নিঃসঙ্গ পথের যাত্রী
সোহরাব পাশা
লোকটি কবিতা লিখতেন
বিনিদ্র রাতের ঘোরে
ক্ষয়িষ্ণু সময়, প্রেম-যুদ্ধ
অবরুদ্ধ নিঃস্ব মানুষের;
কখনো নীরবে সম্পাদনা করতেন
ঘষে ঘষে তুলতেন পঙ্ক্তির মরণ ব্যাধি
দীর্ঘশ্বাসে উজ্জ্বল দুপুরগুলো
ছুঁয়ে যেতো হলুদ গোধূলি,
তিনি জানতেন নিঃসঙ্গতার জ্যামিতি
কবিদের খ্যাতি ছাড়া থাকে না কিছুই
জীবন কালো রঙের বিষণ্ন শালিক --
ঐশ্বর্য তাঁকে নিঃস্ব করেনি;
তাঁর প্রিয় ‘নারুচি গ্রাম’ ডাকবে না কোনোদিন
ভালোবাসার স্নিগ্ধ নিঃশ্বাসে
তাই কী ওই ‘রামকৃষ্ণ মিশন রোডে’
ডুবে গেলো অজস্র সন্ধ্যা দুপুর রাতে!
দাঁড়িয়ে থাকে না কেউ
সঙ্গী হয় নির্জন প্রান্তর
ধু-ধু দীর্ঘ পথ,
বিখ্যাত মৃত্যুর আলাদা সৌন্দর্য থাকে-
কবি প্রাণ নিঃশব্দে নিদ্রিত থাকে অন্য এক ভোরে
তাঁর কোনো মৃত্যুদিন নেই-- শুধু জন্মদিন আছে।
মৃত্যুস্বাক্ষর
আসাদ কাজল
মৃত্যু দিয়ে জয় করে নাও এ সভ্যতা
মৃত্তিকার ছায়া তোমার পছন্দ জানি
দু’চোখের স্রোতধারা, নদীর নাব্যতা
দু’চোখের জল তোমার অমর বাণী।
তুমি বলো, মৃত্যুর জীবন; ভালো লাগে?
অথচ মৃত্যুই ছিলো তোমার পছন্দ
সন্ধ্যা ছুঁয়ে অশ্রুগোলাপ সবার আগে
স্বপ্নে ছুঁয়ে দাও তুমি-কবিতার ছন্দ।
সৃষ্টিশীল ইচ্ছের সকাল সত্তাজুড়ে
হৃদয়ের কাছাকাছি জন্মমৃত্যু খেলা
তুমিই রহস্য; কবিতায় অবহেলা
অন্ধকার ভুলে যাও! আলো-মাত্রাসুরে।
মৃত্যু উপহার দিয়ে কোথায় গিয়েছো?
মায়া মমতা বন্ধন কি সঙ্গে নিয়েছো?