সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

মোবাইলে অন্যরকম উপকারিতা

রাফিউজ্জামান সিফাত

মোবাইলে অন্যরকম উপকারিতা

ছুটির দিন সকালে ঘুম থেকে জেগে মোতালেব সাহেব বারান্দায় বসেছিলেন। পাশেই অঙ্ক বই নিয়ে বসেছিল ছেলে পল্টু। পল্টুর স্কুল থেকে এগারো থেকে বিশ ঘরের নামতা মুখস্থ করতে দিয়েছে, কিন্তু গত কয়েক দিন প্রাণপণ চেষ্টায়ও পল্টু একটা নামতাও মুখস্থ করতে পারেনি। মোতালেব সাহেব ছেলেকে নামতা বুঝিয়ে দেয়ার পাশাপাশি পত্রিকার পাতা খুলে বারান্দায় বসে দেশ-বিদেশের খবর আস¦াদন করছিলেন।

এ সময় সাধারণত তার চায়ের পিপাসা পায় এবং শেফালী বেগম হালকা লিকারে এক কাপ দুধ চা বারান্দায় রেখে যায়। আজ রেখে যায়নি। রান্নাঘরে উঁকি দিয়ে দেখলেন শেফালী বেগম মিটশেফে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে মোবাইলে হাত নেড়ে কথা বলছে। মোতালেব সাহেব বললেন, ‘সারাটা দিন মোবাইলে হাজারো কথা বলতে পারবে, এখন এক কাপ চা দিলে ক্ষতি কি!’ কথায় রাগ ছিল না, কিঞ্চিৎ বিরক্তি ছিল। তাতেই শেফালী বেগম তেলে-পানিতে জ্বলে উঠল। দুম করে হাতের মোবাইল বন্ধ করে, নিচে একটা টুলের পাশে রেখে কড়া চোখে স্বামীর দিকে চেয়ে বলল, ‘আমি মোবাইল ধরলেই গা জ্বলে তাই না? ঠিক আছে মোবাইল আমি রাখলাম কিন্তু আজ সারাদিন যদি আর কেউ মোবাইল স্পর্শ করে আমি সেই মোবাইল বাইরে ছুড়ে ফেলব।’ মোতালেব সাহেব হুমকিটা পাত্তা দেননি। তিনি বারান্দায় ফেরত এলেন, অল্প সময় পর হালকা লিকারে দুধ চা পৌঁছে গেল। তিনি ছেলেকে নামতা

পড়ানোর পাশাপাশি পত্রিকার পাতায় বিশ্ব উদ্ধারে মগ্ন হলেন। কিছুক্ষণ পর পল্টু বই থেকে মুখ তুলে বাবার কাছে মোবাইলে গেম খেলার বায়না ধরলে মোতালেব সাহেব পকেট থেকে নিজের সদ্য কেনা মোবাইল হ্যান্ডসেট বের করে পল্টুর হাতে দেওয়ার আগে ভাবলেন মাত্র এক মিনিটের জন্য ফেসবুকে ঢুকে নোটিফিকেশনটা দেখে নেবেন। এক মিনিটের জন্য ফেসবুকে ঢুকে তিনি তিন ঘণ্টা কাটিয়ে দিলেন। ওইদিকে বাবার কাছে মোবাইল না পেয়ে পল্টু রান্নাঘরে চলে গেল এবং পানির কল খুলে রেখে পা টিপে সেখান থেকে সরে পড়ল। শেফালী বেগম তখন ছাদে কাপড় শুকাতে গিয়েছিল। ফিরে এসে দেখল, রান্নাঘর থেকে পানি ঢুকে সারা বাসা পানিতে ভেসে গেছে। পল্টু সেই পানিতে খেলনা মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। মাকে দেখে পল্টু নিজের দোষ কাটাতে কেঁদে কেঁদে বলল, ‘বাবা আমাকে নামতা না শিখিয়ে মোবাইল টিপছে।’ এদিকে বারান্দায় অবস্থানরত মোতালেব সাহেবের ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি নিমগ্ন চিত্তে নিজের মোবাইলের দিকে চেয়ে আছেন। শেফালী বেগমের সব রাগ গিয়ে পড়ল সেই মোবাইলের ওপর। ‘মোবাইল আমার শত্রু’ বলে শেফালী বেগম তার স্বামীর হাত থেকে মোবাইল ফোনসেটটি কেড়ে পশ্চিম পাশের জানালা দিয়ে বাইরের নালায় ছুড়ে ফেলল। ঘটনার আকস্মিকতায় মোতালেব সাহেব ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। পল্টু এতক্ষণ তারস্বরে কাঁদছিল, এখন তার কান্না বন্ধ, চোখে কান্নার লেশ মাত্র নেই। স্বামী-স্ত্রী দুজনই দেখল, প্রথমবারের মতো পল্টু স্বেচ্ছায় টেবিল চেয়ারে বসে পড়াশোনা করছে।  যে নামতাগুলো এতদিন ধরে চেষ্টা করেও সে মুখস্থ করতে পারেনি, সেগুলোই সে অনর্গল মুখস্থ বলে যাচ্ছে!