

১৮ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব
নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব

১০ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা
নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা

১৬ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ
মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ

১৮ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক
আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক

১৬ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি
ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি

২১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য
দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য

১০ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও
শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও

২৩ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে
ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে

২১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি
ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি

১৭ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ
শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ

১০ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন
হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন

১৭ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

১৮ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

অবসরে যাচ্ছেন মেসি?
অবসরে যাচ্ছেন মেসি?

২০ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি
নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি

১১ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ
ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ

১৯ ঘণ্টা আগে | পাঁচফোড়ন

‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো
‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো

১৯ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি
বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত

২২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক
ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক

২০ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা

১৬ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

১৫ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

বিএনপি ছাড়া কিছু রাজনৈতিক দল চাইছে নির্বাচন পেছাতে : রুমিন ফারহানা
বিএনপি ছাড়া কিছু রাজনৈতিক দল চাইছে নির্বাচন পেছাতে : রুমিন ফারহানা

১৪ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প
কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প

৪ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে : মির্জা ফখরুল
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে : মির্জা ফখরুল

২২ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

ইসরায়েলি হামলার পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি হুথির
ইসরায়েলি হামলার পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি হুথির

১৭ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরতে চাই না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরতে চাই না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

২১ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

প্রিন্ট সর্বাধিক
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

প্রথম পৃষ্ঠা

কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল
কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল

প্রথম পৃষ্ঠা

শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ
শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ

পেছনের পৃষ্ঠা

দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা
দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা

পেছনের পৃষ্ঠা

আজকের ভাগ্যচক্র
আজকের ভাগ্যচক্র

আজকের রাশি

রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে
রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে

পেছনের পৃষ্ঠা

বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই
বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই

প্রথম পৃষ্ঠা

মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন
মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন

শনিবারের সকাল

বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত
বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত

নগর জীবন

সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে
সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে

নগর জীবন

পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ
পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ

নগর জীবন

বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির
বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির

নগর জীবন

চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি
চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি

শোবিজ

মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

প্রথম পৃষ্ঠা

অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের
অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের

প্রথম পৃষ্ঠা

ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ
ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য
শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য

পেছনের পৃষ্ঠা

জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!
জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!

পেছনের পৃষ্ঠা

নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স
নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স

মাঠে ময়দানে

থামছেই না নারী পাচার
থামছেই না নারী পাচার

পেছনের পৃষ্ঠা

হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭
হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

পেছনের পৃষ্ঠা

১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য
১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য

প্রথম পৃষ্ঠা

বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রথম পৃষ্ঠা

ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক
ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক

পেছনের পৃষ্ঠা

আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন
আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন

পেছনের পৃষ্ঠা

ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস
ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস

পেছনের পৃষ্ঠা

কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ
কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি
প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি

প্রথম পৃষ্ঠা

খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না
খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না

প্রথম পৃষ্ঠা

লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে
লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

প্রথম পৃষ্ঠা