শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:১২

ড. মোবারক আহমেদ খানের আবিষ্কার পাট থেকে পরিবেশবান্ধব ঢেউটিন

শনিবারের সকাল ডেস্ক

ড. মোবারক আহমেদ খানের আবিষ্কার পাট থেকে পরিবেশবান্ধব ঢেউটিন
ছবি : নেওয়াজ রাহুল

ড. মোবারক আহমেদ খান পাট থেকে এর আগে পরিবেশবান্ধব সোনালি ব্যাগ তৈরি করে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।। তাঁর তৈরি সোনালি ব্যাগ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে। এক দশক ধরে পরিশ্রমের চেষ্টায় বিজ্ঞানী মোবারক আহমেদ খান বাংলাদেশের আরও কয়েকজন গবেষকের সহায়তায় বেশকিছু এনএফসি বা ন্যাচারাল ফাইবার কমপোজিট প্রস্তুত করতে সক্ষম হন। পাটবিষয়ক গবেষণায় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি মোবারক আহমেদকে ২০১৫ সালে স্বর্ণপদক প্রদান করে। এ ছাড়া তিনি ২০১৬ সালে জাতীয় পাট পুরস্কার ও ২০১৭ সালে ফেডারেশন অব এশিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটি পুরস্কারে ভূষিত হন।

 

 

পাট দিয়ে পরিবেশবান্ধব টিন তৈরি করে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছেন এক বাংলাদেশি বিজ্ঞানী। তিনি দেশসেরা গবেষকদের একজন ড. মোবারক আহমেদ খান। পাটের বাণ্যিজ্যিক ব্যবহার ও সম্ভাবনা সৃষ্টির লক্ষ্যে  ১৯৯০-এর দশক থেকে তিনি নিরলস গবেষণা করে চলেছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ডাটাবেজ স্কোপাসের তথ্যানুসারে, বৈশ্বিকভাবে পাটবিষয়ক গবেষণায় তাঁকে একজন প্রধান বিজ্ঞানী বলে মনে করা হয়। তাঁর বিভিন্ন আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ পাটের সোনালি ব্যাগ, জুটিন বা ঢেউটিন, হেলমেট ও টাইলস।

পাট থেকে তৈরি জুটিন পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বলেই এত আলোচনা সর্বত্র। ড. মোবারক আহমেদের মতে, জুটিন ১০০ বছর অনায়াসে রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ের মোকাবিলা করে টিকে থাকতে পারে। টিনের প্রধান উপকরণ লেড ও জিঙ্কের জোগান পুরোটাই আমদানিনির্ভর। অর্থসাশ্রয়ের কথা চিন্তা করেই এ আবিষ্কারের প্রতি ঝুঁকে ছিলেন বিজ্ঞানী মোবারক আহমেদ। কারণ জুটিনের ব্যবহার বাড়লে প্রতি বছর সাশ্রয় হবে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। বর্তমানে যেসব টিন আমরা দেখতে পাই এগুলো কিছুদিন পরই মরিচা ধরে যায়, ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং এতে পরিবেশ নানাবিধ হুমকির সম্মুখীন হয়। কিন্তু জুটিনের ব্যবহার বাড়লে এ সমস্যা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। পাটের জট ও বিভিন্ন রাসায়নিকের মিশ্রণই মাত্র ২০ মিনিটে তৈরি করতে সক্ষম হবে এই জুটিন। যদি বাণিজ্যিকভাবে জুটিন উৎপাদন করা হয় তবে জুটিন তৈরির সময় আরও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে প্রয়োজন হবে না কোনো বিশেষ কারিগরি, গ্যাস, বিদ্যুৎ বা অন্য কোনো জ্বালানির। এ জুটিন অন্যান্য ঢেউটিনের  থেকে মজবুত।

মোবারক আহমেদ খান শিক্ষাজীবনে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর পলিমার ও তেজস্ক্রিয় রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত।

বিজ্ঞানী মোবারক আহমেদ খান প্রথম ২০০৯ সালে পাটের তৈরি ঢেউটিন উদ্ভাবন করেন। জুটিন তৈরিতে তিনি পাটের সঙ্গে ব্যবহার করেন পলিমারের মিশ্রণ। ২০১৬ সালে তিনি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ফরমালিনের বিকল্প হিসেবে অক্ষতিকারক চিতোজান তৈরি করে দেখান।

মোবারক আহমেদ খান পাট থেকে এর আগে পরিবেশবান্ধব সোনালি ব্যাগ তৈরি করে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।। তাঁর তৈরি সোনালি ব্যাগ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে। এক দশক ধরে পরিশ্রমের চেষ্টায় বিজ্ঞানী মোবারক আহমেদ খান বাংলাদেশের আরও কয়েকজন গবেষকের সহায়তায় বেশকিছু এনএফসি বা ন্যাচারাল ফাইবার কমপোজিট প্রস্তুত করতে সক্ষম হন। পরে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) মোবারক আহমেদ খানের তৈরি একটি পাটভিত্তিক এনএফসি ব্যবহার করে একটি ব্যাগের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। পাটজাত এ পলিথিন ব্যাগটি উৎপাদনে প্রথমে পাট থেকে সেলুলোজ সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে সেলুলোজ  থেকে সংগৃহীত সিটের মাধ্যমে পলিথিন ব্যাগ তৈরি করা হয়। পাটের তৈরি সোনালি ব্যাগ সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

পাটবিষয়ক গবেষণায় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি মোবারক আহমেদকে ২০১৫ সালে স্বর্ণপদক প্রদান করে। এ ছাড়া তিনি ২০১৬ সালে জাতীয় পাট পুরস্কার ও ২০১৭ সালে ফেডারেশন অব এশিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটি পুরস্কারে ভূষিত হন। বিশ্বের বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাঁর কাজের ওপর নথিপত্র প্রকাশ করে। ১৯৯৮ সালে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্যসূত্রের প্রকাশনা ‘হুজ হু’তে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়।


আপনার মন্তব্য

close