Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ জুলাই, ২০১৯ ২২:৫৮
আপডেট : ১৮ জুলাই, ২০১৯ ২৩:০০

যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় মুজিববর্ষ যথাযথভাবে উদযাপনের তাগিদ

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে :

যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভায় মুজিববর্ষ যথাযথভাবে উদযাপনের তাগিদ

‘গত ১০ বছরে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য প্রদর্শন করেছে, আগে যা কল্পনাও করা যেত না। উন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে ধনী আর গরিবের ব্যবধান বিস্তর হলেও নিকট প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় তা অনেক কম। এটি সম্ভব হয়েছে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দূরদর্শীতাপূর্ণ নেতৃত্ব গুণে’।

একথা বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। 

১৭ জুলাই বুধবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির সন্নিকটে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে একটি হোটেলে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোমেন আরো বলেছেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন-অগ্রগতির বিস্ময়। সারাবিশ্ব অবাক বিস্ময়ে তা অবলোকন করছে। উল্লেখ্য, ড. এ কে মোমেন হচ্ছেন এই ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। 

ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ড. খন্দকার মনসুরের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া। সঞ্চালনা করেন আলাউদ্দিন আহমেদ। 

ড. মোমেন বলেন, সামনের বছর হচ্ছে মুজিববর্ষ। তার পরের বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে প্রবাসেও বড় ধরনের কনসার্ট, র‌্যালি, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করতে হবে। প্রবাস প্রজন্মসহ আমেরিকানদের সামনে বাংলাদেশ তথা বঙ্গবন্ধুকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে। 

ড. মোমেন উল্লেখ করেন, এসব অনুষ্ঠানের জন্যে মিশন এবং দূতাবাসগুলোও সহযোগিতা দেবে। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন-ইতিহাস গ্রন্থ রচনা ও তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে ফাউন্ডেশনকে কাজের নির্দেশ দেন ড. মোমেন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিশন ও দূতাবাসগুলোর কাজের গতি বৃদ্ধির নানা প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে। টুয়েন্টিফোর আওয়ার হটলাইন চালু হয়েছে। আরো কিছু উন্নতি ঘটবে তথ্য-প্রযুক্তির সমন্বয়ের কাজ শেষ হলেই। বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহীরা যাতে হতাশ না হন অর্থাৎ বর্তমানের দীর্ঘ সূত্রিতার অবসানে যুযোপযোগী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সচিবদের কাছে অঙ্গিকার নামা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তথা প্রত্যেকের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ড. মোমেন বলেন, মানুষের মনমানসিকতায় পরিবর্তন ঘটানোর অভিপ্রায়ে গুণগত শিক্ষার উন্নয়ন ঘটাতে চায় বর্তমান সরকার। 

বাংলাদেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর শীর্ষ পদে বিদেশীর সংখ্যা যাতে কমে যায়, সে লক্ষ্যে দক্ষ শ্রমিক-ব্যবস্থাপক বৃদ্ধির কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ লাখ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনায় এগুচ্ছে সরকার। প্রশাসনিক দুর্নীতি কমাতে সবকিছু ডিজিটাইজ করা হচ্ছে। ডিজিটাইজের সুফল ইতিমধ্যেই অনেক সেক্টরে আসতে শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে তা বিস্তৃত হবে প্রতিটি দফতরে। 

এ সভায় ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোমেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিভিন্ন স্তরের প্রবাসীরা। 

জর্জিয়া থেকে এসেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা-সংগঠক ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি আলী হোসেন, নিউইয়র্কের সংগঠক জাফরউল্লাহ, এ টি এম রানা, লিটন আহমেদ, ইয়াসমীন চৌধুরী রিফাত প্রমুখ। 

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এসেছিলেন দারা বিল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারর্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, নিউইয়র্কে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা-সমাজকর্মী ফজলুল হকও ছিলেন এ অনুষ্ঠানে। 

মেট্র ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা-লেখক হারুন চৌধুরী ছাড়াও ড. মোমেনকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য